Home / ফিটনেস / কিটো ডায়েট যা মাত্র ১৪ দিনে ১০কেজি ওজন কমাতে পারে, যা জানা দরকার

কিটো ডায়েট যা মাত্র ১৪ দিনে ১০কেজি ওজন কমাতে পারে, যা জানা দরকার

যারা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকেন এবং এ নিয়ে জানাশোনার চেষ্টা করেন তাদের কাছে কিটো বা কিটোজনিক ডায়েট একটি বেশ পরিচিত নাম। সমসাময়িককালে এ নিয়ে বেশ লেখালেখি, নতুন রেসিপি ও ভিডিও ব্লগের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। তবে এ ধরনের ডায়েট শুরু করার আগে এ সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিতে হবে কেননা এতে উপকারের পাশাপাশি পাশ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

কিটো ডায়েট কী?
কিটো ডায়েট হচ্ছে প্রায় শর্করাবিহীন একটি ডায়েট প্লান। শর্করার বদলে এখানে পরিমাণমতো প্রোটিন এবং চর্বি গ্রহণ করতে বলা হয়। এটি ওজন কমানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস, দুশ্চিন্তাসহ বেশ কয়েকটি প্রদাহ থেকে মুক্তিতে দারুণ কাজে দেয়। কিটোজেনিক ডায়েট চার্টে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শতকরা মাত্র ৫ ভাগ কার্বহাইড্রেট এবং ৭০ থেকে ৮০ ভাগ চর্বিজাতীয় খাবার থাকে।

কীভাবে কাজ করে?
যেহেতু কিটোজেনিক ডায়েটে শর্করার পরিমাণ খুবই কম থাকে ফলে লিভার চর্বিকে কিটোনেস ও ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরিত করে। এতে করে কিটোন উপাদানগুলো গ্লুকোজকে দেহের শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। সাধারণত আমাদের ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে কার্ব বা শর্করা থাকে, যা আমাদের মোট খাবারের ৭৫ ভাগেরও বেশি। ফলে ইনসুলিন তখন আর আগের মতো প্রচুর বের হয় না এবং শরীরের কোষগুলোও আর ইনসুলিনের প্রতি তেমন সংবেদী থাকে না। ফলে কার্বহাইড্রেট থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ রক্তেই ঘুরাফেরা করতে থাকে। রক্ত হয়ে যায় গ্লুকোজময়; কিন্তু কোষ থাকে অভুক্ত। আর রক্তে এই গ্লুকোজ শরীরের প্রোটিনগুলোকে নষ্ট করে দেয়। প্রোটিনে গ্লুকোজের আস্তর পড়ে। শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এরফলে ব্লাড প্রেশার বাড়ে, হার্ট, চোখ, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত গ্লুকোজ আবার ফ্যাটে পরিণত হয়ে শরীরে জমা হয়ে থাকে।

আর কিটোজেনিক ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণও কম। মোট ডায়েটের মাত্র ২০ শতাংশ। তাই এ ধরনের ডায়েটের ফলে শরীর শর্করার বদলে ফ্যাটকে ফার্স্ট লাইন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করবে। এই সময়টায় কিছু দুর্বলতা লাগতে পারে। কিন্তু শরীর যখন জ্বালানি হিসেবে ফ্যাটকে চিনে যাবে তখন সে তার জমে থাকা চর্বিগুলোকেও বার্ন করা শুরু করবে। আর তখন আগের চেয়েও বেশি শক্তি ও কর্মস্পৃহা পাওয়া সম্ভব।

যেসব বিষয়ে অবশ্যই সচেতন থাকবেন
অনেক পুষ্টিবিদই কিটো ডায়েট গ্রহণ করাকে অপছন্দ করেন এবং এ ধরনের ডায়েট থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এ ধরনের ডায়েটের কিছু সমস্যা নিম্নরূপঃ

– সাধারণত পুষ্টিবিদরা খাবারে চর্বির পরিমাণ ১০ শতাংশ না ছাড়ানোর দিকে খেয়াল রাখতে বলেন। কিন্তু কিটো ডায়েটে চর্বির পরিমাণ থাকে ৭০ শতাংশের উপরে। ফলে হঠাৎ করে মেদবহুল হয়ে উঠতে পারে। দেখা দিতে পারে নানাসমস্যা। তাছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় লিপিড ও কোলেস্টরেলের কারণে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

– উচ্চমাত্রায় চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ ও তৃষ্ণা, দ্রুত হৃদকম্পন, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম নির্গত হওয়ার মতো ব্যাপারগুলো ঘটতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক দেখা দিতে পারে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শারীরিক বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

– কিটোজেন ডায়েট সাধারণত বিশেষ রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসাকালীন সময়ে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যখন তখন এটি গ্রহণ না করাই শ্রেয়।

– এই ডায়েটের পর আপনি শর্করাযুক্ত নিয়মিত খাবার গ্রহণ শুরু করলে তাতে করে খুব দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এ সময় মেটিবলিজম আগের চেয়ে আরো কম কার্যকর থাকে। ফলে দেখা যায় আপনি যতটা ওজন কমিয়েছেন অল্প সময়ে তার চেয়ে বেশি ওজন বাড়িয়ে ফেলেছেন।

কিটো ডায়েট নিজের উপর প্রয়োগ করার পূর্বে সম্পূর্ণ বিষয়টা নিজে পুরো বোঝা উচিত। ডায়েট কিভাবে শরীরে কাজ করে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করা এক্ষেত্রে ভালো দল বয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *