[X]
Home / মনের জানালা / স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক ভালো রাখার সহজ কয়েকটি মন্ত্র জেনে নিন!

স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক ভালো রাখার সহজ কয়েকটি মন্ত্র জেনে নিন!

স্বামী-স্ত্রী পৃথিবীর সবচেয়ে আপন এবং মধুর একটি সম্পর্কের বন্ধন। পবিত্র কোরানে আল্লাহ মহান স্বামী-স্ত্রীর একজনকে অপরজনের পোশাক বলেছেন। একজনকে অপরজনের সম্পূরক বানিয়েছেন। সৃষ্টিগত কৌশলতায় একজনকে করেছেন অপরজনের সহায়ক। মধুর এই সম্পর্ককে আরো ফলপ্রসূ করার জন্য আল্লাহ মহান কিছু বিধান অনুসরণ করার তাগিদ দিয়েছেন। স্বামীর ওপর স্ত্রীর এবং স্ত্রীর ওপর স্বামীর কিছু অধিকার বা হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন তিনি।



সম্পর্ক ভালো রাখার বিষয়টি সম্পূর্নভাবে যারা সম্পর্কে থাকে তার ওপর নির্ভর করে। সম্পর্ক ভাল রাখার লিখিত কোনো নিয়ম নেই। সম্পর্কে নানা ধরনের সমস্যাও থাকে। এটাই স্বাভাবিক। তবে অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ফলে বেশ কিছু নিয়ম লক্ষ্য করা গেছে যা মেনে চললে সম্পর্ক হয়ে উঠবে মধুময়। তাই বাড়তি ঝামেলায় না পড়তে চাইলে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন-



১। স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না- সঙ্গীর ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। আর নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা তো ভুলেও করবেন না। রাত জেগে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না, বাইরে বেশি রাত পর্যন্ত আড্ডা দেওয়া যাবে না, এ ধরনের নিয়ম চাপিয়ে দেবেন না। সঙ্গীকে স্বাধীন থাকতে দিন।



২। বন্ধুদের ভুলে যাবেন না- যেকোনো মানুষের জীবনেই বন্ধু অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। অথচ অনেকেই সম্পর্কে জড়ানোর পর বন্ধুদের এড়িয়ে চলেন। এই প্রবণতা খুব খারাপ। মনে রাখবেন, বিপদে বন্ধুরাই এগিয়ে আসবে। তাই আপনাদের দুজনকেই বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে হবে। ৩। মনের কথা শুনুন- জোর করে কোনো কিছু বলবেন না। সঙ্গীকে কোনো কথা তখনই বলুন, যখন আপনি মন থেকে তা উপলব্ধি করতে পারবেন।



৪। প্রতারণা না করা- প্রতারণা করবেন না। সম্পর্কে অনেক সময় একঘেয়েমি চলে আসে। তাই বলে প্রতারণা এর সমাধান নয়। সঙ্গীর সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে সেটি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করুন এবং সমাধানের উপায় খুঁজে বের করুন। ৫। তুলনা না করা- কখনো তুলনা করবেন না। প্রত্যেক মানুষের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই অযথা আপনার সঙ্গীকে আগের প্রেমিক/প্রেমিকার সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে সম্পর্ক ভালো হওয়ার বদলে আরো খারাপের দিকে যাবে। ৬। যত্নশীল হোন- সঙ্গীকে অনেক ভালোবাসেন, তার প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল; কিন্তু তা প্রকাশ করতে অপারগ আপনি। এমনটা যদি হয়, তাহলে এখনই সেই জড়তা থেকে বেরিয়ে আসুন। না হলে সম্পর্কে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। ফলে সম্পর্কে তৃতীয় পক্ষের আবির্ভাব ঘটতে পারে।



এছাড়া একজন স্ত্রীর দায়িত্বে স্বামীর আরো কিছু হক বা অধিকারের কথা বিভিন্ন সহীহ হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়। সেগুলো হলো-
১. যথাযথভাবে স্বামীর অনুগত থাকা এবং স্বামীকে মেনে চলা। ২. শরিয়তের সীমার মাঝে থেকে স্বামীর প্রতি আদব, খেদমত, মন জয় ও সন্তুষ্টি অর্জন করার চেষ্টা করা। একটি কথা মনে রাখতে হবে, স্বামীর মন জয় বা সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না, যদি সেটা স্বামীর আদেশ বা পছন্দ হয় এবং এক্ষেত্রে শালিনভাবে নিজের অপরাগতা প্রকাশ করতে হবে। ৩. সামর্থ্যরে অতিরিক্ত কোনো বিষয়ে স্বামীকে চাপ প্রয়োগ না করা। ৪. অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ বা অন্য যে কোনো প্রকার আমানত ব্যয় না করা। ৫. স্বামীর পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ না করা যাতে স্বামী কষ্ট পান। ৬. ইসলামী বিধান মোতাবেক যাদের সঙ্গে দেখা করা নিষেধ, তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার দেখা-সাক্ষাৎ না করা বা পর্দা বিধান মেনে চলা। রাসুল [সা.] বলেছেন, যে স্ত্রী তার স্বামীর কষ্টদায়ক আচরণে ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ তাকে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়ার সমতুল্য সাওয়াব দান করবেন। মাওলানা মিরাজ রহমান


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *