Home / এক্সক্লুসিভ / যুবকের ডাকে রাতে ঘর থেকে বেরিয়ে কিশোরীর সর্বনাশ

যুবকের ডাকে রাতে ঘর থেকে বেরিয়ে কিশোরীর সর্বনাশ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে মোবাইলে ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে আসামিদের দিনাজপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার মধ্যরাতে অভিযুক্ত ওই তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের হাজির মোড় গ্রামের মো. বেনজু মিয়ার ছেলে মো. আসিফ। একই গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের ছেলে মো. সাগর ইসলাম ও চকচকা (তেলিপাড়া) গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ।

থানা-পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত ৮টায় ওই কিশোরীকে তার বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে ধর্ষণ করেন মো. আসিফ। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন তারই সহপাঠী একই গ্রামের মো. সাগর ইসলাম এবং তাকে সহযোগিতা করেন চকচকা (তেলিপাড়া) গ্রামের মো. সোহাগ।

পরে ভিডিও ধারণকারী সাগর ও সোহাগ ধর্ষণের ব্যাপারে কাউকে বললে ওই কিশোরীকে হত্যার হুমকিসহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করারও হুমকি দেন। এদিকে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পার্শ্ববর্তী আমির হোসেনের বাসা থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন তার বাবা।

মেয়ের মুখে বিস্তারিত শুনে মধ্যরাতে পরিবারের সদস্যরা ইউপি সদস্য নুরু ইসলামকে বিষয়টি জানালে, ইউপি সদস্য গ্রামের লোকজন নিয়ে কৌশলে ওই যুবকদের আটক করে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টায় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন যুবককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এছাড়া ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওই এলাকার ইউপি সদস্য বলেন, মোবাইলে খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার মুখে ঘটনার বর্ণনা শুনে, কৌশলে গ্রামের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করি। তারা মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশে খবর দিই।

ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। গ্রেফতারদের কাছ থেকে ভিডিও চিত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।