Home / ত্বকের যত্ন / পিঠ ফর্সা করার ঘরোয়া ৫টি সহজ উপায়!

পিঠ ফর্সা করার ঘরোয়া ৫টি সহজ উপায়!

ব্যাকলেস পরতে খুব ইচ্ছা করছে। কিন্তু পিঠ তেমন ফর্সা নয়। তাই ইচ্ছা থাকলেও পরতে পারেন না। এই সমস্যা অনেকেরই। কিন্তু ভেবে দেখুন তো মুখের যত্ন যেভাবে করেন, পিঠেরও কি সেভাবে করেন? না তো? সেই জন্যই এই সমস্যা। মুখের মত পিঠও চায় একটু যত্ন। তাহলেই পিঠের এই কালো ভাব দূর করে ফর্সা উজ্জ্বল পিঠ পেতে পারেন। কীভাবে করবেন পিঠের যত্ন? আজ দিচ্ছি কিছু টিপস।



পিঠের ত্বক টানটান রাখতেঃ বয়সের সাথে পিঠের ত্বক যাতে কুঁচকে না যায়, তাই পিঠকে সুন্দর, মসৃণ ও ফর্সা রাখতে ব্যবহার করুন এই প্যাক। উপকরণঃ ২ টো ডিম কুসুমটা বাদ দিয়ে, ৩ চামচ দই, ৩ চামচ মুলতানি মাটি, মধু ১ চামচের একটু বেশি, ও জাস্ট একটু দু চিমটে বেকিং সোডা। পদ্ধতিঃ সব উপকরণগুলি ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই ঘন পেস্ট পিঠে লাগান। ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার করলেই হবে। পিঠের ত্বক থাকবে মসৃণ ও টানটান।



পিঠের ট্যান দূর করতেঃ পিঠে ট্যান পড়ে গেছে? ট্যান দূর করে পিঠকে ফর্সা করতে ব্যবহার করুন এই প্যাক। উপকরণঃ চন্দন ২ চামচ, টম্যাটোর পেস্ট ২ চামচ ও শসার পেস্ট ২ চামচ। পদ্ধতিঃ চন্দন পাউডারের সঙ্গে, টম্যাটো পেস্ট এবং শসার পেস্ট মিশিয়ে নিন। চাইলে টম্যাটো ও শসার রসও ব্যবহার করতে পারেন। সব উপকরণগুলি ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই ঘন পেস্ট গোটা পিঠে ভালো করে লাগান। স্নানের ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এটি লাগান। তারপর ধুয়ে ফেলুন।



পিঠের স্ক্রাবঃ মুখের মত পিঠেও স্ক্রাবিং করা দরকার। স্ক্রাবিং হিসাবে ব্যবহার করুন এই প্যাক। যা পিঠের মরা কোশ সরিয়ে, পিঠকে করে তুলবে ফর্সা উজ্জ্বল। উপকরণঃ ১ চামচের একটু বেশি চালের গুঁড়ো, ২ চামচ বেসন, ২ চামচ দই। পদ্ধতিঃ এইসব ক’টি উপকরণ ভালো করে মেশান। ঘন মিশ্রণ হলে পিঠে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ২০ মিনিটের বেশি রাখবেন না। সপ্তাহে দুদিন করুন। এতে পিঠের ছোট ছোট ব্রণও দূর হবে আবার পিঠ দেখবেন কেমন ঝকঝকে লাগবে।

দ্রুত পিঠ ফর্সা করতেঃ তাড়াতাড়ি পিঠের ত্বক ফর্সা করতে চাইলে কাজে লাগান বেসন ও হলুদকে। আমরা অনেকেই জানি ত্বক ফর্সা করতে বেসন ও হলুদ কতটা উপকারী। উপকরণঃ ৩ থেকে ৪ চামচ বেসন ও ২ চামচ হলুদ বাটা। পদ্ধতিঃ কাঁচা হলুদ আগে বেটে নিন। এরপর ২ চামচ হলুদ বাটার সঙ্গে ৪ চামচ বেসন মেশান। ভালো করে দুটো উপকরণ মিশিয়ে নিন। এবার এই ঘন পেস্টটা পিঠে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন করুন দ্রুত ফল পেতে।



পিঠের কালো দাগ দূর করতেঃ যদি পিঠে নানারকম কালো দাগ থাকে, সেগুলি দূর করতে ব্যবহার করুন এই প্যাক। পিঠে সান ট্যানের দাগ উপকরণঃ ৪ চামচ মুসুর ডাল বাটা, দই ২ চামচ ও একটু লেবুর রস। পদ্ধতিঃ মুসুর ডাল সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে ব্লেণ্ড করে নিন। এরপ এতে মেশান দই ও লেবুর রস। ভালো করে মিশিয়ে পিঠে, ঘাড়ে লাগান। ৩০ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুদিন করুন। পিঠের কালো দাগ দূর তো হবেই, পিঠ চকচকেও হবে।



আরও কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার –
১. পিঠের ত্বক পরিষ্কার রাখবেন। নাহলে লোমকূপে ময়লা জমবে। ২. স্নান করার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে পিঠে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। এতে পিঠের ত্বক নরম কোমল থাকবে। অনেক সময়ই পিঠের ত্বক খুব বেশি শুকিয়ে যায়। এটা হবে না। আর প্রতিদিন ম্যাসাজ করলে, পিঠে কালো দাগও পড়বে না। যদি অলিভ অয়েল না থাকে, তাহলে সরষের তেল ম্যাসাজ করলেও চলবে।



৩. রোদে ব্যাকলেস পরে বেরোনোর আগে, অবশ্যই পিঠে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। যেটি আমরা প্রায় করি না বললেই চলে। আর রোদে বেরোবার ১৫ মিনিট আগে লাগাবেন। ৪. ত্বক তৈলাক্ত হলে অয়েল ফ্রি প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন। আর পিঠে অয়েল কন্ট্রোল লোশান ব্যবহার করবেন। পিঠে অয়েল গ্ল্যান্ড এমনিতেই বেশি থাকে। তাই অয়েলি প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না। একদম কনফিডেন্টলি ব্যাকলেস পরতে এই টিপসগুলো রোজ মেনে চলুন। আর তারই মধ্যে সময় বার করে সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন এই প্যাকগুলি লাগিয়ে ফেলুন। ব্যাস আপনার পিঠ একদম রেডি থাকবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *