Home / স্বাস্থ্য-সেবা / স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের জরুরি সতর্কতা ও নিয়ম জেনে রাখুন!

স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের জরুরি সতর্কতা ও নিয়ম জেনে রাখুন!

প্রকৃতির নিয়ম মেনে প্রত্যেক মাসের বিশেষ কয়েকটা দিন ঋতুচক্র পার করেন প্রত্যেক নারীই। এই সময়ে নারীদের সবচেয়ে জরুরী ব্যবহার্য জিনিসটি হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন। এই পণ্যটি নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, এটা খুবই সাধারণ একটি পণ্য। কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চান।

অসংখ্য নারী নানান রকম ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন শুধুমাত্র এই স্যানিটারি ন্যাপকিনের সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকার কারণে। খুব ভালো পণ্য ভেবে অনেক দাম দিয়ে এমন ন্যাপকিন ব্যবহার করেন, যা তাঁকে ফেলে দেয় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। অনেকেই ভাবেন অনেক বেশি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, বেশি সময় লিকেজ প্রতিরোধ করে এমন প্যাড ব্যবহার করেন? জেনে নিন, এই ন্যাপকিন হতে পারেন আপনার ক্যান্সারের কারণ! লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরী। এই ব্যাপারে কিছু বিষয় তুলে ধরা হল-

স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের ৭টি জরুরী সতর্কতা –

অসংখ্য নারী নানান রকম ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন শুধুমাত্র এই স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভুল কারণেই। খুব ভালো পণ্য ভেবে অনেক দাম দিয়ে এমন ন্যাপকিন ব্যবহার করেন, যা তাঁকে ফেলে দেয় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। অনেক বেশী শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, অনেকটা সময় লিকেজ প্রতিরোধ করে এমন প্যাড ব্যবহার করেন? জেনে রাখুন, এই ন্যাপকিন হতে পারেন আপনার ক্যান্সারের কারণ! লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরী। চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত।

১. স্যানিটারি ন্যাপকিন কতক্ষণ পর পর বদল করা ভালো? এই তথ্যটি অনেকেই জানেন না। অনেকেই আছেন যারা একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কম ব্লিডিং হয়েছে ভেবে দীর্ঘসময় যাবত ব্যবহার করেন। রক্তপাত কম হোক বা বেশী, একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কখনোই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করবেন না। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর পর বদলে ফেলুন। যদি রক্তপাত বেশী হয়, তাহলে প্যাড নষ্ট হওয়া মাত্রই বদলে ফেলুন। জমে থাকা রক্তে নানান রকম জীবাণু সংক্রমণ করে আপনি আক্রান্ত হবেন যৌনাঙ্গের নানান রকম অসুখে ও ফাঙ্গাল ইনফেকশনে।

২. প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলের সময় নিজেকে ভালোভাবে পরিছন্ন করে নিন। না, কেবল পানি দিয়ে নন। উষ্ণ পানির সাথে জীবাণুনাশক সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তারপর স্থানটি জীবানুনাশক কোন লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ও মুছে নিয়ে তবেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

৩. প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবর্তনের সময় পরনের প্যানটিও বদলে ফেলবেন। এটা জরুরী। নাহলে এত কষ্ট করে পরিষ্কার হবার কোন মানে নেই।

৪. চেষ্টা করবেন অধিক শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্যাড ব্যবহার করতে। এউ পণ্য গুলোতে ব্যবহার করা হয় সিনথেটিক উপাদান এবং শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় ডায়অক্সিন, রেয়নের মত ক্ষতিকর রাসায়নিক। যত বেশী শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, এসব উপাদানের পরিমাণ ততই বেশী। আর এই সব উপাদান দায়ী ওভারিয়ান ক্যান্সার হতে শুরু করে সন্তান না হওয়া পর্যন্ত হরেক রকম ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য।

৫. কৃত্রিম সুগন্ধীউক্ত প্যাড দেখে আকৃষ্ট হয়ে কিনে ফেলবেন না। চটকদা বিজ্ঞাপনেও ভুলবেন না। এই উপাদানগুলো আপনার গোপন অঙ্গে কালো দাগ ও এলারজিক রিঅ্যাকশনের জন্য দায়ী।

৬. প্যাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক শোষণ ক্ষমতার দিকে না গিয়ে নরম তুলো বা সুতি কাপড়ের তৈরি অরগানিক প্যাড কিনুন। এখন আমাদের দেশেও এগুলো কিনতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে একটি পণ্যকে ভালো বললেই সেটা ভালো হয়ে যায় না।

৭. ব্লিডিং-এর পরিমাণ কম থাকলে এবং আপনি যখন বাড়িতে আছে, তখন চেষ্টা করুন প্যাড ছাড়াই থাকতে। ২৪ ঘণ্টা এক টানা প্যাড পরিধান থেকে গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ তো হবেই, সাথে ব্যাকটেরিয়াল ও ফাঙ্গাল ইনফেকশনও হবে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের নিয়ম কি?

স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রথমত যেকোন স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড কোনভাবেই তিন বা চার ঘণ্টার বেশি পরা উচিৎ নয়। মেয়েদের মাসিক ঋতুস্রাব শুরুর প্রথম ২/৩ দিন অতিরিক্ত রক্তস্রাব হয়। এসময় অনেকে ছয় বা সাত ঘণ্টা পর পর প্যাড পরিবর্তন করে। কিন্তু চতুর্থ বা পঞ্চম দিন থেকে স্রাব কমে আসায় একই ন্যাপকিন ২৪ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় ধরে অনেকে পরে থাকে। এইকারনে তাদের যে সমস্যা হতে পারে তা হলঃ যোনিপথে চুলকানি, প্রদাহ, অ্যালার্জি।

তাই, ঋতুস্রাবের প্রথম তিন দিন দুই ঘন্টা পরপর প্যাড পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ। যদি প্যাড শুকনো না থাকে অর্থাৎ উপরের অংশে রক্ত ভেসে আসতে দেখা যায় তবে সাথে সাথে প্যাড পরিবর্তন করা উচিৎ এবং কোনভাবেই চার ঘণ্টার বেশি একটি প্যাড পরা উচিৎ নয়। ঋতুস্রাবের তৃতীয় দিন হতে যেসব ন্যাপকিনে দ্রুত রক্ত টেনে নেয় এবং উপরের অংশ শুকনো রাখে অর্থাৎ “ড্রাই উইভ” ন্যাপকিন সেগুলো পরা একদম বাদ দিতে হবে। ঋতুস্রাবের শেষের দিকে অল্প রক্তপাত হয় এবং একারনে সেই রক্ত দ্রুত শুকিয়ে সেখানে জীবানুর আক্রমণ হয় যা যোনিপথের সংস্পর্শে এসে চুলকানি, ফোঁড়া, ইনফেকশন ইত্যাদি সৃষ্টি করে।

কাপড়ের ন্যাপকিন অনেকে একই কাপড় বারবার ধুয়ে ব্যাবহার করে। সেক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কাপড়ের ন্যাপকিন অবশ্যই একবার ব্যাবহারের পর গরম জলে সিদ্ধ করে ধুয়ে সরাসরি সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। সূর্যের আলো এখানে বেশ ভাল জীবানুনাশক হিসাবে কাজ করে। ঘরের কোনায় শুকাতে দিলে কোন লাভ নেই। অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় পরপর প্যাড পরিবর্তন করতে হবে।

কি ধরনের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা উচিত?

ন্যাপকিন ধরার আগে সাধারনত হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক নারীই অনুধাবন করেন না। কিন্তু হাত না ধুয়ে ন্যাপকিন ধরার কারনে হাতে লেগে থাকা নানা ধরনের জীবানু প্যাডে লেগে যায় এবং সেখান থেকে জরায়ুতেও প্রবেশ করতে পারে। মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ খেয়াল না করার ফলে এটির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে এবং আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।কমদামী বা নতুন ব্র্যান্ডের অন্য কোন পণ্যের সাথে ফ্রী পাওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিনটি ব্যবহারের আগে ২ বার ভাবুন। কতটা সস্তা কাঁচামাল ব্যবহারের কারণে তারা এটি এতো সস্তায় আপনার হাতে তুলে দিতে পারছে এবং সেটি ব্যবহার আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কিনা! সুগন্ধীযুক্ত, ঔষধযুক্ত বা রঙ্গিন প্যাড ব্যবহার করতে আপনার ভালো লাগতে পারে। কিন্তু এতে যে কেমিকেল ব্যবহার করা হয়, তা আপনার জন্যে মারাত্বক ক্ষতিকর হতে পারে। এ থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। উচ্চ শোষনক্ষমতা সম্পন্ন ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন বা আপনার রক্তপাত কম হচ্ছে বলেই সারাদিন ধরে একটি প্যাড পরে থাকবেন না। রক্ত বেশীক্ষন জমে থাকার ফলে সেখানে জীবাণু জন্ম নেয় ও আপনি সেটি দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হবেন। আগের ন্যাপকিনটি বদলে যখন নতুন ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন, তখন তার আগে ভালোভাবে হাত ও ওই স্থানটি পরিস্কার করে ধুয়ে ও মুছে নিন। প্রয়োজনে জীবানুনাশক ব্যবহার করুন। তারপর নতুন ন্যাপকিনটি পরে নিন। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে একটুখানি ভুল জন্যে বয়ে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চুলকানি, র‍্যাশ, ত্বকের নানান রকম অসুখ থেকে শুরু করে হতে পারে ক্যান্সার পর্যন্ত পিরিয়ডের সময়টুকুতে আজকাল সব নারীই নানা ব্র্যান্ডের পছন্দমত ও সুবিধামত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এটি যথেষ্ট আরামদায়ক ও আপনাকে যেকোন পরিবেশে রাখে স্বচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ। দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষা দেয় যে ন্যাপকিন গুলো, সেগুলো রক্তকে জেলে পরিণত করে ফেলে। কিন্তু ৫ ঘন্টা পরেই সেখানে ফাঙ্গাস জন্মাতে শুরু করে। আর ত্বকের সংস্পর্শে এসে নানা ধরনের জরায়ুর সংক্রমণ, লাল র‍্যাশ সহ চুলকানী হতে পারে।- প্যাডের নিচে থাকা প্লাস্টিকের কারণে রক্ত যেমন বাইরে বের হতে পারে না, তেমনি বাতাস চলাচলেও বাধা পড়ে। ফলে স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় সহজেই ব্যাক্টেরিয়া জন্ম নেয়। এ থেকে সংক্রমণও হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *