Home / এক্সক্লুসিভ সংবাদ / কনডেম সেলে ‘ভালো নেই’ মিন্নি, ব্যথা নিয়েই কাটছে দিন

কনডেম সেলে ‘ভালো নেই’ মিন্নি, ব্যথা নিয়েই কাটছে দিন

কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে ভালো নেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কয়েক মাস ধরে ঘাড়ে ব্যথা, লো প্রেশার ও দাঁতে ব্যথা নিয়েই কাটছে তার দিন। এমনটিই জানিয়েছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

মেয়ের অসুস্থতার খবর জানিয়ে তিনি বলেন, মিন্নি ঠিকমতো খেতে পারে না। ঘুমাতে পারে না। সব সময় অসুস্থ থাকে। তাই খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। কারাগারের পানি পর্যন্ত খেতে পারে না। মিন্নির মুক্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি। মেয়েকে এক বছরেরও বেশি সময় দেখতে না পেরে কষ্ট নিয়ে মিন্নির মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর জানান, দীর্ঘদিন কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ মিন্নিকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের ওষুধে মিন্নি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি তার। প্রধান বিচারপতির কাছে উন্নত চিকিৎসার আবেদন করলেও এখনো উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ পাননি তারা।

মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি বলেন, মিন্নির জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে দিন পার করছি। করোনার জন্য এক বছরের মধ্যে মিন্নির সঙ্গে দেখাও করতে পারিনি।

এ বিষয়ে জানতে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার হালিমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই স্কুলজীবনের বন্ধু সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক চারজনকে পাঁচ বছর এবং একজনকে তিনি বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন মিন্নি।

রায়ের পর গত বছরের ২৯ অক্টোবর বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মিন্নিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে এ কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন তিনি।