Home / ফিটনেস / ডায়েট ছাড়াই বাড়তি ওজন কমানোর সহজ উপায়!

ডায়েট ছাড়াই বাড়তি ওজন কমানোর সহজ উপায়!

শরীরের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে বেড়ে গেলে তা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অস্বস্তিকর। ওজন বাড়লে আপনার দৈহিক সৌন্দর্য কমে। ডাক্তাররা প্রায়ই সতর্ক করে দেন যে অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এমনকী ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পাতলা থাকা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওজন হ্রাস আপনার চেহারা এবং ব্যক্তিত্ব উন্নতি ছাড়াও রোগ থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। তাই আপনার উচ্চতার সঙ্গে ওজনের সামঞ্জস্য থাকতে হবে।



আমরা অনেকেই মনে করি, ডায়েট ছাড়া কখনোই ওজন কমানো সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ডায়েট ছাড়াও ওজন কমাতে বেশ কাজ করে।উচ্চতার তুলনায় ওজন সামান্য বেশি হলে এই কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ওজন উচ্চতার তুলনায় অনেক বেশি তারা ডায়েটের পাশাপাশি এই বিষয়গুলোর খেয়াল করতে পারেন। তাহলে কমতে পারে আপনার ওজন। আসুন জেনে নেই ডায়েট ছাড়া কীভাবে কমাবেন আপনার ওজন। ছোট থালায় খাওয়ার অভ্যাস ওজন কমাতে হলে ছোট থালাতে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। বড় থালায় খাবার বেশি ধরে, যা আপনার ওজন বাড়াবে।তাই ছোট থালায় খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।



তরল পানীয় ও ভারি খাবার খাওয়ার আগে ফল খানঃ ওজন কমাতে ফলের জুস, চিনি ছাড়া চা, কফি, উদ্ভিজ্জ স্যুপ খেতে পারেন।তবে মিষ্টি পানীয় গ্রহণ করবেন না। ভারি খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ফল খান। এতে ফল ভালোভাবে হজম হয় আর ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

ফল এবং শাক-সবজি শস্য দানা খানঃ ওজন কমাতে ফল ও সবজি খেতে পারেন প্রচুর পরিমাণে। ফল ও সবজিতে শরীরের ওজন বাড়ে না। ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সবজি খান প্রচুর পরিমাণে। সবজি রান্নার সময় তেল দেবেন না। কিছু শস্য দানা রয়েছে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। সাদা চালের পরিবর্তে বাদামি চাল গ্রহণ করুন। রুটি এবং পাস্তা সাদা শস্যের পরিবর্তে পুরো গম দিয়ে তৈরি করুন। ওটস এবং বার্লি ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে।


খাবার চিবিয়ে খানঃ দীর্ঘক্ষণ চিবিয়ে খাবার খেলে এর বেশ উপকার পাওয়া যায়।দীর্ঘক্ষণ খাবার চাবালে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়, কম খাওয়া হয়। এতে পেট খালি হওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে দেরিতে পৌঁছায়। এটা কেবল হজম ভালো হতেই সাহায্য করে না, খাওয়ার পরিমাণও কমে।ফলে ওজন কমে।

নিয়মিত ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম করবেনঃ ওজন কমাতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই।ফিট বাড়াতে ও শরীর পাতলা রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করবেন।সকালে নিয়মিত হাঁটা ছাড়াও সাঁতার, সাইক্লিং, নাচ এবং সিঁড়ি আরোহণ করা অনেক সাহায্য করে। ব্যায়াম ছাড়াও যোগব্যায়াম করলেও কমতে পারে আপনার ওজন।যোগব্যায়াম মন ও শরীর দুটোই ভালো রাখে। যোগব্যায়াম ভঙ্গি করার সঠিক পদ্ধতি শিখুন। ভালো ফলাফলের জন্য দৈনন্দিন যোগব্যায়াম করুন। ঘুমাতে হবেঃ অনেকের ধারণা ঘুমে ওজন বাড়ে। কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে হবে। ভালো ঘুম আপনার সু-স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।


গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়াঃ
গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গলে জন্মানো একটি ফল যা দেখতে অনেকটা কুমড়ার মতো। তবে এটি আকারে কুমড়ার চেয়ে ছোট। এটি ইন্দোনেশিয়ার গ্রীষ্মকালীন দেশীয় মশলা, যা গার্সিনিয়া গুম্মাই গুট্টা, তামারিন্ড ও ব্রিনডেলবাড়ি নামে পরিচিত। এটা অনেকে কাঁচা অথবা মসলা হিসেবে খেয়ে থাকেন। এ ফল থেকে একটি সহায়ক খাবার (পথ্য) বা ক্যাপসুল তৈরি করেছেন দিল্লির বিখ্যাত বায়ো-মেডিসিন চিকিৎসক সিদ্ধার্থ কুমাইল। নাম নিউট্রালাইফ গার্সিনিয়া। এই পথ্য খেয়ে বাড়তি ওজন কমিয়েছেন হলিউড ও বলিউডের নামী তারকারা। সাড়া ফেলেছে সারা দুনিয়ায়।

এ নিয়ে নানা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিশ্বের সুপরিচিত মেডিকেল সাময়িকীগুলো। তবে এ চিকিৎসকের ওজন কমানোর বিস্ময়কর সমাধানকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এআইআইএমএস এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো। বিপরীতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস তাদের প্রকাশনায় লিখেছে, এটি খেয়ে মাত্র তিন সপ্তাহে ৯০ ভাগ অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে এনেছে রোগীরা। আর নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রয় টেইলরি একে বলেছেন সবচেয়ে কম সময়ে সর্বোচ্চ ওজন কমানোর এক কার্যকর ফর্মুলা।


কীভাবে মেদ কমায়
গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এর সঙ্গে আরও উপাদান মিলিয়ে জাদু ফল মিশ্রণ ‘নিউট্রালাইফ গার্সিনিয়া’। এটি শরীরে বিপাক বৃদ্ধি করে, শরীরের টক্সিনগুলো শরীর থেকে বের করে দেয়। শক্তি দশ গুণ বৃদ্ধি করে এবং আক্ষরিক অর্থে জমে থাকা চর্বি রাতজুড়ে কমিয়ে আনে।



এই মিশ্রণটি শরীরে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে ক্যালোরি ক্ষয়ে সহায়তা করে। শরীরে ক্ষতিকারক উপাদানের বিষক্রিয়াজনিত কারণে মাথাব্যথা থেকে পরিত্রাণ দেয়। শরীরে চর্বি গলে যায়। এটি কেবল শরীরের ওজন কমায় না বিপাক প্রক্রিয়ারও উন্নতি ঘটায় যা শরীরের ফিনটেস বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরে চর্বি সঞ্চয়ের বিপরীতে পুষ্টির পরিমাণ সঠিক মাত্রায় নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে শরীরে সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে আপনাকে পাতলা হতে বা থাকতে স্থায়ীভাবে সহায়তা করে।


কীভাবে খাবেন?
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একটি করে ক্যাপসুল খেতে হবে আপনাকে। আর এতেই কমবে আপনার ওজন। এটির কার্যকারিতা প্রমাণে রোহান কাপুর নামে এক ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালানো হয়। তিনি ১০ বছর ধরে মাত্রাতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভুগছেন। প্রথমে তার কাছে এটি অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হলো। এ নিয়ে তার দুশ্চিন্তাও কম ছিল না। পরে তিনি নিউট্রালাইফ গার্সিনিয়া বেছে নেন। কারণ সম্পূরক খাবার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্যালিফোর্নিয়ার জিএনপির ল্যাবে ক্লিনিক্যালি এটি পরীক্ষিত ও অনুমোদিত। রোহান বলেন, এ থেকে ফল পেতে তাকে মাত্র ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *