Home / মনের জানালা / জীবন সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে যা করবেন!

জীবন সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে যা করবেন!

যে কোনো সম্পর্কেই বোঝাপড়াটা চমৎকার না হলে মুশকিল। কারণ পরস্পরকে বুঝতে না পারলে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। যে কোনো সম্পর্কেই ভালো সময়- খারাপ সময় দুটোই আসে। আর প্রেমের সম্পর্ক হলে তো কথাই নেই! মান-অভিমান, আবেগ, উত্তেজনা ও আরও নানা জটিল মনস্তাত্বিক সমীকরণ জড়িয়ে থাকে এ জাতীয় সম্পর্কে। তাই খুব সচেতনভাবে সামাল দিতে হবে সবদিক। জেনে নিন সম্পর্ক ভালো রাখার কিছু উপায় –

শত ব্যস্ততার মাঝেও একে অপরের জন্য সময় বের করুন। দুজন দুজনকে যতটা সম্ভব সময় দিন। সঙ্গীর সঙ্গে যতটা সময় কাটাবেন ততই একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানবেন। একে অপরকে বুঝতে পারবেন। একে অপরের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলুন। সঙ্গীর প্রতি আপনার ভালোবাসা ব্যক্ত করুন, কৃতজ্ঞতা জানান, তার প্রশংসা করুন। এর ফলে সম্পর্ক আরও সুন্দর, আরও গভীর হবে।

উপহার পেতে ভালোবাসে সবাই। কোনো বিশেষ কারণ বা উপলক্ষ ছাড়াই ছোট ছোট উপহার দিন আপনার সঙ্গীকে। এর ফলে আপনারা একে অপরের জন্য কতটা ভাবেন বা একে অপরের কতটা খেয়াল রাখেন, তা বোঝা যায়।

স্পর্শ একে অপরের প্রতি অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। সম্পর্কের আবেগ, উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ মানুষের কাছ থেকে বিশেষ স্পর্শ বা ছোঁয়া মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অক্সিটোসিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সঙ্গীর হাত ছোঁয়া, হাত ধরা, ভালোবেসে জড়িয়ে ধরা, কাঁধে বা বুকে মাথা রাখা সম্পর্কের গভীরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শুধু কথায় নয়, মুখে যা বলছেন, সঙ্গীর জন্য কাজে তা করে দেখান। পরিস্থিতি বা সুযোগ বুঝে সঙ্গীকে এমন কিছু করে দেখান, যাতে তিনি বোঝেন আপনার জীবনে তার জায়গা বা গুরুত্ব কতটা!

একটি সম্পর্ক থেকে সে কি চায় তা বোঝার চেষ্টা করুন। সবার চাহিদা একরকম নয়। আপনি কেমন সম্পর্ক চান, সেও তা চায় কিনা বা তার চাহিদা আপনি পুরন করতে পারবেন কিনা এই সব কিছু বিচার করে নেয়া খুব জরুরী। কারন একবার সম্পর্ক হয়ে গেলে এই ব্যাপারগুলই সম্পর্ক কে নষ্ট করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আপনাকে সে কতটুকু প্রাধান্য দেয় জেনে নিন। আপনিও তাকে তার চাহিদা অনুযায়ী প্রাধান্য দিতে পারবেন কিনা বুঝে নিন।

দুজন একজন আরেকজন কে আলাদা ভাবে না দেখে চেষ্টা করুন একসাথে সব কিছু করতে। নিজেদের ভিন্নতা গুলোকে মেনে নেয়আর চেষ্টা করুন। একে অপরের ভিন্নতা কে যথেষ্ট সম্মান দিন। কোন কিছু লুকোবেননা।খোলালমেলা ভাবে কথা বলুন।অপর জনের কোন কাজ পছন্দ না হলে সরাসরি বলুন। এতে ভুল বঝাবুঝি কম সৃষ্টি হবে।

ওপর জনের কথা শুনুন। সত্যিকার অর্থে বোঝার চেষ্টা করুন অপরজন কি বলতে চাইছে। অপরজনকে কোনভাবেই ছোট করে দেখবেন না। দোষ যারই হোক চেষ্টা করুন আগে ক্ষমা চাইতে। আমরা মনে করি এতে আমরা ছোট হচ্ছি। এটা ভুল ধারনা। বরং প্রতিবার ক্ষমা চাওয়ার সময় আপনার সাথে তার সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

নিজেকে মর্যাদা দিন। সঙ্গিকে নিয়ে নিরাপত্তাহিনতায় ভুগবেন না। একজন আর একজনকে সাহায্য করুন। যে কোন ব্যাপারে, যতটুকু সম্ভব। একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে খারাপ সময় আসবে আবার তা চলেও যাবে। তাই খারাপ সময়ে দিশেহারা না হয়ে তখন একজন আর একজন কে আরও বেশি বোঝার চেষ্টা করুন। হুট করে কোন সিদ্ধান্ত না নেয়াই ভাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *