Home / ত্বকের যত্ন / মুখ, গলা, হাতের আঙুল থেকে আঁচিল কীভাবে দূর করবেন সহজ উপায় জানুন!

মুখ, গলা, হাতের আঙুল থেকে আঁচিল কীভাবে দূর করবেন সহজ উপায় জানুন!

আপনার মুখ, গলা, হাত বা আঙুলের কোনো জায়গায় আঁচিল হয়েছে, আর তাই নিয়ে আপনাকে সবাই মিলে খেপাচ্ছে, এই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই আপনার হয়েছে। ভেবে দেখুন তো, আপনার যেখানে সেখানে অবাঞ্ছিত আঁচিল যদি গজিয়ে ওঠে, তাহলে কি বাজেই না লাগে। এদিকে কীভাবে তাদের হাত থেকে মুক্তি পাবেন, তাও ভেবে পান না। আজকের আর্টিকলে রইলো কয়েকটি সহজ টিপস।

আপনার হাতে, গলায়, আঙুলে বা মুখের কোনো জায়গায় অনেকসময় চামড়া গোল হয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। একেই বলে আঁচিল। এটা হয় কিন্তু ভাইরাস আক্রমণের দ্বারা। এমনিতে এগুলোতে কোনো ব্যথা না হলেও মাঝে মাঝে কিন্তু খানিক ব্যথা হয়। আর যেখানে সেখানে আঁচিল অমন গজিয়ে উঠলে সেটা তো দেখতেও ভালো লাগে না। কিন্তু ওই ছোট্ট আঁচিল তাড়ানোর জন্য কেনই বা পয়সা খরচ করে ক্রিম কিনবেন বা ডাক্তার দেখাবেন? তার থেকে ঘরে বসে আঁচিল দূর করার সহজ উপায় জানুন।

অ্যাপল সিডার ভিনিগারঃ
আঁচিল সহজে তাড়ানোর জন্য এটা কিন্তু দারুণ টিপস। কারণ এতে থাকা অ্যাসেটিক অ্যাসিড আঁচিলের কোষ ধ্বংস করে খুব তাড়াতাড়ি আঁচিল দূর করে। উপকরণঃ অ্যাপল সিডার ভিনিগার ১ চামচ, তুলোর বল পরিমাণ মতো, ব্যান্ডেজ।

তুলোর বল অ্যাপল সিডার ভিনিগারে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ওই তুলোটা আপনার আঁচিলের জায়গায় ধরুন। ওর ওপরে ব্যান্ডেজ দিয়ে আটকে নিন। সারারাত রাখুন। প্রত্যেক রাতেই নিয়ম করে এটা করুন। দেখবেন এক সপ্তাহের মধ্যে আঁচিল গায়েব হয়ে গেছে।

টি ট্রি অয়েলঃ
টি ট্রি অয়েল খুব সহজেই চামড়ার ভেতরে ঢুকতে পারে। আর এতে থাকা ন্যাচারাল অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান কিন্তু আপনার আঁচিলের ভাইরাসকে খুব সহজে তাড়াতে পারে। উপকরণঃ টি ট্রি অয়েল ৩-৪ ফোঁটা, জল ২ চামচ।

জলের মধ্যে কয়েকফোঁটা টি ট্রি অয়েল দিয়ে মিশিয়ে নিন। এরপর ওটা আপনার আঁচিলে লাগিয়ে নিন। এমনিই শুকোতে দিন। দিনে বার পাঁচেক করে তো করবেনই। তাহলে দেখবেন তাড়াতাড়ি ফল পাচ্ছেন।

অরিগ্যানো অয়েলঃ
অরিগ্যানো তেলে থাকা সার্ভাক্রলের অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ কিন্তু সহজে আঁচিল তাড়াতে পারে। তাই এটা ব্যবহার করে দেখুন। উপকরণঃ অরিগ্যানো অয়েল ১ চামচ, অলিভ বা নারকেল তেল ৮ চামচ।

অরিগ্যানো অয়েল আর অলিভ বা নারকেল তেল একসাথে ভালো করে মিশিয়ে কয়েক ফোঁটা আপনার আঁচিলে লাগিয়ে নিন। এমনিই শুকোতে দিন। এই মিশ্রণটি আপনি এয়ার টাইট কন্টেনারে রেখে অনেকদিন ব্যবহার করতে পারেন। দিনে অন্তত ৪-৬ বার করতে ভুলবেন না।

ডাক্ট টেপঃ
আঁচিল তাড়ানোর এটা কিন্তু খুব সহজ পদ্ধতি। এমনকি ডাক্তাররাও এটা করতে বলেন। এই ডাক্ট টেপ আপনার আঁচিলের অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ করে দেয়, ফলে আঁচিল আপনিই খসে পড়ে। উপকরণঃ ডাক্ট টেপ, ঝামাপাথর।

পদ্ধতি
আপনার আঁচিলের ওপর ডাক্ট টেপ কেটে লাগিয়ে রাখুন। দেখবেন একসময় নিজে নিজেই আঁচিল খসে গেছে। এরপর ঝামাপাথর দিয়ে জায়গাটা স্ক্রাব করে নিন ভালো করে। দেখবেন আঁচিলের আর চিহ্ন মাত্র নেই।

কলার খোসাঃ
অবাক হচ্ছেন তো? কলার খোসা কিন্তু সত্যিই আঁচিল দূর করতে দারুণ কাজে দেয়। এতে থাকা এনজাইম আঁচিলকে খুব তাড়াতাড়ি দূর করে আর স্কিনকে রিজুভিনেট করে।

আপনার আঁচিলের ওপর কলার খোসা কয়েক মিনিট ধরে ভালো করে ঘষুন। এছাড়াও আঁচিলের ওপর কলার খোসা রেখে ব্যান্ডেজ দিয়ে আটকে রাখতে পারেন। নিয়ম করে এটা করে গেলে কিন্তু সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ফল পাবেন।

যেকোনো রকমের আঁচিল যদি দূর করতে চান, তাহলে নারকেল তেলকে বানান আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড। কারণ এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিডের অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল গুণ আপনার আঁচিলকে সহজেই দূর করবে। তাছাড়া নারকেল তেল আপনার ত্বককে খানিক আরামও দেবে।

নারকেল তেল পরিমাণ মতো নিন। নারকেল তেল সামান্য গরম করে আঁচিলের ওপর ভালো করে মালিশ করুন যতক্ষণ না আপনার স্কিন নারকেল তেলকে পুরোপুরি শুষে নেয়। তবে একদম ধোবেন না। দিনে ২-৩ বার করুন।

আঁচিল দূর করতে রসুন কিন্তু দারুণ কাজের। কারণ এতে থাকা অ্যালিসিন খুব শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল হিসেবে কাজ করে যা নানারকম ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাসকে সহজেই মেরে ফেলে। তাই আঁচিলের ভাইরাস দূর করতেও রসুন দারুণ কার্যকরী।

রসুন নিন ২-৩ কোয়া। রসুনের খোসা ছাড়িয়ে থেঁতো করে নিন। এরপর ওই পেস্টটা আপনার আঁচিলের জায়গায় মাখিয়ে রাখুন। এছাড়া রসুন এমনিও খেতে পারেন। যতদিন না আঁচিল দূর হয়, ততদিন এটা নিয়ম করে করে যান।

ক্যাস্টর অয়েলঃ
আঁচিল তাড়াতে আপনি ক্যাস্টর অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এতে খানিক সময় লাগবে। ক্যাস্টর অয়েলের অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ আপনার আঁচিলের ভাইরাসকে খুব তাড়াতাড়ি মেরে ফেলে। ফলে আঁচিল দূর হয় সহজে। ক্যাস্টর অয়েল পরিমাণ মতো।

ক্যাস্টর অয়েল আপনার আঁচিলের জায়গায় নিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এরপর ওভাবেই রেখে দিন। নিয়ম করে দিনে ২-৩ বার করে যদি করেন, তাহলে তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।

বেকিং সোডাঃ
জেনিটাল আঁচিলের ক্ষেত্রে আপনি অনায়াসে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এতে থাকা কস্টিক এজেন্ট আপনার আঁচিলকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। বেকিং সোডা ৩-৪ চামচ, জল ১ টা ছোট বাটি।

এক বাটি জলে বেকিং সোডা গুলে নিন। এরপর আপনার আঁচিলের জায়গাটা ওই জলে চুবিয়ে রাখুন আধঘণ্টা। তারপর এমনিই শুকোন। যতদিন না আঁচিল একেবারে দূর হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এটা করে যাবেন।

ভিটামিন ক্যাপসুলঃ
আঁচিল দূর করতে ভিটামিন এ কিন্তু দারুণ কাজে দেয়। তাছাড়া এটা ব্যবহার করলে কোনো দাগও থাকবে না। আর এমনিতে ভিটামিন এ কিন্তু আঁচিলের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতাকেও বাড়িয়ে তোলে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ১ টা।

ক্যাপসুল ভেঙে তার মধ্যের তেলটা আপনার আঁচিলে লাগিয়ে রাখুন। এই ভিটামিন এ ক্যাপসুলের বদলে আপনি ফিশ অয়েল ক্যাপসুলও ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভিটামিন সি আর ভিটামিন ই ক্যাপসুলও কিন্তু আঁচিল দূর করতে দারুণ কাজে দেয়। তবে হ্যাঁ, নিয়ম করে ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

হলুদঃ
আপনার ত্বকের যেকোনো সমস্যায় যে হলুদ দারুণ কাজে দেয়, তা তো জানেনই। আর এর অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল প্রপার্টি কিন্তু আঁচিলের ভাইরাসকে সহজে দূর করতেও একনম্বর। হলুদ গুঁড়ো ১ চামচ, জল ২ চামচ।

জলে হলুদ গুঁড়ো গুলে পেস্ট বানিয়ে নিন। এরপর আঁচিলের ওপর এই মিশ্রণ ৩০ মিনিট মাখিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। আর আপনার ত্বকে যদি হলুদের বিচ্ছিরি দাগ হয়ে যায়, তাহলে ওর ওপর খানিক লেবুর রস ঘষে নিতে পারেন। দিনে ১-২ বার নিয়ম করে করুন। উপকার পাবেন।

আলুঃ
আলুর রসে থাকা অ্যাসিড আপনার আঁচিলের কোষগুলোকে ডি-হাইড্রেট করে আঁচিল সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে মেরে ফেলে। তাই সহজে আঁচিল তাড়াতে চাইলে আলুর রসকে ব্যবহার করুন। আলুর রস ১ চামচ।

আলুর রস আপনার আঁচিলের জায়গায় লাগান। তারপর একে নর্মালি শুকোতে দিন। ধোবেন না। দিনে বেশ কয়েকবার করে করুন, দেখবেন ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে আঁচিল আস্তে আস্তে ছোট হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *