Home / স্বাস্থ্য-সেবা / ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা? সুস্থ্যভাবে বাঁচতে হলে অবশ্যই জানতে হবে!

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা? সুস্থ্যভাবে বাঁচতে হলে অবশ্যই জানতে হবে!

আমাদের দেহের কাঠামো তৈরি হয় হাড়ের মাধ্যমে। আমাদের কঙ্কাল আমাদের দেহকে সঠিক আকারে এবং সঠিকভাবে চলাচলে সহায়তা করে থাকে। একবার ভাবুন তো আপনার দেহে যদি হাড় না থাকতো তবে আপনি কি করতেন?

ভাবতে পেরেছেন না, এটি ভাবা সম্ভব নয়! কিন্তু তাহলে হাড়ের যত্নে কেন আমরা কেউ কিছু করি না? বরং এমন কিছু কাজ করি যা আমাদের হাড়ের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। হাড়ের রোগগুলোর মাঝে অস্টিওপোরোসিস বর্তমানে সব থেকে বেশি নজরে পড়ে। এই রোগটির কারণে হাড়ের মজবুত গঠন খয়ে যেতে থাকে। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো হাড় ক্ষয়ের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। কিন্তু আমরা কেউ জেনে, কেউ জেনে এই সকল খাবার গ্রহন করে চলেছি প্রতিদিন।

ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি দেহের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান।ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাংসপেশী সংকুচিত হওয়া, হাড়ে ভঙ্গুরতা, খাদ্য গ্রহণে অরুচি, হার্টে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি আরও নানা রকম সমস্যা বাসা বাঁধে শরীরে।ক্যালসিয়াম শরীরে শক্তি যোগায় এবং এটি হাড় গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিমানমত এটি না পেলে শরীর দুর্বল হয়ে হাড় ভঙ্গুরতার মত মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তাই ক্যালসিয়াম চাহিদা পূরণ করে এমন খাদ্য অবশ্যই রাখতে হবে। এমন কিছু খাদ্য হলো:

দুধঃ প্রতিদিনেরডায়েটচার্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হলো দুধ। এটি ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিপূর্ণ, যা আমাদের সুস্থ হাড় ও দাঁত গঠনে অপরিহার্য। ছোটবেলা থেকে সারাজীবন নিয়মত দুধ পানের অভ্যাস হাড়কে করবে অধিক শক্তিশালী, এতে ওস্টেয়োপোরোসিস (osteoporosis)/ হাড় ভঙ্গুর হবার ভয় অনেকাংশে কমে যাবে।

পনিরঃ পনিরও একটি উচ্চ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য। পনিরের ক্যালসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং ওস্টিয়োপোরোসিস থেকে রক্ষা করে। সঠিক পরিমানে পনির গ্রহণে, এটি প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সরবরাহ করে তাই এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ রোগীর চিকিৎসায় এটি খুবই উপকারী।

সয়াবিনঃ বিভিন্ন রকম সয়া খাদ্যসমূহ যেমন, সয়া দুধ, সয়া আটা, টোফু ইত্যাদি যা ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, ফাইবার ইত্যাদি আরো বিভিন্ন রকম সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকারি উপাদানে পরিপূর্ণ। সয়াতে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি প্রায় দুধের সমান, এতে রয়েছে ফাইটোএস্ট্রোজেন যা হাড়কে শক্তিশালীকরণে অনেক বেশী সাহায্য করে।

দইঃ ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে এটিও অন্যতম একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন। ৮ আউন্স দইয়ে থাকে ৪৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। ঢেঁড়সঃ ঢেঁড়স একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি, এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ভাইটামিন বি, এ, সি।

শালগম, তিলঃ শালগম ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের উত্তম একটি উৎস। এটি হাড়ের নমনীয়তা, অস্টেয়োপরোসিস, ফ্রাকচার ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে এবং পেশীতে শক্তি যোগায় ও কর্মদক্ষতা বাড়ায়। এক কাপ শালগমে থাকে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম যা একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের এক-পঞ্চমাংশ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে।

তিল একটি খনিজ পদার্থের অন্যতম উৎস, এতে আছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফোরাস, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক। এটি হরমোন উৎপাদন ও লোহিত রক্ত কনিকা উৎপাদনে সাহায্য করে।শালগম ও তিল দুটিই মজবুত দাঁত গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাদামঃ প্রায় সব ধরনের বাদামে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ভাইটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন ও খনিজ পদার্থ। এটি দেহের জন্য অতি উপকারি যা শক্ত হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে। কমলাঃ কমলা একটি সাইট্রাস ফল যাতে আছে যথেষ্ট পরিমানে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম।

সতর্কতাঃ অতিরিক্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম গ্রহণ দেহের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে নানা রকম রোগ যেমনঃ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমাদের পরিমাণ মত খাদ্য গ্রহণে সজাগ থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *