Home / অন্যান্য / কেমন চলছে মিথিলার জীবন দেখুন!

কেমন চলছে মিথিলার জীবন দেখুন!

জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। কর্পোরেট জবের পাশাপাশি শোবিজেও আছেন নিয়মিত। এতসবের সমন্বয় কীভাবে সম্ভব হয়। সে খবর জানালেন তিনি।

মিথিলার দিন শুরু: মা-মেয়ে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেন। বাসার কাজকর্ম সেরে মেয়েকে নিয়ে মিথিলা যায় নিজের কর্মক্ষেত্রে। কোনো নাটকের শুটিংয়ে নয় কিন্তু, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকে। সেখানে নারী শিক্ষা ও শিশু উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে এই কার্যক্রমের প্রধান ব্যক্তি মিথিলা। মা ও মেয়ে অফিস থেকে ফিরবেন সন্ধ্যায়। ৫ বছর বয়সী মেয়ে আইরা তাহরিম খান অফিসে কী করে? মিথিলার উত্তর,‘ওর স্কুল না থাকলে প্রায় প্রায়ই আমার সঙ্গে আসে। সেই পরিবেশটাও আছে। অফিসে আমার কলিগরা তো ওর বেশ ভালো বন্ধু হয়ে গেছে। আমি কাজ করতে থাকি। ও ওর মতো ঘুরতে থাকে, খেলতে থাকে। আবার একসঙ্গে মা-মেয়ে বাসায় ফিরি।’

মা- মেয়ের কেমিস্ট্রি: মিথিলার সবচেয়ে কাছের বন্ধু মেয়ে আইরা। মায়ের মন খারাপ থাকলে মেয়েও মন খারাপ করে। তখন মেয়ে কিনা নাচ দেখায়, গান গায়- মায়ের মন ভালো করে দেয়। মিথিলার কাজের সুবাধে দেশে- বিদেশে ঘুরতে হয়। আর আইরাও তখন সফর সঙ্গী হয় মায়ের। মিথিলার সঙ্গে আইরা এরই মধ্যে উগান্ডা, তানজানিয়া, চীনসহ অনেক দেশ ঘুরেছে। মেয়ের জন্য মিথিলা অভিনয়েও অনেকটা অনিয়মিত। সেটা কেন? ‘অফিস শেষ হলে সোজা বাসায় গিয়ে মেয়েকে সময় দেই। যার কারণে শুটিং বা অন্যকাজ সন্ধ্যার পরও রাখা সম্ভব হয় না। তাছাড়া আমি তো এমনিতেই কম কাজ করি অফিসের জন্য। আসলে অভিনয়ের পাশাপাশি অফিস নয়, অফিসের পাশাপাশি অভিনয় করি।’

যেমন চলছে কর্মজীবন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। সপ্তাহে পাঁচদিন অফিস থাকে। শুক্র- শনিবারে যদি সুযোগ হয়, ফ্রি থাকেন। তাহলেই মিডিয়ায় টুকটাক কাজ। তার মধ্যে নিয়মিত যেটা করা হচ্ছে। বাংলা ভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আমার আমি’ উপস্থাপনা করছেন। এটাই হচ্ছে মিডিয়ার কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা। নিয়মিত উপস্থাপনাটা কেমন উপভোগ করছেন? ‘ আমি যেটা করি। উপস্থাপনা করার তো অভ্যেস নেই। আামি জাস্ট গল্প করি। আড্ডা মারি আমার অতিথিদের সঙ্গে। যারা আসেন, তাদের নিয়ে আমারও অনেক কৌতুহল থাকে। সেসব প্রশ্ন করি। এটাএমন নয় যে আমার খুব একটা স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে উপস্থাপনা করা হয়। সেটা হলে আমি রিল্যাক্সে কাজটা করতেও পারতাম না।’

‘আমার আমি’ ও মিথিলা: উপস্থাপনা করতে গিয়ে মজার মজার অভিজ্ঞতা হয়। তবে যেটা তিনি জীবনে ভুলতে পারবেন না, আইয়ুব বাচ্চুর সাক্ষাৎকার নেয়া। বাচ্চু মারা যাওয়ার দেড় সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠানটি রেকর্ড করা হয়। সম্ভবত সেটাই বাচ্চুর দেয়া সর্বশেষ ইন্টারভিউ। তিনি বলেন, ‘জানিনা এটা আমার সৌভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য! কিন্তু বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে যে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। তার জন্য আমি গর্বিত। বাাচ্চু ভাইয়ের শেষ ইন্টারভিউ কিন্তু আমার সঙ্গে। উনি মারা যাওয়ার সপ্তাহ দেড় আগে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। এটা সারাজীবনের একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে। এটা আমার সারাজীবনের জন্য একটা বড় প্রাপ্তি হয়ে রইলো যে আমি বাচ্চু ভাইর সাক্ষাৎকার নিতে পেরেছি। আর আমার উপস্থাপনায় প্রথম পর্বটা ছিল অর্ণবের সঙ্গে। সেটাও স্পেশাল। আমাদের ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করেছি। সবাই জেনেছে যে অর্নব আমার ফুপাতো ভাই। আমরা শৈশবে একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। অবশ্য ও তো পরবর্তীতে ভারতে পড়াশুনার জন্য চলে যায়।’

জন কবির বিতর্ক: ‘আমার আমি’ অনুষ্ঠানের এক পর্বে উপস্থিত ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু জন কবির। আর সেখানে দুজনার এক ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তা নিয়ে বলেন,‘আমার কিছু বলার নাই। আমি স্পিচলেস। আমি অবাক হয়েছি। এটা কী জনের সঙ্গে আমার জীবনে প্রথম ছবি? তারপরে দেখলাম এটা নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রল, কথাবার্তা। এটা বিরক্তীকর। কিছুই না, এট তো মাত্র একটা ছবি। যাদের কাজ নেই, তারাই এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে মজা নিয়েছে।’

কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিনয়: কলকাতায় গিয়ে অভিনয় করেছেন। কলকাতার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। সেটা গত বছরের খবর। ২০১৮ সালের মার্চে শুটিং হয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখোমুখি’র। এ সপ্তাহে অনলাইনে প্রকাশ পায়। সেই কাজের রেসপন্স পাচ্ছেন এখন,‘আমি নাটকে কাজ করি। সে হিসেবে ভাবিনি এটা ফিল্ম নাকি শর্ট ফিল্ম। আমি গল্পটা শুনেছি। গল্পটি ভালো লেগেছে। আর প্রথম কলকাতায় গিয়ে অভিনয় করা। ওখানকার ক্রুয়ের সঙ্গে। আমার মনে হয়েছে এটা একটা ডিফারেন্ট টেস্ট পাওয়া যাবে। আমি খুবই রেয়ার যে ঢাকার বাইরে গিয়েও শুটিং করতে পারি। আমার চাকরির কারণে সেটা পেরে ওঠা হয় না। শুধু শুক্র এবং শনি দুদিন সময় দিতে পারি। এই কাজটাও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করেছি। আামি দুইদিনের জন্য কলকাতায় গিয়েছিলাম। গল্পটি ভালো ও পার্থ সেনও একজন মেধাবি ডিরেক্টর। কম কাজ করি। সেই কাজটা চেষ্টা করি যেন একটু ভিন্ন হোক। দর্শক দেখেও বুঝুক কম কাজ করলেও যেন ভালো কিছু করছে। সেই চেষ্টা সবসময় থাকে। কাজটা করে আমার মনে হয়েছে এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ কাজটি করে দর্শকের যেমন রেসপন্স পাচ্ছি। তেমনি আমার নিজের কাছেও তৃপ্তি লেগেছে। অনেক সময়ই প্রিয় প্রডাকশন বা পরিচালক ভালো থাকলেও ফাইনালি ভালো কাজ যে সবসময় বের হবে এমনটা নয়। কিন্তু কাজটা করে সেই তুপ্তি পেয়েছি।’

চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তীর ছেলে গৌরব। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন,‘ গৌরব খুবই শান্ত শিষ্ট লক্ষী একটা ছেলে। ও আমার চেয়ে বয়সে ছোট। ও সব্যসাচী চক্রবর্তীর মত এত বড় একজন অভিনেতার ছেলে সেই তুলনায় ও খুব শান্তশিষ্ট। কাজটা খুব মনোযোগ দিয়ে করে। খুব বেশি কথা বলে না। আবার ফ্রেন্ডলিও।’

ভারত ভ্রমন: ২০১৮ সালেই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাধে প্রথম ভারতে যাওয়া। পরে আরও দুইবার যাওয়া হয়েছে অফিসের কাজে। ‘এই তিনবার গিয়ে আমার আসলে খুব ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে, আসলে ইন্ডিয়াতে তো অনেককিছু দেখার আছে। আমি প্ল্যান করি আমার ফুল ফ্যামিলি নিয়ে যাওয়ার। বছরের শেষে এসে সময় মিললো সবার। অতবড় দেশ তো পুরা ঘোরা সম্ভব নয়। এবার গিয়েছিলাম জয়পুর, আগ্রা , দিল্লী, কোলকাতা। সেসব জায়গার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখলাম ও সে সম্পর্কে জানলাম। ভারতে তো ঘোরার শেষ নেই। আবার হয়তো কখনো সবাই মিলে যাবো। এবার তো আমরা ভাইবোনরা, মা- বাবা, পরিবারের নতুন সদস্য ইরেশ-বিশাল টিম গিয়েছি।’

লেখিকা মিথিলা: মিথিলা কর্পোরেট চাকরিজীবি, গায়িকা, অভিনেত্রী, একটা সময় ছবি আঁকতেন। কিন্তু মিথিলার লেখলেখির খবর কয়জন জানেন? তিনি জানালেন,‘ বাচ্চাদের জন্য একটা গল্পের বই লিখেছি। এবারের বইমেলায় প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু কয়েকজন প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল প্রসেসিংটা এত সহজ নয়। দেখি কবে প্রকাশ করতে পারি। মেয়ের জন্য বিভিন্ন সময় গল্পের বই কিনতে গিয়ে লেখার তাগিদটা আসে। আর আমি কিন্তু ছোটবেলা থেকেই গল্প, কবিতা লেখালেখি করি। হয়তো ওভাবে সেটা প্রকাশ করা হয়নি। এবার আশা করা যায় লেখিকা হিসেবে প্রকাশ পাবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *