Home / ফিটনেস / ওজন কমানোর ১০ টি কার্যকর সহজ টিপস!

ওজন কমানোর ১০ টি কার্যকর সহজ টিপস!

ওজন কমিয়ে বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়দের তাক লাগিয়ে দেবেন? তা হলে মেনে চলুন এই টিপসগুলো, ওজন বেশ খানিকটা কমতে বাধ্য। তবে এ কথাও ঠিক যে, যদি একজন ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে রীতিমতো প্ল্যান করে এগোন, তা হলে সবচেয়ে ভালো ফল মিলবে।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর খাবার খান: ওজন কমাতে গিয়ে যাঁরা গোড়াতেই সিদ্ধান্ত নেন যে খাওয়া কমাতে হবে এবং উপোস করতে আরম্ভ করেন, তাঁরাই সবচেয়ে বড়ো ভুলটা করেন এবং সাধারণত তাঁদের ওজন মোটেই কমে না৷ সামান্য কমলেও কিছুদিন পরেই আবার ফিরে আসে। ফলে হতোদ্যম হয়ে তাঁরা নিয়ম মেনে চলাই বন্ধ করে দেন৷ মেটাবলিজ়মের হার বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো রাস্তা হচ্ছে প্রতি দু’ ঘণ্টা অন্তর কিছু খাওয়া৷ খিদে পাওয়ার আগেই খাচ্ছেন বলে অতিরিক্ত খাবার শরীরই নিতে পারবে না।

জল খাওয়ার পরিমাণ ও সময় নির্দিষ্ট করুন: প্রতি দু’ ঘণ্টা অন্তর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি জল খাওয়ারও একটা রুটিন থাকা উচিত। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জল খাবেন না। অন্তত আধ ঘণ্টা আগে বা পরে জল খান। আপনার ওজন 60 কেজি হলে দিনে অন্ততপক্ষে সাড়ে চার লিটার জল খেতে হবে। যাঁরা খুব বেশি ঘামেন, তাঁদের আরও একটু বেশি জল খাওয়া প্রয়োজন।

সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলুন: বাঙালিদের সনাতন খাদ্যতালিকায় যা যা থাকে, তার প্রতিটিই আমাদের শরীরের কোনও না কোনও প্রয়োজনে লাগে৷ পৃথিবীর প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই কথাটা একইরকম সত্যি৷ ভাত বাদ দিয়ে কিনওয়া বা ওটস খেতে আরম্ভ করলে শরীর প্রাথমিক একটা ধাক্কা খাবে, তার ফলে খানিক ওজন কমবে ঠিকই, কিন্তু এই ডায়েটে সারা জীবন চালানো কঠিন৷ তার চেয়ে রোজের খাবারই খান, কিন্তু স্বাস্থ্যকর অপশনগুলি বাছুন৷ মাছের কালিয়া মাসে একবার চলতে পারে, রোজের জন্য সবজি দিয়ে হালকা ঝোল রাঁধুন।

বাড়িতে কী রান্না হচ্ছে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন: নিজের রান্না নিজে করতে পারলে সবচেয়ে ভালো, কিন্তু সেটা তো সব সময়ে সম্ভব হয় না, তাই কী রান্না হবে সে সিদ্ধান্তটা অন্তত নিন৷ বাজার থেকে তাজা শাক-সবজি-ফল কিনে আনুন, সেটা ভালো করে ধুয়ে নিন৷ পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের জলে স্যালাডের আনাজপত্র ভিজিয়ে রেখে ধোওয়া ভালো৷ খুব বেশি তেলমশলা যেন না থাকে রান্নায়, সেটাও দেখতে হবে।

জলখাবার বাদ দেবেন না কখনওই: সকালের জলখাবার খান পেট ভরে, দুপুরে নিয়ন্ত্রিত মধ্যাহ্নভোজ, আর রাতে সামান্য ডিনার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ মাঝে খিদে পেলে খাওয়ার জন্য ফল, ছোলা সেদ্ধ, ডিম সেদ্ধ, বাদাম রাখুন হাতের কাছে।

ভাজাভুজি বাদ দিন খাদ্যতালিকা থেকে: বাড়িতেই হোক বা বাড়ির বাইরে, ভাজাভুজি থেকে দূরে থাকতে হবে৷ প্যাকেটজাত চিপস, চানাচুর, ঝুরিভাজা যেমন চলবে না, তেমনই লুচি-পরোটা-ব্রেড পকোড়াও নিষিদ্ধ৷ কারও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এক টুকরো কেক খেলে সমস্যা নেই, কিন্তু তা ছাড়া কেক-পেস্ট্রি থেকে দূরে থাকুন৷ মাঝে-মধ্যে এক আধদিন এক টুকরো মিষ্টি চলতে পারে, তা রোজ খাবেন না৷

কোনও না কোনও শারীরিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকুন: যাঁরা আলাদা করে ব্যায়াম করার সময় পান না, তাঁরা বাড়িতেই রোজ এমন কোনও কাজ করুন যাতে কিছু ক্যালোরি খরচ হয়৷ ঘর মোছা-ঝাঁট দেওয়া, ডাস্টিং করা, বাজার করা, সবজি কাটা, মশলা বাটা, রান্না করাও যথেষ্ট পরিশ্রমসাধ্য কাজ৷ বাড়ি বা অফিস পর্যন্ত অ্যাপ ক্যাব না ডেকে হেঁটে বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত যান৷ কথায় কথায় অটো বা রিকশা চড়বেন না৷ এর বাইরে দিনে অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটতে পারলে তো কথাই নেই।

রাতারাতি ফলের আশা করবেন না: যে ওজনটা পাঁচ বছর ধরে একটু একটু করে বেড়েছে, সেটা রাতারাতি কমে যাবে, এমন আশা করবেন না৷ তুরন্ত ফল না পেলে মুষড়ে পড়ারও কারণ নেই৷ শরীরকে সময় দিন।

দিনে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক: তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া আর তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস রাখলে দেখবেন, দিনটাও অনেক লম্বা লাগছে এবং অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। খাবার ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খান: খাবার খাওয়ার সময় মোটেই তাড়াহুড়ো করবেন না, একেবারে ধীর গতিতে চিবিয়ে খান৷ তাতে হজম ভালো হয়, পেট পরিষ্কার থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *