Home / এক্সক্লুসিভ সংবাদ / ফুডপান্ডার ডেলিভারি বয় যেভাবে গড়ে তুললেন প্রতারক চক্র

ফুডপান্ডার ডেলিভারি বয় যেভাবে গড়ে তুললেন প্রতারক চক্র

ফুডপান্ডার কাস্টমার সেজে কৌশলে করত মুঠোফোন ছিনতাই। পরে মুঠোফোনের বিভিন্ন অংশ চোরাইভাবে কেনা আইফোনের যন্ত্রাংশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হতো। এতেই হয়ে যেত আইফোন! বিক্রি করত অনলাইন মার্কেট ও সরাসরি কোনো ক্রেতার কাছে।

এভাবেই প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। অবশেষে পুলিশের জালে ঐ চক্রের মূলহোতাসহ তিনজন পড়ল ধরা। বেরিয়ে এলো তাদের অভিনব প্রতারণার কৌশল। চক্রটির মূল হোতা প্রতারণার শিকার হওয়ার পর নিজেই গড়ে তোলেন ঐ চক্র।

সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের রানীরহাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চক্রের মূল হোতা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপেজলার নূর কবীর শাকিল। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের স্বাধীন ও সাদী আব্বাস। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, একটি চোরাই মুঠোফোন ও দুটি আইফোন উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বগুড়া সদরের জামিলনগর দক্ষিণপাড়া এলাকায় শাকিলের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ফুড পান্ডার ডেলিভারি বয়ের একটি ব্যাগ, চোরাই ও ছিনতাই করা ৩টি আইফোন, ৩৩টি আইফোনের সামনে ও পেছনের যন্ত্রসহ আইফোনের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের ৬০টি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।

তিনি জানান, প্রতারক চক্রটির মূল হোতা শাকিল এক সময় ফুডপান্ডার ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতেন। খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে নিজে প্রতারণার শিকার হন। এরপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে গড়ে তোলেন প্রতারক চক্র। জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অপরাধে। সহযোগীদের দিয়ে ফুডপান্ডায় করতেন খাবারের অর্ডার। ডেলিভারি ম্যান খাবার নিয়ে এলেই হতেন ছিনতাই বা প্রতারণার শিকার। হারাতেন মুঠোফোন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে সংগ্রহ করা মুঠোফোনগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে ফেলতেন শাকিল। ঢাকা থেকে আনা আইফোনের যন্ত্রাংশের সঙ্গে সেগুলো সংযুক্ত করতেন। পরে মুঠোফোন তৈরি হয়ে গেলে আইফোন নামে বিক্রি করতেন বিভিন্ন ক্রেতার কাছে। শাকিল ভুয়া আইফোন তৈরি ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ খুলে ফেলতে পারদর্শী হয়ে উঠেন। এছাড়া নিজের একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন।

এসপি সুদীপ জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে। ঐ চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে।