[X]
Home / ত্বকের যত্ন / এই গরমে ত্বক পুড়ে কালো হয়ে যাক এমনটা যদি না চান তাহলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি!

এই গরমে ত্বক পুড়ে কালো হয়ে যাক এমনটা যদি না চান তাহলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি!

একথা সবারই জানা আছে যে বছরের এই সময় সূর্যদেবের রোষ এত বাড়তে থাকে যে ফর্সা ত্বক কালো হয়ে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘাম হওয়ার কারণে নানাবিধ ত্বকের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মজার বিষয় হল আপনি যদি চান, তাহলে এই গরমে বাকি সবার মতো আপনার ত্বকের ক্ষতি কিন্তু নাও হতে পারে। কীভাবে এমনটা সম্ভব এমনটা?



একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে গরমের সময় ত্বকের পরিচর্যা করতে এই প্রবন্ধে আলোচিত প্রকৃতিক উপাদানগুলিকে যদি কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতেও সময় লাগে না। তাই সূর্যদেবকে যদি এই যুদ্ধে হারাতে হয়, তাহলে এই প্রবন্ধে একবার চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন! আর অপেক্ষা নয়, তাপদাহের কারণে ত্বক যাতে পুড়ে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতে যে যে উপাদানগুলিকে কাজে লাগাতে হবে, চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলি সম্পর্কে…



১. অ্যালো ভেরা: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থের উন্নতিতে এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে অ্যালো ভেরার অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান, ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে প্রদাহের মাত্রা কমায়। ফলে একাধিক ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনাও যায় কমে। এখন প্রশ্ন হল অ্যালো ভেরাকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের পুড়ে যাওয়া ভাবকে কমান যায় কীভাবে? এক্ষেত্রে ত্বকের যে যে জায়গা পুড়ে গেছে সেখানে অ্যালো ভেরা জেল লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এইভাবে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন এই প্রকৃতিক উপাদানটির সাহায্যে ত্বকের পরিচর্য়া করলে পোড়া ভাব যেমন কমে, তেমনি পুনরায় যাতে ত্বকের ক্ষতি না হয়, সে সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে।



২. শসা: ত্বকের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে শসার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো এই গরমে ত্বকের পরিচর্যায় শসাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডার্মাটোলজিস্টরা। প্রসঙ্গত, প্রচন্ড সূর্যালোকের কারণে যাতে ত্বক পুড়ে না যায়, সে বিষয়েও খেয়াল রাখে এই প্রকৃতিক উপাদানটি। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো শসা নিয়ে তার পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটির সঙ্গে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে কম করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। এইভাবে নিয়মিত ত্বকের খেয়াল রাখলে দেখবেন গরম যতই বারুক না কেন, ত্বকে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যাবে।



৩. তরমুজ: একেবারে ঠিক শুনেছেন! সুস্বাদু ফলটিকে কাজে লাগিয়ে বাস্তবিকই ত্বকের পোড়া ভাব কমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পরার মতো। এখন প্রশ্ন হল এক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে তরমুজকে? ত্বকের পোড়াভাব কমাতে দুভাবে কাজে লাগাতে পারেন তরমুজকে। এক তো অল্প পরিমাণ তরমুজ নিয়ে তার রস সংগ্রহ করে সেটি মুখে লাগাতে পারেন অথবা তরমুজের খোসা মুখে ঘোষলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। তাই এই গরমে ত্বককে সুন্দর রাখতে নিয়মিত তরমুজ যেমন খেতে হবে, তেমনি এই ফলটিকে ত্বকের পরিচর্যায় কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন!



৪. চন্দন গুঁড়ো এবং হলুদ: একাধিক স্টাডি অনুসারে চন্দন গুঁড়োয় উপস্থিত প্রকৃতিক তেল একদিকে যেমন ত্বকের পোড়া ভাব কমায়, তেমনি স্কিনকে উজ্জ্বল করে তোলে। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সময় লাগে না। আর যদি চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে অল্প পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো মেশাতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই! আসলে হলুদের অন্দরে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান, ত্বকের ভিতরে প্রদাহ কমায়। ফলে তাপ প্রবাহের কারণে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। এক্ষেত্রে সম পরিমাণে চন্দন এবং হলুদ গুঁড়ো নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিয়ে সেই পেস্টটা মুখে লাগিয়ে কম করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। প্রসঙ্গত, এই পেস্টটা নিয়মিত মুখে লাগালে দেখবেন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে একেবারেই সময় লাগবে না।



৫. নারকেল তেল: চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এই গরমে ত্বকের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে নারকেল তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই তেলটির অন্দরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় “স্কিন প্রোটেকশন প্রপাটিজ”, যা ত্বকের পোড়া ভাব কমানোর পাশাপাশি স্কিনকে উজ্জ্বল এবং তুলতুলে করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে একেবারে অল্প পরিমাণে নারকেল তেল নিয়ে মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *