Home / মা ও শিশুর যত্ন / গর্ভাবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক করার অজানা ৯ সুবিধা

গর্ভাবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক করার অজানা ৯ সুবিধা

‘গর্ভাবস্থা’ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা এখানেই। প্রথমবারের মতো মা হবে, এমন অনেক নারীর মনে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় মাত্র একবার শারীরিক সম্পর্কে ১০ লাখ সুবিধা নিহিত রয়েছে। এসময় মিলনের ফলে মা ও বাচ্চা দুজনই সুস্থ থাকেন। তবে মা ও অনাগত সন্তানের সুস্থতার বিষয়টি মাথায় রেখে অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বোল্ডস্কাই’এর এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে গর্ভাবস্থায় শারীরিক সম্পর্কের নানা উপকারিতা। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক সুবিধাগুলো —

উত্তেজনা বাড়ায়- শারীরিক মিলনের সময় নারীর শরীরে প্রজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন নামক দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। এতে ক্লান্তি মুছে গিয়ে গর্ভবতী নারী আরও সজীব হয়ে ওঠেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে- শারীরিক সম্পর্কে শরীরের ওজন কমে। একজন গর্ভবতী নারীর জন্য যৌন মিলন ব্যায়ামের মতো কাজ করে। এতে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমে না। স্বাস্থ্য ভালো থাকে। অসহ্য ব্যথা কমায়- প্রেগন্যান্সির সময় নারীদের শরীরে নানা রকম ব্যথা দেখা দেয়। এ সময় চিকিৎসকরা যেকোন ব্যথানাশক ওষুধ থেকে বিরত থেকে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের পরামর্শ দেন। পর্যাপ্ত ঘুম- মিলনের ফলে এন্ডোরফিন নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা গর্ভবতী নারীর অনিদ্রা থেকে মুক্তি দেয়।

সংক্রমণ মুক্ত- গর্ভাবস্থায় মায়ের নানা রোগে সংক্রমিত হওয়ার প্রবণতা সব থেকে বেশি থাকে। এসময় যৌন মিলন যেন নারীর শরীরে ওষুধ হিসেবে কাজ করে। কেননা মিলনের ফলে মায়ের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়, যা তার শরীরকে যেকোনো সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখে। এতে মৌসুমিগত ঠাণ্ডা ও জ্বরজনিত ভাইসার সহজেই আক্রান্ত করতে পারে না।

মন ভালো রাখে- শারীরিক সম্পর্কের ফলে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মা ও বাচ্চাকে প্রফুল্ল ও নিশ্চিন্ত রাখে। তাই প্রিয়জনের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগাভাগি করার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করুন। ঘন ঘন টয়লেট- প্রেগন্যান্সিতে ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া নিয়ে অনেকেই বিরক্ত। গর্ভাবস্থায় নারীদের এই বিরক্তি দূর করতেই ডাক্তাররা নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের পরামর্শ দেন। শারীরিক সম্পর্কের ফলে নারীদের জরায়ুর পেশীগুলো আরও মজবুত হয়। এতে প্রসব বেদনায় শক্তি পান তারা। এছাড়া ঘন ঘন প্রসাবের চাপও কমে যায়।

ব্লাড সার্কুলেশন ভালো থাকে- আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, প্রেগন্যান্সির সময় শারীরিক সম্পর্ক শরীরে রক্তচাপের পরিমাণ কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেগন্যান্সির প্রথম তিন মাসে নারীদের মধ্যে ক্লান্তি ও অলসতা দেখা দেয়। এসময় মিলনের ফলে মায়ের শরীরে বেশ কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় যা বাচ্চার বিকাশে সহায়তা করে। পাশাপাশি মায়ের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।

জটিলতা হ্রাস- সাধারণত গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর থেকে নারীর শরীরে গর্ভপাতের মতো নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি ব্লাড প্রেসারে মাত্রাও স্বাভাবিক থেকে বেড়ে যায়। তাই গর্ভকালীন সময়ে শারীরিক সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *