Home / ফিটনেস / কম খরচে বাড়তি ওজন কমানোর ৫টি খাবার!

কম খরচে বাড়তি ওজন কমানোর ৫টি খাবার!

বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলে হালকা হতে চান? স্বাস্থ্য রক্ষা এবং আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন অর্জনের ইচ্ছা হয়তো আপনার দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত চর্বি ও মেদ আপনার সেই ইচ্ছা পূরণের পথে বাধা। মেদহীন সুন্দর দেহের জন্য হাতের নাগালেই এমন কয়েকটি খাবার আছে, যা আপনার মেদ ঝরিয়ে ঝরঝরে হতে সাহায্য করতে পারে। জেনে নিন এসব খাবার কী:



১. ফুলকপি
ফুলকপি খেলে অম্লতার সমস্যা হয় বলে অনেকে এই সবজি এড়িয়ে যান। কিন্তু যাঁদের ফুলকপি সয়, তাঁরা ওজন কমাতে এই সবজি নিয়মিত খেতে পারেন। এক কাপ ফুলকপিতে দুই গ্রাম আঁশ ও ২৭ ক্যালরি থাকে। এতে থাকে ভিটামিন সি, যা আপনার বিপাকীয় প্রক্রিয়া উন্নত করে।



২. দারুচিনি
পলিফেনলসসমৃদ্ধ এই মসলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সুইডেনের গবেষকেদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারে দারুচিনি যুক্ত করলে তৃপ্তি বাড়ে। সঠিক পরিমাণে মসলা যুক্ত করলে ক্ষুধা ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করা যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই মসলার উপকার পেতে তেলযুক্ত খাবার এড়াতে হবে।



৩. মটরশুঁটি
সবুজ মটরশুঁটিতে ডায়েটারি ফাইবার, প্রোটিন ও ভিটামিন আছে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে ৬৭ ক্যালরি থাকে। এটি নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারে বা উচ্চ শর্করার সঙ্গে মিশিয়ে এটি খেলে মূল ক্যালরি কমে।



৪. পেয়ারা
প্রতি কাপ পেয়ারায় ১১২ ক্যালরি থাকে, যা নাশতায় খাওয়া যেতে পারে। এক কাপ পেয়ারা খেলে প্রতিদিন যে পরিমাণ আঁশ দরকার, এর ২০ শতাংশ পূরণ হয়। আঁশ ছাড়াও এতে প্রচুর পানি থাকে, যা পেট ভরা রাখে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে চিনি কমায়। বাড়তি হিসেবে ভিটামিন সি তো আছেই।



৫. লাল মরিচ
লাল মরিচে আছে ক্যাপসিসিন, যা চর্বি কমানোর হার বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদেরা বলেন, ক্যাপসিসিন তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে বিপাকীয় সক্রিয়তা বাড়ায়। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে বলা হচ্ছে, প্রতিদিন ৬ মিলিগ্রাম ক্যাপসিসিন খেলে নারী-পুরুষের উভয়ের ক্ষেত্রেই পেটের চর্বি কমানোর হার বাড়ে।



অবশ্য নিয়মিত এসব খাওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু কাজ করতে হবে আপনাকে; যা আপনি নিশ্চিত আনন্দের সঙ্গেই করবেন। ওজন কমানো বলে কথা। আর যা করবেন এর মধ্যে রয়েছে—

১. চিনি কম নয়, চিনি বাদ
আপনার প্রতিদিনের সব শর্করার চাহিদা থেকে চিনিকে বদলে ফেলুন। সেখানে দিন মধু। এর পাশাপাশি কৃত্রিম মিষ্টির উপাদানও বাদ দিতে হবে। চায়ে-কফিতে-খাবারে চিনি বাদ।



২. আর নয় জাঙ্ক ফুড
বার্গার কি জাঙ্ক ফুড? কিংবা নাগেট? এমনতর হাজারো মুখরোচক খাবার রয়েছে যা আপনার বারোটা বাজাচ্ছে। কোনটা ছাড়বেন, সেটা বড় কথা নয়। মোদ্দা কথা, প্রসেসড বা প্রসেস করা এসব খাবার ছাড়তে হবে।



৩. চালে-গমে খেয়াল রাখবেন
ঝকঝকে চাল, যা থেকে শিউলি-সাদা ভাত হবে; দেখতে ভালো, খেতেও। কিন্তু এটি আপনার রক্তে সমস্যা বাড়াবে। ব্লাড সুগারের মাত্রা বাড়াবে আর শেষ পর্যন্ত মেদ। আটার ক্ষেত্রেও একই কথা কিন্তু! সাদা আটা বা সাদা চাল ছেড়ে লাল আটা ও লাল চালের দিকেই ঝুঁকতে হবে। এটি স্বাস্থ্যসম্মত। নিরাপদ।



৪. প্রোটিন খান কিন্তু হিসাব করে
খাবারের মধ্যে থাকা প্রোটিন আপনার জন্য দরকার, কিন্তু তা হিসাবমতো। বাড়তি প্রোটিন কখনোই নয়। এ ক্ষেত্রে হিসাব করে খাবার খেলেই মাত্রার মধ্যে প্রোটিন গ্রহণের বিষয়টা নিশ্চিত করা যাবে।



৫. আলু বাদ
সব ধরনের খাবার থেকে আলু বর্জন বাঞ্ছনীয়। আলু আপনার শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। আর মেদ-ওজন এসব কমাতে এই ত্যাগ কোনো মহাত্যাগ নয় কিন্তু। কদিন না হয় ফ্রেঞ্চফ্রাই আর আলুর ভর্তা নাই-বা খেলেন। কদিন না হয় নাই-বা খেলেন চচ্চড়িতে, আলুর ঝোলে ভাত মাখিয়ে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *