Home / এক্সক্লুসিভ সংবাদ / নায়িকা বাস্তবে হয়ে যাচ্ছেন খল নায়িকা

নায়িকা বাস্তবে হয়ে যাচ্ছেন খল নায়িকা

ক্রমেই নায়িকা থেকে বাস্তবের খল নায়িকা হয়ে যাচ্ছেন ঋতুপর্ণা। অভিষেকের ক্যারিয়ার ধ্বংসের

পেছনে ঋতুপর্ণার হাত রয়েছে বলে মনে করছেন কলকাতার সিনেমাপ্রেমীরা। কেননা অভিষেকের

একটি সাক্ষাৎকার থেকেই বিষয়টি সামনে আসে। তারপর থেকে ঋতুপর্ণার পিছু ছাড়ছে না ট্রোল।

বোর্ডিং টাইমের থেকে সামান্য দেরিতে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তখনও বিমান না ছাড়লেও, বিমানে ওঠার অনুমতি পাননি অভিনেত্রী। সেই রাগে-কষ্টে কেঁদেও ফেলেন তিনি। বারবার অনুরোধেও কাজ না হওয়ায় ইন্ডিগোকে ট্যাগ করে লম্বা পোস্ট করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তখন কেউ কেউ ঋতুপর্ণার হয়ে, ইন্ডোগের বিরুদ্ধে মুখ খুললেও অনেকেই দাবি করেছিলেন বোর্ডিং টাইমের মধ্যে এয়ারপোর্টে না প্রবেশ করলে এরকম সব যাত্রীর সাথেই করা হয়ে থাকে। অভিনেত্রী তারকা হলেও, তাঁকে এই নিয়ম মানতে হবে। সাথে তিনি বোকা বোকা রাগ দেখাচ্ছেন বলেও দাবি করেন সমালোচকরা। সাথে ব্যক্তিগত আক্রমণও হয়।

এই টুইটই ঋতুপর্ণা শেয়ার করেন ইনস্টাগ্রামে। সাথে জানান, তাঁর এই লড়াই সকলের জন্য। যাতে আর কাউকে এরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। সাথে এটাও জানান, তিনি জানেন অনেকে তাঁকে নিয়ে ট্রোল করছে। কিন্তু সেসব তিনি ভাবছেন না। তিনি নিজের পোস্টে আরও জানান, ফ্লাইট ওড়ার ২৫ মিনিট আগে গেট বন্ধ করে দেওয়া মোটেও ঠিক নয়। ক্ষতিকারক যাত্রী ও সংস্থা দুইয়ের জন্যই।

যদিও অভিনেত্রীর এই দাবির সাথে সম্মতি প্রকাশ করেননি অনেকেই। বরং, অনেকেরই মতোই ঋতুপর্ণা শুধুমাত্র পাবলিসিটি-র জন্য বারবার এমন পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ আবার টেনে এনেছেন প্রসেনজিতের কথা। যেভাবে তিনি সুইগি নিয়ে টুইট করে মমতা আর মোদিকে ট্যাগ করেছিলেন সেটা নিয়েও সমালোচনা।

একজন লেখেন, ‘দাদা-বউদি দু’জনেই তো পুরো দমে। একজন সুইগি নিয়ে ট্যাগ করে মমতা-মোদিকে। আরেকজন নিজে ভুল করে ক্ষমতার জেরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। ’ একজন লিখেছেন, ‘আপনাকে যত দেখছি তত বড়লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া মেয়ের কথা মনে পড়ছে। যারা স্কুলে নিজের দোষে বকা খেত, তারপর বাবাকে ডেকে এনে হেডমাস্টারের সামনে শিক্ষককে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করত টাকার জেরে। ’

অভিষেকের মৃত্যুর পর কলকাতার একটি গণমাধ্যমকে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘সকালে উঠে খবরটা পেলাম। কিন্তু বিশ্বাস করতে পারিনি। তাই বারবার জিজ্ঞেস করছিলাম খবরটা সত্যি কিনা। মনে হয়েছিল, যে খবরটা সত্যি নয়। কারণ, এরকম একটা খবর সত্যি হওয়াও ঠিক নয়। ’

অভিষেকের সম্পর্কে বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে ঋতুপর্ণার। কষ্ট চেপে বললেন, ‘তিনি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা অভিনেতা। বাংলা সিনেমায় তার অনেক অবদান। আমি চাই, আমাদের দর্শক যেন তাকে খুব সম্মানের সঙ্গে মনে রাখেন। ’

অথচ অভিষেকই জীবদ্দশায় ক্যারিয়ার ধ্বংসের পেছনে ঋতুপর্ণা ও প্রসেঞ্জিতকে ইঙ্গিত করে গেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, ‘অপুর সংসার’ শিরোনামে একটি শোতে হাজির হয়ে অভিষেক বলেছিলেন, নোংরা রাজনীতির শিকার হতে হয়েছিল তাকে। নয় বছর হাতে কোনো কাজ ছিল না। বাধ্য হয়ে যাত্রা দলে যোগদান করেছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ এনেছিলেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায়।

গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন অভিষেক। ওই সময় পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, বহুল আলোচিত ‘গুরুদক্ষিণা’ সিনেমা নিয়ে এক জটিলতায় ১০ বছর তার সঙ্গে কাজ করেননি প্রসেনজিৎ।