[X]
Home / ত্বকের যত্ন / মাত্র দু’দিনেই ফর্সা ত্বক পেতে মেনে চলুন ৮ সহজ পদ্ধতিগুলি!

মাত্র দু’দিনেই ফর্সা ত্বক পেতে মেনে চলুন ৮ সহজ পদ্ধতিগুলি!

আপনি কি ফর্সা উজ্জ্বল ত্বক পেতে যে কোনও মূল্য দিতে রাজি আছেন? এদিকে হাজারো চেষ্টা করেও ত্বকের রং ফিরছে না? যে কালো সেই কালোই রয়ে গেছে? তাহলে তো বলতেই হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ এই লেখায় এমন কিছু সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে মাত্র দু দিনেই ত্বককে সুন্দর করে তোলা সম্ভব।

আমাদের আশেপাশে উপস্থিত বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কিন টোনের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু জেনে নিতে হবে সঠিক পদ্ধতি। তাহলেই কেল্লাফতে! আর এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই প্রবন্ধটি। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, এক্ষুনি চোখ রাখুন এই লেখায়, আর মাত্র ২ দিনেই ত্বককে করে তুলুন উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত। এক্ষেত্রে যে পদ্ধতিগুলি বিশেষ কাজে আসে, সেগুলি হল…

১। মধু এবং দই: পরিমাণ মতো দইয়ে অল্প করে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেই পেস্টটা কম করে ১৫ মিনিট মুখে মাসাজ করুন। সময় হয়ে গেলে মুখটা ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, মধু ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে আর লেবুর রস এবং দইয়ে মিশ্রনে উপস্থিত ভিটামিন-সি ত্বককে উজ্জ্বল এবং ফর্সা করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২। লেবুর রস এবং চিনি: একটা লেবু থেকে রস সংগ্রহ করে তাতে ১ চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রনটি ততক্ষণ পর্যন্ত মুখে ঘষতে থাকুন, যতক্ষণ না চিনিটা ত্বকের সঙ্গে একেবারে মিশে যায়। যখন দেখবেন এমনটা হচ্ছে, তখন মুখটা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নেবেন। ফর্সা ত্বক পেতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি দারুন কাজে আসে। তাই যারা অল্প দিনেই অপরূপ সুন্দরি হয়ে উঠতে চান তারা অবশ্যই কাজে লাগান এই পদ্ধতিটিকে।

আসলে এই মিশ্রনটিতে উপস্থিত চিনি ত্বকের উপরি অংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্থরকে সরিয়ে দেয়। ফলে স্কিন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, লেবুর রসে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বককে ফর্সা করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি কাজে লাগানোর পর মনে করে মুখে ময়েসচারাইজার লাগাতে ভুলবেন না যেন!

৩। দুধ এবং কলা: অল্প সময়ে ত্বক উজ্জ্বল করতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তার উপর যদি দুধকে কাজে লাগানো হয়, তাহলে তো কথাই নেই! এক্ষেত্রে একটা কলাকে চোটকে নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো দুধ মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন পেস্টটা যেন একেবারে মিহি হয়ে যায়। তবেই কিন্তু ভাল কাজ দেবে।

৪। খাবার সোডা এবং জল: পরিমাণ মতো খাবার সোডা নিয়ে তাতে অল্প করে জল মিশিয়ে একটা থকথকে পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর সেটা মুখে এবং গলায় ১৫ মিনিট ধরে লাগানোর পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে মুখ ধুতে ফেস ওয়াশ অথবা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানের সাহায্য নিতে পারেন।

৫। অ্যালো ভেরা: অল্প করে অ্যালো ভেরা জেল নিয়ে তাতে পরিমাণ বাদাম গুঁড়ো মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রনটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ১৫-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্রসঙ্গত, অ্যালো ভেরা জেল ত্বককে ফর্সা করার পাশপাশি নানাবিধ স্কিন ডিজিজে প্রকোপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অন্যদিকে, বাদাম গুঁড়ো মুখে জমে থাকা ময়লা এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করতে দারুন কাজে আসে।

৬। গোলাপ জল: এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ভিতর থেকে ত্বককে পরিষ্কার করে। ফলে স্কিন সুন্দর এবং তুলতুলে হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে সম পরিমাণে গোলাপ জল এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন। তারপর সেই মিশ্রন রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখে লাগিয়ে ফেলুন। সারা রাত রেখে সকালে মুখটা ধুয়ে নিন। এমনটা মাত্র দু দিুন করলেই দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠেছে। ইচ্ছা হলে মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়েও মুখে লাগাতে পারেন। এমনটা করলেও সমান উপকার পাবেন।

৭। আমের খোসা এবং দুধ: গরমকালে রাতের বেলা গরম গরম দুধে আম মিশিয়ে খেতে কী সুস্বাদু লাগে তাই না! কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে দুধের সঙ্গে আমের খোসার মিশিয়ে ত্বকে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো দুধে অল্প করে আমের খোসা মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রনটা মুখে, গলায় এবং ঘারে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিয়ে ধুয়ে নিন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন ত্বকের চরিত্র বদলাতে শুরু করে দিয়েছে।

৮। ডাবের জল: শুধু তেষ্টা মেটাতে নয়, ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলতেও ডাবের জলের কোনও বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কি মুখে ডাবেল জলের ছেটা দিলেই চলবে? একেবারেই। দিনে দুবার যদি ডাবের জল দিয়ে মুখ ধোয়া যায়, তাহলে ত্বক ফর্সা হতে একেবারে সময়ই লাগে না। শুধু তাই নয়, মুখের নানাবিধ দাগ মেটাতেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি দারুন কাজে আসে।

ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *