Home / মা ও শিশুর যত্ন / দাম্পত্য জীবন উপভোগ করে গর্ভবতী হওয়ার পাঁচ পরামর্শ জেনে নিন!

দাম্পত্য জীবন উপভোগ করে গর্ভবতী হওয়ার পাঁচ পরামর্শ জেনে নিন!

প্রত্যেক মেয়ে পূর্ণ নারী হয়ে ওঠার পর তাঁর প্রথম এবং একমাত্র স্বপ্ন হয় যে সে মা হবে। সন্তানের জন্ম দেবে। কিন্তু সন্তান ধারণ করাও সহজ কথা নয়। কী করলে বা কীভাবে চলেল গর্ভবতী হওয়া সহজ হবে, তার জন্যই কিছু বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরামর্শ এক –
সহবাস করা নিয়ে কোনও দ্বিধা রাখবেন না। অনিয়মিত সহবাস করাও গর্ভবতী হওয়ার পক্ষে ভাল নয়। তাই নিয়মিত বিনা টেনশনে সহবাস করে যান।

পরামর্শ দুই – মেয়েদের পিরিয়ডের ২৮ দিনের হিসেব ঠিকমতো মাথায় রাখতে হবে। পিরিয়ডের নবম এবং দশম দিনের মধ্যে অবশ্যই ইউরিন টেস্ট করে নিতে হবে। পরামর্শ তিন – নিজের পিরিয়ডের হওয়ার দিন হিসেব করে তার আগের দু-তিন দিন অবশ্যই সহবাস করতে হবে। এবং পিরিয়ডের পরও তাই। সাধারণত, শুক্রাণূ জরায়ুর মধ্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা থাকে। তাই পিরয়ডের আগের তিনদিন সহবাস করাটা গর্ভবতী হওয়ার জন্য খুবই আদর্শ সময়।

পরামর্শ চার – সহবাসটা শুধু করার জন্য করা নয়। কিংবা পার্টনারকে তৃপ্তি দেওয়া নয়। বরং, গর্ভবতী হওয়ার জন্য অবশ্যই নিজে সহবাস উপভোগ করুন। পরামর্শ পাঁচ – এ দেশে সাধারণত, বিয়ের পরই মেয়েরা বেশি সেক্স করে। আর দেখা গিয়েছে, বিয়ের মাত্র ছ মাসের মধ্যেই এ দেশের ৫০ শতাংশ মেয়েরা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সেক্ষেত্রে ডাক্তারদের পরামর্শ, কিছুদিন দাম্পত্য উপভোগ করুন। তারপর গর্ভবতী হওয়ার কথা মাথায় আনুন। তাহলেই সহবাস সব থেকে বেশি উপভোগ করতে পারবেন এবং সুস্থভাবে গর্ভবতী হতে পারবেন।

আরো পড়ুন, ছেলে বা মেয়ে সন্তান হওয়ার জন্য কে দায়ী স্বামী না স্ত্রী?

যমীন ও আসমানের মালিক এক আল্লাহ তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা উভয়টিই দেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সব কিছু জানেন এবং সবকিছু করতে সক্ষম।এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

অর্থাৎ, যমীন ও আসমানের বাদশাহীর অধিকর্তা আল্লাহ তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান Boy child দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা উভয়টিই দেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সব কিছু জানেন এবং সবকিছু করতে সক্ষম। [সূরা শুরা: ৪৯-৫০]

আমাদের সমাজে একটা ব্যাধি চরম আকার ধারণ করেছে। কারো যদি বার বার মেয়ে হয় ছেলে না হয়; এমতাবস্থায় পূনরায় মেয়ে হলে অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের মাতাকে তালাক পর্যন্ত দিয়ে দেয় মানুষ নামের কলংক ব্যক্তিরা। আল্লাহ তায়ালা এ ধরণের মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্বন্ধে বলেছেন,

অর্থাৎ, আর যখন এদের কাউকে কন্যা সন্তান girl child জন্মের সুখবর দেয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে ভিতরে ভিতরে গুমরে মরতে থাকে।লোকদের থেকে লুকিয়ে থাকতে চায়,কারণ এ দুঃসংবাদের পর সে লোকদের মুখ দেখাবে কেমন করে? ভাবতে থাকে,অপমান মেনে নিয়ে মেয়েকে রেখে দেবে,নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে?তাদের সিদ্ধান্ত কতই না নিকৃষ্ট। [সূরা নাহল : ৫৮-৫৯]

এটা ছিল তৎকালীন জাহেলী তথা মুর্খ সমাজের আচরণ। আর আমরা নিজেদেরকে এখন সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করেও একই রকম কাজ করি। তাহলে, আমাদের এবং জাহেলী যুগের মানুষদের ভেতরে কি পার্থক্য থাকল? অনেক সময় সন্তান প্রসবের আগেই গর্ভবতী নারীকে হুমকি দেয়া হয় যে, এবার ছেলে না হলে তাকে তালাক দেয়া হবে। কি আশ্চর্য!! এটা কি তার ইচ্ছামত নাকি? যে, যা ইচ্ছা তাকেই পছন্দ করবে?!! এ ক্ষেত্রে তাদের ভাবটা এমন দেখা যায় যে, মেয়ে হওয়ায় স্বামীর যেন কোন দোষই নেই যত দোষ সব স্ত্রীর। আসলে কি তাই? স্ত্রী কি সন্তান মেয়ে হওয়ার জন্য দায়ী? স্বামীর কোন দোষ কিংবা প্রভাব নেই এতে? আসুন বিজ্ঞানের আলোকে একটু বিশ্লেষণ করে জেনে নিই।

আমরা জানি প্রত্যেকটি মানুষের শরীরে ৪৬ টি ক্রোমোজম থাকে। সেগুলো দুই প্রকারের। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এগুলোকে x ও y নামে অভিহিত করা হয়। নারীর দেহে থাকে ৪৬ টি x ক্রোমোজম। আর পুরুষের শরীরে থাকে ২৩ টি x ও ২৩ টি y, যখন কোন পুরুষ ও নারীর দৈহিক মিলন ঘটে তখন স্বামীর থেকে ২৩ টি x এবং স্ত্রীর থেকে ২৩ টি x এসে যে সন্তান হয় তা হয় মেয়ে। আর যদি নারীর থেকে ২৩ টি x ও স্বামীর থেকে ২৩ টি y আসে তাহলে, সন্তান হয় ছেলে। তাহলে, আমরা দেখতে পায় যে, এটা পুরোপুরি স্বামীর অবস্থার উপর নির্ভর করবে। দায়ী যদি কাউকে করতেই হয় তাহলে, এর জন্য দায়ী স্বামী; স্ত্রী নয়। কেননা, স্বামীর শরীর থেকে x আসার কারণেই মেয়ে হয়েছে। আর যদি y আসত তাহলে সন্তান ছেলে হত। এ জন্যই টেস্ট টিউব সন্তানের বেলায় ডাক্তাররা কখনো কখনো বীর্য থেকে x ও y ক্রোমোজম আলাদা করে সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়াতে প্রভাব সৃষ্টি করেন।

আমাদের দেশে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে বাড়ির নারীরা তাদের ছেলেকে প্ররোচনা দিয়ে থাকেন যে, এবার মেয়ে হলে তোমার বউকে তালাক দিয়ে দাও। এমন ছন্ন ছাড়াকে বাড়িতে আর রেখো না। ইত্যাদি আরও কত কি! আগন্তুক কন্যা সন্তান দুনিয়ায় এসে কখনো জানতে পারেন তার দাদি কিংবা নিকটাত্মীয়দের এসব কথা তাহলে- তার মনে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে? এরপরেও কি তার মনে ঐ ব্যক্তিদের প্রতি কোন ভক্তি শ্রদ্ধা অবশিষ্ট থাকতে পারে? যে নারীরা এ কথা বলে থাকেন তাদেরও জানা উচিত যে, সে নিজেও নারী। সে নিজে নারী Women হওয়া সত্ত্বেও আরেকজন মেয়ের আগমণে তার এ ধরণের কথাবার্তা মানায় না।

রাসূল [সাঃ] কন্যা সন্তানকে জান্নাতে যাওয়ার জন্য পাথেয় বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
অর্থাৎ, রাসূল [সাঃ] বলেছেন: যার তিনটি কন্যা কিংবা বোন অথবা দুই কন্যা বা বোন থাকে এবং সে তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে (তাদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হয়) এবং তাদের মৃত্যু কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ বা সৎপাত্রস্থ হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সৎব্যবহার করে, তাহলে, তারা তার জন্য জাহান্নামে যাওয়ার পথে অন্তরায় হবে। [মুসনাদে আহমাদ]

অন্যত্র রাসূল [সাঃ] বলেছেন,
অর্থাৎ, যে দুইজন মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করবে, আমি এবং সে কিয়ামতের দিন এভাবে পাশাপাশি থাকব। এই বলে রাসূল [সাঃ] তার হাতের আংগুল গুলোকে একত্রিত করলেন। (মুসলিম শরীফ) তাহলে, আমাদের যদি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করতে হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালার সিদ্ধান্তের উপরেই রাজি হওয়া উচিত। আর, মেয়ে হওয়ার জন্য শুধুমাত্র মেয়ের মাকে দোষ দেয়া নিতান্তই জুলুম ও মুর্খতা প্রসুত কাজ। কারণ, দোষের কিছু করে থাকলে করেছে স্বামী স্ত্রী নয়।

মাওলানা মিরাজ রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *