[X]
Home / অন্যান্য / কাশ্মীরকে বাঁচাতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পাকিস্তান, বিপাকে ভারত

কাশ্মীরকে বাঁচাতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পাকিস্তান, বিপাকে ভারত

এবার থেকে সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শাসিত অঞ্চল হলো জম্মু-কা*শ্মীর এবং লাদাখ। আর বিশেষ মর্যাদা রইল না ভারতের প্রদেশটির। মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তে রীতিমত অসন্তুষ্ট পাকিস্তান। তীব্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।তিনি জানিয়েছেন, ভারত কাশ্মীর নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অত্যন্ত আপত্তিকর।কা*শ্মীরের বাসিন্দাদের মতামত না নিয়েই একতরফা সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতিসংঘের বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে এই সিদ্ধান্তে।



পাকিস্তান এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।কা*শ্মীর ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় পাকিস্তান। এবং কাশ্মীরিদের মতামত নিয়েই সেই সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। ইসলামাবাদ সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, পাকিস্তান কোনোভাবেই কা*শ্মীরের ৩৭০ ধারার বিলোপ মেনে নেবে না।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়সল রেডিও বার্তায় জানিয়েছেন, পাকিস্তান কখনও কা*শ্মীর থেকে ৩৭০ ধারার বিলোপ মেনে নেবে না।



কা*শ্মীরের মানুষও এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। দিল্লির এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে কার্তারপুর করিডরে। কারণ এই কার্তারপুর করিডর নিয়ে দিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদের যে বৈঠকে বসার কথা ছিল সেটা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। গতকালই জম্মু-কা*শ্মীরে মোদি সরকারের গতিবিধি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কা*শ্মীর নিয়ে ভারত আগ্রাসী আচরণ করছে বলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।



এমনকি ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব মনে করিয়ে দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু ইমরানের এই বার্তায় গুরুত্ব দেয়নি দিল্লি। পাকিস্তানও আন্দাজ করতে পারেনি কা*শ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করার পরিকল্পনায় রয়েছে মোদি সরকার। সোমবার অমিত শাহের প্রস্তাবে অনেকটা চমকেই গিয়েছিল পাকিস্তান। সেকারণেই প্রতিক্রিয়া জানাতে একটু দেরি হয়েছে। যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। কারণ মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনেকটা বিপাকে ফেলেছে পাকিস্তানকে।



কা*শ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে ভূস্বর্গ ভারতেরই অংশ। এখানে নাক গলানোর জায়গা নেই পাকিস্তানের। পাকিস্তান যদি সরাসরি এর প্রতিবাদ করে তাহলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিপাকে পড়বে তারাই।কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল রোববার বিকেলে তিনি ওই অভিযোগ করেন।ইমরান খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে সাধারণ নাগরিকদের ওপর যে অত্যাচার চলছে এবং যে ধরনের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং এই ঘটনার নিন্দা করি।



এতে ১৯৮৩ সালের কনভেনশনও লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থী, সেজন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বিষয়টিতে নজর দেয়া উচিত।’ ইমরান খান বলেন, ‘কা*শ্মীরের মানুষের ভোগান্তির দীর্ঘ কালরাত্রির অবসানের সময় এসেছে। নিরাপত্তা পরিষদের চুক্তি মতো তাদের স্বতন্ত্রতার অধিকার দেয়া উচিত। কা*শ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানই খুলে দিতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার রাস্তা।’সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কা*শ্মীর ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে মধ্যস্থতা করার আবেদন করেছেন।



তার ওই মন্তব্যে ভারতের জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিরোধীরা সংসদে সরকারকে চেপে ধরলে অবশেষ ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ওই ইস্যুতে সাফাই দিয়ে বলতে হয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যস্থতার কথা বলেননি।যদিও ট্র্যাম্পের ওই দাবিকে ফের খুঁচিয়ে তুলে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইটে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কা*শ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। সেটা করার এখই সময়। কারণ, ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আঞ্চলিক সমস্যা এতে আরও বাড়বে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *