Home / ত্বকের যত্ন / যে ৭টি ঘরোয়া উপাদান বলিরেখা প্রতিরোধ করে ধরে রাখবে তরুণ্য

যে ৭টি ঘরোয়া উপাদান বলিরেখা প্রতিরোধ করে ধরে রাখবে তরুণ্য

ত্বকের বলিরেখা শুধু যে বয়সের চিহ্ন তা নয় অনেক সময় কোনো কারণে কোলাজেনের উৎপাদন কমে গিয়ে ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে গেলেও এমন হতে পারে। আবার অন্যান্য কারণেও হতে পারে যেমন অত্যাধিক মানসিক চাপ, ধূমপান ইত্যাদি। হাসি দেয়ার পর নাকের নিচ থেকে ঠোঁটের কোনা পর্যন্ত ও চোখের কোনায় ত্বকের এই ভাঁজ বেশি দেখা যায়। অনেক শৌখিন ব্যক্তি, তারকা বা মডেল ছুরি, চাকুর নিচে গিয়ে নিজেদের তারুন্য ফিরিয়ে আনেন বা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। প্লাস্টিক সার্জারির বা এই ধরনের সমাধানগুলো খুব ঝুঁকিপূর্ণ, বেদনাদায়ক এবং ব্যয়বহুল। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিএইজিং ক্রিম, যেগুলোর বেশির ভাগ খুবই দামী। তবে এই সমস্যার কিছু ঘরোয়া উপাদান রয়েছে।



১. লেবুর রসঃ লেবুর রসের মত খুব সাধারণ একটি জিনিস মুখে নিয়মিত ব্যবহার করলে তা আশ্চর্য রকম কাজ করে। আমরা সবাই জানি যে লেবু ভিটামিন সি তে ভরপুর। এই ভিটামিন ত্বকের শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখার গঠনমূলক প্রোটিন কোলাজেনের সমন্বয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এই ভিটামিন সি ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যালকে নিরোপেক্ষ করে যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি বৃদ্ধি করতে পারে।



২. মধুর সাথে ডিমের সাদা অংশঃ ডিমের সাদা অংশের একটি ভালো দিক হচ্ছে এটি ত্বককে করে টান টান। এতে থাকা উচ্চ মাত্রার প্রোটিন ত্বকের ক্ষতি পুনোরুদ্ধার করে বয়সের চিহ্ন কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই ত্বকের বলিরেখা দূর করার মাস্ক বানাতে প্রথমে একটি ডিমের সাদা অংশ বিট করে তাতে এক টেবিল চামচ অপরিশোধিত মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।



৩. অ্যাভোকাডোঃ ত্বকের বহুবিধ সমস্যা সমাধানে অ্যাভোকাডোর ভূমিকা রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে এই বিদেশী ফলটি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখে। একটি অ্যাভোকাডো কাঁটাচামচ দিয়ে খুব ভালো করে ম্যাশ করে নিয়ে নিয়মিত মুখে লাগান যা ত্বককে প্রচুর আর্দ্রতা দেয়ার পাশাপাশি বলিরেখা দূর করবে।



৪. অ্যালোভেরা জেলঃ ত্বকের পরিচর্যায় আরো একটি উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরা জেল। এই আঠালো উপাদানটিও অ্যাভোকাডোর মত ভিটামিন ই তে পরিপূর্ণ। এছাড়া অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি এবং ই এর সম্মিলিত গুণাগুণের ফলে তা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বককে মেরামত করে, ত্বককে করে আর্দ্র ও টানটান এবং এটি কোলাজেনের সংশ্লেষণ করে।



৫. নারকেল তেলঃ প্রকৃতিতে সৌন্দর্যচর্চার জন্য অনেক ধরনের নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী উপাদান ছড়িয়ে থাকে যা আমরা বুঝতে পারি না। নারিকেল তেল তার মাঝে অন্যতম। সুস্বাদু সুগন্ধের স্বাস্থ্যকর এই তেল ত্বকের চমৎকার আর্দ্রতাদায়ক উপাদান। ত্বকের কোষেরও আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং বলিরেখা দূর করে। তাই ত্বকে হাসির রেখা ও বলি রেখা দূর করতে নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহার করুন।



৬. পাকা পেঁপেঃ উজ্জ্বল কমলা রঙের এই ফলটি কার্যকর ভাবে মুখের ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। এর প্রদাহ বিরোধী গুণাগুণের জন্য এটি ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে এবং এর গতিকে ধীর করতে সাহায্য করে। পেঁপেও ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে করে শক্তিশালী, আর্দ্র ও টানটান এবং কোলাজেনের সংশ্লেষণে সাহায্য করে।



৭. হলুদঃ পেঁপের মত হলুদেরও রয়েছে প্রদাহ বিরোধী গুণাগুণ। পানি দিয়ে তৈরি হলুদের পেস্ট খুব সহজেই বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। চাইলে পানির পরিবর্তে কিছুটা নারিকেল তেল দিয়ে যদি পেস্ট করা হয় তাহলে এর কার্যকারিতা আরো বেড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *