Home / ত্বকের যত্ন / যে ৮টি প্রাকৃতিক উপাদান মেছতা দূর করতে অসাধারণ কাজ করে

যে ৮টি প্রাকৃতিক উপাদান মেছতা দূর করতে অসাধারণ কাজ করে

অনেকের, বিশেষ করে নারীদের, মুখে, থুতনিতে, কপালে ও গালে হালকা বাদামি, কালো বা লালচে ছোপ দেখা যায়। এটি মেছতা নামে পরিচিত। ত্বকের রঞ্জক পদার্থ মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই এর কারণ। দিন যত যায়, রঙের গাঢ়ত্ব তত বাড়ে এবং রোগী এক বিব্রতকর সমস্যায় পড়ে যান। মেছতা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরা বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের এটি এক বিরাট সমস্যা। বর্তমানে কেমিক্যাল পিলিং, মাইক্রোডার্মাবেশন ও পিআরপি থেরাপির মাধ্যমে মেছতার চিকিৎসা করা হচ্ছে। কিছু আধুনিক মলম ও মুখে খাওয়া ট্যাবলেটও মেছতা চিকিৎসায় কার্যকর। নানান বিউটি প্রোডাক্টের বাইরেও ঘরোয়া উপায়গুলোও মেছতা দূর করতে বেশ করার্যকর। আসুন দেখে নিই যে ৮টি প্রাকৃতিক উপাদান মেছতা দূর করতে অসাধারণ কাজ করে।



১. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার
মেছতার দাগ দূর করতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বেশ কার্যকর। সমপরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং পানি একসাথে মিশিয়ে নিন। এরসাথে কিছু পরিমাণে মধু মেশান। এই মিশ্রণটি ত্বকের দাগের উপর ব্যবহার করুন। প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। এছাড়া আধা চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে কয়েক চামচ কমলার রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ত্বকের মেছতার দাগের উপর লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করুন। চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ব্যবহার করুন।



২. চন্দন
চন্দনের অ্যান্টিএইজিং এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের হাইপারপিগমেনশন কমিয়ে মেছতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন এবং লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এই প্যাকটি কালো বা খয়েরী দাগের ওপর লাগান। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কয়েকবার এটি করুন। এছাড়া প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চন্দন পাউডার, অলিভ অয়েল, বাদাম অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। সারারাত রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলুন।



৩. লেবুর রস
সবচেয়ে সহজলভ্য এবং কার্যকরী উপাদান হলো লেবুর রস। এর ব্লিচিং উপাদান ত্বকের যেকোনো দাগ দূর করে দেয়। মেছতার মতো জেদী দাগ দূর করতেও লেবু কার্যকর। ত্বকের দাগের স্থানে লেবুর রস লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন করুন। ২ মাসের মধ্যে আপনি পার্থক্য দেখতে পারবেন। সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারীরা সরাসরি লেবু ব্যবহার না করে মধু ও গোলাপ জল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আরেকভাবে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। লেবুর রসের সাথে পরিমাণ মতো চিনি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি দিয়ে দাগের স্থানে ম্যাসাজ করুন। বিশেষ করে ত্বকের খয়েরী দাগের জায়গাগুলোতে ভাল করে ম্যাসাজ করে নিন। ৫-১০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে কয়েকবার করুন। আপনি চাইলে এতে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।



৪. টমেটো
টমেটোর রস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। টমেটোর পাল্প ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে তিন- চার দিন ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে পরিষ্কার ও সজীব করে। ৫. আলুঃ আলুর রস মেচতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটি চোখের চার পাশে জমে থাকা কালো দাগ (ডার্ক সার্কেল) দূর করতে সাহায্য করে।



৬. মুলতানি মাটি
মুলতানি মাটি ত্বকের মরা কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। গোলাপজল, সবুজ চা, শসার রস, লেবুর রস এবং পানি ও মুলতানি মাটির মিশ্রণটি তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক চা চামচ টমেটোর রস এবং চন্দন গুঁড়া, দুই চা চামচ মুলতানি মাটি একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।



৭. অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সম্পূর্ণ জেল ত্বকে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল দুই চা চামচ, এক চা চামচ লেবুর রস এবং চিনি একসাথে মিশিয়ে হালকাভাবে ত্বকে ঘষুন। ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এটি ব্যবহার করুন।



৮. স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি, হাইড্রোক্সি এসিড, স্যালিলিক এসিড, অ্যালিজিক এসিড সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের মরা কোষ দূর করে, দাগ, একনে এবং ত্বক ফাটা থেকে রক্ষা করে। দুই থেকে তিনটি স্ট্রবেরি চটকে নিন। দুই চা চামচ দই এবং মধু মিশিয়ে নিন। হালকাভাবে ত্বকে ম্যাসাজ করুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর এটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

প্রাকৃতিক উপায়ে মেছতার দাগ দূর করা সময় সাপেক্ষ হলেও কার্যকর। কেমিক্যাল মুক্ত হওয়ায় এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নির্ভাবনা ব্যবহার করতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়গুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *