[X]
Home / ত্বকের যত্ন / ১০ মিনিটে ত্বক ফর্সা হয়ে উঠুক এমনটা চান? তাহলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া উপাদানগুলি!

১০ মিনিটে ত্বক ফর্সা হয়ে উঠুক এমনটা চান? তাহলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া উপাদানগুলি!

ফর্সা ত্বক পেতে বহুজাতিক কোম্পানির ফেয়ারনেস ক্রিম মুখে মাখতেই পারেন, কোনও ক্ষতি নেই! কিন্তু জানিয়ে রাখি এই সব ক্রিম ত্বককে সাময়িকভাবে উজ্জ্বল করে তুললেও দীর্ঘ মেয়াদি ফর্সা ত্বক পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ কিন্তু এমনভাবে সম্ভব নয়। তাহলে…! এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিট সময় খরচ করে এই প্রবন্ধটি একবার পড়ে ফলতে হবে। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! নিশ্চিয় বুঝে উঠতে পারছেন এই প্রবন্ধটি পড়ার সঙ্গে ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠার কী সম্পর্ক, তাই তো! আসলে এই লেখায় এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যাদেরকে কাজে লাগালে ১০ মিনিটে ত্বক হয়ে উঠবে ফর্সা এবং উজ্জ্বল। সেই সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটার কারণে সার্বিকভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতেও দেখবেন সময় লাগবে না। তাই বন্ধু, ফর্সা ত্বকের অধিকারি হয়ে ওঠার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন যদি পূরণ করতে হয়, তাহলে কাজে লাগাকে হবে…

১. কলা:
একাধিক কেস স্টাডি অনুসারে এই ফলটিতে উপস্থিত ভিটামিন এ,বি, ই এবং পটাশিয়াম, ত্বকের অন্দরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ত্বক ফর্সা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে স্কিনের গভীরে পুষ্টির ঘাটতিও দূর হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো কলা নিয়ে প্রথমে তা চোটকে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন ফল মিলতে শুরু করেছে।

২. লেবু:
২ চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্টা বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করে কম করে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। এই ফেসপ্যাকটি নিয়মিত মুখে লাগালে ত্বকের অন্দরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, যা স্কিনের ভেতরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেবে। ফলে ত্বক ফর্সা এবং উজ্জল হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, ব্রণ, অ্যাকনে এবং আরও নানাবিধ ত্বকের রোগের প্রকোপ কমাতেও এই ফেসপ্যাকটি দারুন কাজে আসে।

৩. কাঁচা দুধ:
ত্বকের অন্দরে যখন পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে তখন স্কিন উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হযে ওঠে। এই কারণেই তো নিয়মিত কাঁচা দুধের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে কাঁচা দুধ নিয়ে মুখে লাগিয়ে কিছু সময় মাসাজ করতে হবে। নিয়মিত ১৫ মিনিট এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

৪. মধু:
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে মধুর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি ত্বকের যে কোনও ধরনের দাগও মিলিয়ে যেতে থাকে। ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। তাই চটজলদি যদি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে হয়, তাহলে ১ চামচ মধুর সঙ্গে আধ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলতে হবে সারা মুখটা।

৫. দই:
এতে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সসিয়াল অ্যাসিড মৃত কেষের স্থরকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর করে, তেমনি ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে চোখের পলকে ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে এক বাটি দইয়ের সঙ্গে সম পরিমাণে ওটস মিলিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফলতে হবে পেস্টটা।৬. পেঁপে:
দ্রুত ত্বককে ফর্সা বানাতে চাইলে নিয়মিত পেঁপে দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক মুখে লাগাতে হবে। আর কীভাবে বানাতে হবে এই ফেসপ্যাকটি? এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো পেঁপের সঙ্গে সম পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এইভাবে প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! আসলে পেঁপে এবং মধুতে থাকা বেশ কিছু উপকারি এনজাইম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. টমাটো:
এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন ত্বকের অন্দরের ক্ষত সারায়, তেমনি পুষ্টির ঘাটতিও দূর করে। ফলে ত্বক তো ফর্সা হয়ে ওঠেই, সেই সঙ্গে একাধিক স্কিন ডিজিজও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ টমাটোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে সেটি মুখে লাগাতে হবে। টানা কয়েক মাস এমনভাবে ত্বকের খেয়াল রাখলেই দেখবেন স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *