Home / আজকের সংবাদ / এক কেজি আমের দাম ২.৭ লাখ টাকা, গাছ পাহারায় নিয়োজিত ৪ রক্ষী ও ৬ জার্মান শেপার্ড!

এক কেজি আমের দাম ২.৭ লাখ টাকা, গাছ পাহারায় নিয়োজিত ৪ রক্ষী ও ৬ জার্মান শেপার্ড!

আম নাতো যেন কোন খাজানা, মাত্র সাতটি আমকে পাহারা দেওয়ার জন্য চারজন পাহারাদার এবং ছটি জার্মান শেপার্ড। শুনে অবাক হলেন নিশ্চয়ই? তবে অবাক হওয়ার মত কিছুই নেই কারণ এই আম এতটাই বহুমূল্য যে এই পাহারা তার জন্য কিছুই নয়।

মধ্যপ্রদেশের এক বাগানে এমনই এক আমের ফলন হয়েছে যার মূল্য কোন গুপ্তধন এর থেকে কম নয়। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের এক বাগানে বহু মূল্যের সাতটি আমের ফলন হয়েছে, আর এই আম পাহারা দেওয়ার জন্যই বাগানের মালিক নিয়োগ করেছে চারজন রক্ষী এবং ছটি কুকুর।

প্রথমটায় শুনলে অবাক লাগলেও এই আমের দাম শুনলে আরো অনেকখানি চমক লাগতে পারে আপনার। কি এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই আমের? এই আমটি আর পাঁচটা আমের থেকে আলাদা, এই আমটি এই দেশের নয় বরং জাপানের। এটি বিশ্বের বিরলতম আম, যার নাম মিয়াজাকি।

এবার আসি আসল কথায় যা শুনে আপনার রীতিমতন চমক লাগতে পারে তা হল এই আমের দাম, এই আমের প্রতি কেজির মূল্য ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। জাপানে এই একেকটি আম বিক্রি হয় ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ হাজারেও বেশি টাকায়।

বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করতে হয় মিয়াজাকি আমকে, বিশেষ তাপমাত্রা নির্দিষ্ট পরিমান জল সার এবং সবকিছু দিকেই লক্ষ্য রাখতে হয় এই আম চাষের ক্ষেত্রে। এই আমের মিয়াজাকি নাম হওয়ার কারণ জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলে ১৯৭০ সালে এই আমের চাষ সর্বপ্রথম শুরু হয়।

আমের দাম যতটাই বেশি ততটাই আশঙ্কা থাকে আমচাষির ক্ষতির পরিমানের, তাই এই আম চাষ করতে গেলে বিশেষ সুরক্ষার দিকে খেয়াল রাখতে হয়। আম যাতে গাছ থেকে সহজে খসে না পড়ে তার জন্য আমের বোটার সাথে গাছের মূল গুড়িকে বেঁধে রাখতে হয় একটি লাইলনের তার দিয়ে।

প্রতিদিন একবার আম গুনে দেখা হয় এছাড়াও, যাতে পাখি কিংবা হনুমান আম নষ্ট না করতে পারে সেই দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে লাগে। প্রতিটি আমকে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে রাখা হয় যাতে আমে কোন প্রকার দাগ না লাগে।

এই আমের এত বেশি দাম হওয়ার কারণ তার দুর্দান্ত স্বাদ, অসাধারণ সুগন্ধ এবং সুমিষ্টি এই আমের স্বাদ। আফগানিস্তানের নুরজাহানের পরেই মিয়াজাকি আমের স্বাদ। তাছাড়া এই আমের চারা পাওয়া মোটেই সহজ বিষয় নয় আর সেই কারণেই এই আমের এত দাম। বিশ্বের খুব কম মানুষই রয়েছে যারা এই আমের স্বাদ উপভোগ করতে পারে।