Home / এক্সক্লুসিভ সংবাদ / কত বেতন পেতেন ওসি প্রদীপ, এত সম্পদের উৎস কী

কত বেতন পেতেন ওসি প্রদীপ, এত সম্পদের উৎস কী

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা মোহা’ম্ম’দ রাশেদ খান হ’ত্যাকাণ্ডে টেকনাফ মডেল

থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমা’র দাশ ও বাহারছড়া পু’লিশ ত’দন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ লিয়াকত আলীকে

মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছে আ’দালত। এছাড়া এপিবিএনের তিন সদস্যসহ ৭ জনকে খালাস ও বাকি ৬ জনের যাব’জ্জীবন দেওয়া হয়েছে

যাব’জ্জীবন সাজাপ্রা’প্ত ৬ জন হলেন- নন্দদুলাল রক্ষিত, নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন, আইয়াছ উদ্দিন, রুবেল শর্মা ও সাগর দেব।

খালাস পেয়েছেন- শাহজাহান আলী, রাজীব হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ইমন, লিটন মিয়া, সাফানুর করিম, কামাল হোসেন আজাদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মোহা’ম্ম’দ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আ’দালত বলেছে- এ হ’ত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

আলোচিত এই হ’ত্যাকাণ্ডের জেরে অ’পরাপর ওসি প্রদীপের সব অ’পরাধই চলে আসে প্রকাশ্যে। বেরিয়ে আসে তার বিপুল বিত্তবৈভবের খবরও।

সিনহা হ’ত্যার ঘটনায় তখন টেকনাফে কি’লিং মেশিন খ্যাত ওসি প্রদীপের অবৈ’ধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈ’ধ সম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি করণের বিরু’দ্ধে মা’মলা করে দুদক।

দুদকের সমন্বিত জে’লা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন দায়ের করা মা’মলায় তাদের বিরু’দ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূ’ত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গো’পন ও মানিলন্ডারিংয়ের অ’ভিযোগ আনা হয়।

ওসি প্রদীপের অবৈ’ধ সম্পদের সম্পর্ক তখন চমক জাগানিয়া তথ্য দেয় দুদক। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির করা অবৈ’ধ সম্পদের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি করণের নামে চার কোটি ৪৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেয় সংস্থাটি। তবে এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে তার কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে মাত্র দুই হাজার ২৫০ টাকা বেসিক বেতনে পু’লিশের উপ-পরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগদান করেন প্রদীপ কুমা’র দাশ, যা সাকল্যে তার মাসিক বেতন ৪ হাজার ৪৮০ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সরকারি পে স্কেল বৃ’দ্ধি করলেও সেটা একজন উপ-পু’লিশ পরিদর্শকের বেতন সাকুল্যে ১০ হাজার ৩৬০ টাকার বেশি হয়নি। আর ২০০৯ সালের পে স্কেলে একজন পরিদর্শকের (ইন্সপেক্টর) বেতন স্কেল ছিল ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত।

পু’লিশের একজন পরিদর্শক নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০০৫ সালের বেতন স্কেলে পু’লিশের যেকোনো স্তরের কর্মকর্তাদের বেতন দিয়ে জীবন চালানো প্রায় দুরূহ ছিল। ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী একজন পু’লিশ ইন্সপেক্টরের বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা। ওসি প্রদীপও একই স্কেলে বেতেন পেতেন।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রটি জানায়, ২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া বেতন স্কেলে ওই ছয় বছরে ৬০ হাজার টাকা করে হিসাব করলেও তিনি এই সময়ে পুরো বেতনও যদি না খেয়ে রেখে দেন সেই অঙ্কটি দাঁড়াবে ৪৩ লাখ টাকা। তবে তা কোনোভাবেই সম্ভব না। এ ছাড়া তিনি সারা জীবন সরকারি যে বেতন পেয়েছেন সেটা খরচ না করে জমালেও সেটা এক কোটি টাকার বেশি হবে না।

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, দুদক ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর নামে যে সম্পদের খোঁজ পেয়েছে তার চেয়ে অন্তত আরো কয়েক গু’ণ বেশি সম্পদের মালিক ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী, যা দুদক অল্প সময়ের মধ্যে হিসাবে আনতে পারেনি।

দুদকের অনুসন্ধানে আরো একটি বিস্ময়কর তথ্য জানিয়েছে সংস্খাটির অনুস’দ্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তিনি জানান, দুদকে ওসি প্রদীপের যে সম্পদের তথ্য পেয়েছে তার সবই তার স্ত্রী চুমকি করণের নামে। নিজের নামে তার কোনো সম্পদ নেই। এছাড়া ওসি প্রদীপ ছয়তলা একটি বাড়ি শ্বশুরের নামে কেনার পর তা তার স্ত্রীর নামে শ্বশুরকে দিয়ে দানপত্র হিসেবে কবলা করে নেন। আদতে এই বাড়িটি প্রদীপের অবৈ’ধভাবে অর্জিত সম্পদ।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে রাতে পু’লিশের গু’লিতে নি’হত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা মোহা’ম্ম’দ রাশেদ খান। ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৫ আগস্ট কক্সবাজারের হাকিম আ’দালতে ৯ জনের বিরু’দ্ধে মা’মলা করেন।

এই হ’ত্যার ঘটনায় বাহারছড়া ত’দন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমা’র দাশকে ২ নম্বর আ’সামি করা হয়। মা’মলা হওয়ার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পু’লিশ সদস্য ৬ আগস্ট আ’দালতে আ’ত্মসমর’্পণ করেন।

সিনহা হ’ত্যা মা’মলায় প্রদীপকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রদীপ এবং কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনসহ আট’জনের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নির্দেশে।

প্রদীপকে গ্রে’ফতারের পরই আ’ত্মগো’পনে চলে যার তার স্ত্রী চুমকি করণ। অবৈ’ধ সম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মা’মলার পরপরই আড়ালে চলে যান তিনি। খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও তিনি কোথায় আছেন এমন তথ্য নেই।