Home / দাম্পত্য জীবন / যে ৮টি কাজ মধুময় করে তুলবে শারীরিক ভালোবাসা

যে ৮টি কাজ মধুময় করে তুলবে শারীরিক ভালোবাসা

কেবল কাগজে দুটি সই বা সামাজিক স্বীকৃতি পেয়ে গেলেই দাম্পত্য হয় না। দাম্পত্যে চাই শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা, পরস্পরের সাথে জীবন বিনিময় করার আন্তরিক ইচ্ছা। একই সাথে, সুখী ও সুস্থ দাম্পত্য জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে দাম্পত্যতা বা দাম্পত্যায় সন্তুষ্টি। কেবল সন্তান জন্ম দেয়াই দাম্পত্যর কাজ নয়, বরং জীবন সঙ্গীকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতেও ভূমিকা রাখে শারীরিক ভালোবাসা।

স্বামী বা স্ত্রী যখন পরস্পরের সাথে দাম্পত্যতা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন না, তখনই দাম্পত্যে আসে ভাটার টান। সেই ভাটার টানে একসময়ে ভেসে যায় ভালোবাসা, রয়ে যায় কেবলই কলহ ও অসন্তুষ্টি। আর সেই সুযোগে উপস্থিত হয় পরকীয়া কিংবা ডিভোর্সও। দাম্পত্য দাম্পত্যতা নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু বলতে পারছেন না কাউকে, এমন সমস্যায় ভুগছেন হয়তো অনেকেই। এই ফিচারটি দাম্পত্য যৌনতার সেই সমস্যাগুলো সমাধানই তুলে ধরবে।

১. স্বচ্ছ ধারণা
যৌন জীবনে সুখী হবার জন্য প্রথমেই খতিয়ে দেখতে হবে দুজনের কারো এসব ব্যাপারে অজ্ঞতা আছে কিনা। কেননা অজ্ঞতা বা ভ্রান্ত ধারণা এমন কিছু প্রত্যাশার জন্ম দেয় যা বাস্তবে অসম্ভব। আর এটা তখনই সম্ভব যখন যৌনতা সম্পর্কে থাকবে স্বচ্ছ জ্ঞান। অনেকেই পর্ন ছবিকে দাম্পত্য জ্ঞানের উৎস মনে করেন যা অত্যন্ত ভুল ধারণা। বাস্তব জীবনে কেউই পর্ন ছবির তারকা নয় , বাস্তব জীবনের দাম্পত্যও পর্ন ছবির মত নয়। তাই ভ্রান্ত ধারণা বাদ দিয়ে চেষ্টা করুন যৌনতার ব্যাপারে সঠিক ও স্বচ্ছ ধারণা রাখতে।

২. বুঝতে চেষ্টা করুন কেন দুজনের মিলছে না
যৌনতার ব্যাপারটি পোশাকের মতন। এক পোশাক যেমন সকলের গায়ে লাগে না, তেমনই সবার সাথে সবার দাম্পত্য চাহিদাগুলো মিলবে ব্যাপারটি তেমন নয়। এমন হতেই পারে যে দুজন মানুষ সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারছেন না। এর মূল কারণ হচ্ছে দুজনের পছন্দ-অপছন্দ আলাদা হওয়া। তাই প্রথমেই খুঁজে বের করতে হবে অমিলগুলো কোথায়।

৩. পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হোক
জানতে হবে সঙ্গী পছন্দ-অপছন্দ, নিজেরগুলোও জানাতে হবে। মানুষের শরীর বাদ্যযন্ত্রের মত,এর থেকে সুর সৃষ্টি করতে চাই সাধনা ও ধৈর্য। ভালোবাসায় দাম্পত্যতা একটি সুন্দর ব্যাপার, কিন্তু সেই সৌন্দর্য কতজনে বুঝতে পারেন বা অনুভব করতে পারেন? অনুভব সম্ভব, যখন খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে পরস্পরের পছন্দগুলো জেনে নেবেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। একইসাথে অপছন্দের ব্যাপারগুলো এড়িয়ে যাবেন দুজনেই।

৪. একটু এডভেঞ্চার নিয়ে আসুন জীবন
খুব আকর্ষণীয় একটি ব্যাপারও যদি রোজ রোজ একই রকম থাকে, তবে একঘেয়ে হয়ে যায়। দাম্পত্যর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি একদম সত্য। একই স্থানে, একই ভাবে, একই রকম দাম্পত্যয় মানুষের বিরক্তি চলে আসে। এমন সময়ে প্রয়োজন একটু ভিন্নধর্মী ভাবনা। নতুন জায়গায় বেড়াতে যাওয়া, নানান রকম পজিশন চেষ্টা করা, সেক্স টয়ের ব্যবহার বা এমন অনেক কিছুই যা দুজনে পছন্দ করেন।

৫. বাচ্চা নেয়ার চাপ থেকে নিজেদের মুক্ত করুন
দাম্পত্য যৌনতাকে কখনোই আপনি উপভোগ করতে পারবেন না, যখন মাথায় থাকবে সন্তান নেয়ার চাপ। কেবল সন্তান নেয়ার জন্যেই যৌনতা নয়, এটা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে। প্রথমে পরস্পরকে আবিষ্কার করুন, পরস্পরের সঙ্গ কিছুদিন উপভোগ করুন। তারপর সময়-সুযোগ বুঝে সন্তানের পরিকল্পনা করুন।

৬. প্রেম গভীর হবার সময় দিন
যৌনতা ব্যাপারটি কেবল শারীরিক নয়, বরং অনেক বেশি মানসিক। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে মেয়েরা খুব গভীরভাবে কারো প্রেমে না জড়িয়ে গেলে তার সাথে আনন্দময় যৌন সম্পর্ক উপভোগ করতে পারে না। তাই দাম্পত্যে যৌনতা আনন্দময় করতে প্রেমকে উপভোগ করুন। মনের প্রেম থেকে ধীরে ধীরে শরীরে পৌঁছান।

৭. ফোরপ্লে হোক রোমান্টিক
যৌনতায় ফোরপ্লে খুব জরুরী একটি ব্যাপার। বেশীরভাগ দম্পতির ক্ষেত্রেই এই ব্যাপারটি নেই বা থাকলেও অল্প কয়েক মিনিটে ফুরিয়ে যায়। ফোরপ্লে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে কিছু মধুর মুহূর্তের জন্য। সঙ্গীকে আদর করার পাশাপাশি তার প্রশংসাও করুন। এই ব্যাপারটি চর্চা করার মত, শিখে নিলে ঠকবেন না।

৮. চিকিৎসক বা কাউন্সিলারের পরামর্শ নিন
নিজেদের চেষ্টায় যদি কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ না হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে লজ্জা করলে চলবে না। শারীরিক- মানসিক সমস্যা সমাধানে চিকিৎসক হতে পারেন পরম বন্ধু। দাম্পত্য কোন ট্যাবু নয়, জীবনের অতি পুরাতন একটি ব্যাপার। দাম্পত্যকে লজ্জা না পেয়ে শেখার চেষ্টা করুন, দাম্পত্য হয়ে উঠবে সুন্দর।

তথ্যসুত্রঃ দেহ.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *