[X]
Home / মনের জানালা / বিয়ে নিয়ে ৫টি অজানা তথ্য, যা জানলে আজই বিয়ে করতে ইচ্ছে করবে!

বিয়ে নিয়ে ৫টি অজানা তথ্য, যা জানলে আজই বিয়ে করতে ইচ্ছে করবে!

অবিবাহিতদের বিয়ে নিয়ে নানা রকম ফ্যান্টাসি কাজ করে। এসব ফ্যান্টাসির প্রায় সবই অভিজ্ঞতার অভাব থেকে জন্ম নেয়। কারণ বাস্তব চিত্র এসব কল্পনার মত হয় না অনেক সময়ই। তবে বিয়ে নিয়ে যেসব কল্পনায় ডুবে থাকেন তার সবই যে উড়িয়ে দেওয়া যায় এমন না। আমরা এমন কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা জড়ো করেছি যার ফলাফল শুনে আপনারও বিয়ে করতে ইচ্ছা করবে। আসুন জেনে নেই এমন কিছু তথ্য। তবে শেষে বোনাস হিসাবে কি থাকছে সেটাও পড়তে ভুলবেন না।

১. বিয়ের উপযুক্ত বয়স ২৮-৩২!
যুক্তরাষ্ট্রের উচাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিকোলাস এইচ উলফিঙ্গার এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিয়ের জন্য আদর্শ বয়স ২৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। আট বছর ধরে এক গবেষণা শেষে এ কথা বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এ সময়ের মধ্যে যাঁরা বিয়ে করেন, দাম্পত্য জীবনে তাঁদের বিচ্ছেদের ঝুঁকি অনেক কম। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বয়সের মধ্যে বিয়ে করলে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা কম থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, ৩২ বছরের পর থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বিয়ে করলে বিচ্ছেদের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।

২. বিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়
অবিবাহিত যাঁরা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং শরীরে অতিরিক্ত মেদের সমস্যায় আছেন, তাঁদের জন্য সুখবর। দ্রুত বিয়ে করে ফেলুন। কারণ, বিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি আর ডায়াবেটিসও কমায়। এমন তথ্য যুক্তরাজ্যের একদল গবেষকের। সেখানে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তির ওপর গবেষণা করে এই ফল পেয়েছেন তাঁরা। প্রায় ১৪ বছর ধরে এই গবেষণা চলে।

যুক্তরাজ্যের অ্যাস্টন মেডিকেল স্কুলের পল কার্টার এবং তাঁর সহযোগীরা এই গবেষণা পরিচালনা করেন। ব্রিটিশ কার্ডিওভাসকুলার সোসাইটি কনফারেন্সে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষকেরা বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য বিয়ে বেশ সহায়ক। রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকার পরও বিবাহিত মানুষেরা অবিবাহিতদের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি বেঁচে থাকেন। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে ভোগা বিবাহিত রোগীরাও অবিবাহিতদের চেয়ে বেশি সময় বাঁচেন বলে দেখতে পেয়েছেন গবেষকেরা।

৩. বিয়েতে নারীর চেয়ে পুরুষের লাভ বেশি
বিয়ে নিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগ এক যৌথ গবেষণা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, একাকী থাকা বা জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে পুরুষদের স্বাস্থ্যের ওপর যেমন প্রভাব পড়ে নারীদের ক্ষেত্রে তা পড়ে না। মধ্যবয়সী যেসব পুরুষ বিয়ে করেননি তাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং মোট হওয়ার প্রবণতা খুব একটা থাকে না যেমন থাকে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে।

দ্যা এডুকেশন স্কুল অব ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) জনসংখ্যা বিষয়ক বিজ্ঞানী জর্জ প্লাউবিডিস বলেন, ‘বিয়ে না করা বা বিয়ে করে নারী-পুরুষের একসঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারী ক্ষতির সম্মুখীন হয় বেশি। বিয়ে পুরুষদের জন্য লাভের ব্যাপার হিসেবে গণ্য করা হয়।’

৪. সম্বন্ধের বিয়েটা বেশি সুখের হয়
কোন বিয়ে বেশি সুখের হয়? প্রেমের বিয়ে, নাকি পারিবারিকভাবে আয়োজিত সম্বন্ধের বিয়ে? এ নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে। তবে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, সম্বন্ধের বিয়েটা বেশি সুখের হয়। ১৫ হাজার মায়ের ওপর চালানো জরিপের ফলাফল থেকে এমন তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ।

যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন ম্যারেজ ফাউন্ডেশনের গবেষণা পরিচালক হ্যারি বেনসন ও লিংকন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিভ ম্যাককে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে তাঁদের দাবি, সম্বন্ধের বিয়েটা টেকসই ও সুখের হয়।

৫. স্ত্রী সুখী হলে স্বামীও সুখী
বিয়েটা মনের মতো মানুষের সঙ্গে হয়নি। তার পরও পুরুষের জীবনটা সুখের হতে পারে—যদি তাঁর স্ত্রী দাম্পত্যে নিজেকে সুখী মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এমনটিই দাবি করছেন। এই গবেষণায় বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক মূল্যায়ন এবং তুলনামূলক বেশি বয়সী দম্পতিদের মানসিক সুখ বা ভালো থাকার ব্যাপারটি গুরুত্ব পেয়েছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল রিসার্চের অধ্যাপক ভিকি ফ্রিডম্যান বলেন, বেশি বয়সী স্বামী-স্ত্রীরা নিজেদের বিয়ে ও জীবন নিয়ে অন্যদের তুলনায় বেশি পরিতৃপ্ত। কিন্তু বিয়ে নিয়ে একজন অসুখী পুরুষের সার্বিক সুখের উপলব্ধি নির্ভর করে তাঁর স্ত্রী কীভাবে সেই দাম্পত্যকে মূল্যায়ন করেন, তার ওপর। যদি সেই নারী তাঁদের বৈবাহিক জীবনকে সুখের বলে স্বীকৃতি দেন, তাহলে পুরুষটির জীবনে সন্তুষ্টি বজায় থাকে। এমনকি যদি তিনি নিজেদের বিয়ে নিয়ে প্রথম দিকে কিছুটা অসন্তুষ্টির মধ্যেও থাকেন, সেটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

বোনাস: বেশি বয়সী স্বামী অপছন্দ নারীর
স্বামী হিসেবে নারীরা প্রতিষ্ঠিত পুরুষ পছন্দ করলেও খুব বেশি বয়সীদের অপছন্দ করেন। বয়সের বিস্তর ব্যবধান রয়েছে যেসব দম্পতির, তাঁদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণাও নেতিবাচক। শিক্ষা, আকর্ষণ, সম্পদ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় তাঁরা গড়পড়তাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *