Home / স্বাস্থ্য-সেবা / জরায়ু বড় হওয়ার কারন ও চিকিৎসা কি জেনে নিন!

জরায়ু বড় হওয়ার কারন ও চিকিৎসা কি জেনে নিন!

গর্ভধরণ থেকে প্রসবের পর্যন্ত, একটি মহিলার জরায়ু একটি তরমুজ আকার পর্যন্ত বড় হতে পারে। কিন্তু জরায়ু বড় হওয়ার জন্য গর্ভাবস্থা একমাত্র সম্ভাব্য কারণ নয়। জরায়ু বড় হওয়ার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে এবং এর মাঝে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

জরায়ু বড় হওয়ার পিছনে সাধারণত যে দুটি কারণ থাকে তা হলঃ গর্ভাশিকার fibroids এবং adenomyosis।

ফাইব্রয়েড (fibroids):
মহিলাদের প্রজননক্ষম বয়সে জরায়ুতে সবচেয়ে বেশি যে টিউমারটি হতে দেখা যায় তা হলো ফাইব্রয়েড বা মায়োমা। জরায়ুর পেশির অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এই টিউমারের সৃষ্টি হয়। ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নারীদের মধ্যে ২০ শতাংশই এই সমস্যায় আক্রান্ত। ফাইব্রয়েড এক ধরনের নিরীহ টিউমার, এটি ক্যানসার বা বিপজ্জনক কিছু নয়।

কারণ :
ফাইব্রয়েডের কারণে জরায়ু অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়। জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে রক্তনালির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না। জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সংযোগস্থলে বা এমন কোনো জায়গায় টিউমারটির অবস্থান হয়, যা ভ্রূণকে সুস্থিত হতে বাধা দেয়.

জরায়ু নিচে নেমে যায় কেন, প্রতিকার কি? দুটো সমস্যার কারণে সু-চিকিৎসা দরকার।

১। এর ফলে অতিরিক্ত মাসিক হওয়া এবং তার জন্য রক্তশূন্যতা হতে পারে। ২। এটিকে বন্ধ্যাত্বের একটি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদিও কিছু ফাইবারফ্রেড খুব ছোট হয়, অন্যরা বেশ কয়েক পাউন্ডের ওজনের হতে পারে। একটি মহিলার একটি ফাইবারফ্রেড বা একাধিক fibroids থাকতে পারে।

চিকিৎসা :
মূলত অস্ত্রোপচারই ফাইব্রয়েড টিউমারের প্রধানতম চিকিৎসা। ওষুধের মাধ্যমে এর স্থায়ী চিকিৎসা হয় না। অস্ত্রোপচার প্রধানত দুই ধরনের।

১. বয়স ৪৫-এর বেশি ও Family Complete অর্থাৎ আর বাচ্চা নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে জরায়ু ফেলে দেওয়া।

২. প্রজননক্ষম বয়স এবং যাদের বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে মায়োমেটমি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফাইব্রয়েডকে জরায়ুর দেয়াল থেকে তুলে এনে আবার তা সেলাই করে দেওয়া হয়। এতে জরায়ু কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে এই অস্ত্রোপচার পেট কেটে বা ছিদ্র করে উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়।

যা জেনে রাখা জরুরি :
১. এই অস্ত্রোপচারের সময় বেশ রক্তপাত হতে পারে। ২০-২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সময় জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

২. অস্ত্রোপচারের পর আবার ফাইব্রয়েড হওয়ার আশঙ্কা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। ফাইব্রয়েড অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণ করলে অবশ্যই ভালো সুযোগ-সুবিধা থাকে, এমন হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে হবে।

Fibroids কারণ পরিচিত হয় না, কিন্তু টিউমার বৃদ্ধিকারী এস্ট্রোজেন উপর নির্ভর বলে মনে হচ্ছে। মেনোপজ হওয়ার পর, তারা স্বাভাবিকভাবেই সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং কোন উপসর্গ দেখা দেয় না।

জরায়ু ইনফেকশন এর কারণ –

অ্যাডেনোমায়োসিসঃ
অ্যাডেনোমায়োসিস (Adenomyosis ), একটি বিরল অসুস্থতা যাতে, জরায়ুর ভেতরের নালীকাগুলো জরায়ু প্রাচীরের পেশীর অভ্যন্তরে জন্মায়। অ্যাডেনোমায়োসিস হওয়ার কারণ অজানা। এটি সাধারণত ৩০ বছরের বেশী বয়সী যারা মা হয়েছেন তাদের দেখা যায়। যাদের জরায়ু সার্জারী হয়েছে বা সার্জারির মাধ্যমে বেবি হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেশী। এ দুটি কারণ ছাড়াও অন্যান্য কারণে জরায়ু বড় হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *