Home / ত্বকের যত্ন / ত্বক সুন্দর ও ফর্সা রাখতে এই ৮ টি নিয়ম মেনে চলুন

ত্বক সুন্দর ও ফর্সা রাখতে এই ৮ টি নিয়ম মেনে চলুন

বছরের এই একটা সময়ে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখাটা বাস্তবিকই একটা কঠিন কাজ। সূর্যের তাপদাহে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ভয় তো থাকেই। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে স্কিন খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। তাহলে উপায়! কোনও ভয় নেই। এই প্রবন্ধে উল্লেখিত নিয়মগুলি মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলেই দেখবেন ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেও আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং সুন্দর থাকবে।

বেশিরভাগ মহিলাই মনে করেন, গরম কালে স্কিন পুড়ে যাওয়া ছাড়া ত্বকের আর কোনও ক্ষতিই হয় না। তাই তো বোতল বোতল সান স্ক্রিন মেখেই শান্তিতে দিনযাপন করেন। এদিকে যে প্রতিদিন অল্প অল্প করে ত্বকের ক্ষতি হতে থাকে, সেদিকে খেয়ালই থাকে না তাদের। আসলে শুধুমাত্র সান স্ক্রিন মেখে গরমের সময় ত্বককে সুন্দর রাখা একেবারেই সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরে আরও অনেক কিছুর। যেমন…

১. স্কার্বঃ গরমকালে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ খুব বেড়ে যায়। যে কারণে নিদিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ঘরোয়া স্কার্বের সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করা একান্ত প্রয়োজন। এমনটা করলে ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্থর সরে যায়। সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ারাও নিজের ঘর বানানোর সুযোগ পায় না। প্রসঙ্গত, যাদের ত্বক খুব ড্রাই, তারা গরম কালে বেশি করে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি স্কার্ব ব্যবহার করবেন। কারণ এমনটা করলে ত্বক আদ্রতা ফিরে পাবে। ফলে শুষ্কতা দূর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক রোগের প্রকোপও হ্রাস পাবে।

২. বিউটি ক্রিমঃ স্কিনকে আদ্র রাখার পাশাপাশি ত্বককে উজ্জ্বল এবং সুন্দর রাখতে বিউটি ক্রিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো গরমকালে এই ধরনের ক্রিম বেশি করে ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. হেয়ার স্প্রেঃ অতিরিক্ত তাপ প্রবাহের কারণে এই সময় চুল খুব শুষ্ক হয়ে যায়। তাই তো হেয়ার স্প্রের ব্যবহার গরম কালে খুব জরুরি। প্রতিদিন যদি হেয়ার স্প্রে দিয়ে চুলের পরিচর্যা করা যায়, তাহলে চুলের আদ্রতা ফিরে আসে। সেই সঙ্গে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও চুল রক্ষা পায়।

৪. ফেসিয়াল মাস্কঃ অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি করার ক্ষমতা গরম কালে খুব বেড়ে যায়। যে কারণে ত্বক পুড়ে যাওয়ার পাশপাশি সৌন্দর্যও কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে ফেসিয়াল মাস্ক আপনাদের দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন মুখে এবং সারা শরীরে ফেসিমাল মাস্ক লাগিয়ে মাসাজ করলে ত্বকের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সুযোগই পায় না। সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। তাই তো গরম কালে যদি নিজের রূপ বজায় রাখতে চান, তাহলে ফেসিয়াল মাস্ক ব্যবহার করাটা মাস্ট!

৫. এস পি এফ সমৃদ্ধি লিপ বাম ব্যবহার জরুরিঃ গরমকালে শুধু ত্বক খারাপ হয়ে যায় না, ঠোঁটের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই তো এই সময় ব্যাগে লিপ বাম রাখাটা জরুরি। কারণ এই বিউটি প্রডাক্টটি ঠোঁটকে দীর্ঘক্ষণ আদ্র রাখে, সেই সঙ্গে অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও রক্ষা করে। লিপ বাম শুধু শীত কালের জন্য, গরম কালে এর কী কাজ! এমন ধরণাকে তাই ভুলে যাওয়ার সময় এসে গেছে মনে হয়, তাই না!

৬. হেয়ার মস্কঃ গরমকালে কি আপনার চুল খুব খারাপ হয়ে যায়? তাহলে আজ থেকেই ব্যবহার শুরু করুন হেয়ার মাস্ক। কারণ এটি সূর্যালোকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুলকে বাঁচায়। সেই সঙ্গে মাথায় চুলকানি এবং চুল পরে যাওয়ার সমস্যা কেও দূর করে। তাই তো অতিরিক্ত তাপের হাত থেকে চুলকে বাঁচাতে এই নিয়মটা মেনে চলা আবশ্যিক। না হলে চুলের যে কী দশা হবে, তা বলে দেওয়ার নয়!

৭. সান স্ক্রিনঃ গরকালের সবথেকে কাজের বন্ধু হল এই বিউটি প্রডাক্টটি। কেন আবার, এস পি এফ সমৃদ্ধ সান স্ক্রিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও ত্বককে রক্ষা করে। তবে এস পি এফ-৩০ অথবা এস পি এই-৫০ সমৃদ্ধ সান স্ক্রিন ব্যবহার করবেন। নচেৎ কোনও উপকারই পাবেন না কিন্তু! কারণ এস পি এফ যত বেশি হবে, তত সেই সান স্ক্রিন ত্বককে ভাল রাখবে।

৮. মিস্ট: এই সময় প্রচন্ড ঘামের কারণে ত্বকের সৌন্দর্য অনেকাংশেই হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে ফেসিয়াল মিস্ট আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? মাঝে মধ্যেই অল্প করে ফেসিয়াল মিস্ট মুখে স্প্রে করলে ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকে। সেই সঙ্গে মুখ তেলতেলে হয়ে যাওয়ারও সুযোগ পায় না। ফলে একদিকে যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, তেমনি নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *