Home / স্বাস্থ্য-সেবা / নারীদের গোপনাঙ্গে ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধান জেনে নিন!

নারীদের গোপনাঙ্গে ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধান জেনে নিন!

দাম্পত্যর বিষয়ে নারীর প্রধান সমস্যা হলো নারীর যৌন মিলনের ব্যাপারে অনীহা। নারীর দাম্পত্যর বিষয়ে এই অনাগ্রহের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। নারীর শারীরিক কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থেকে থাকলে নারীকে দাম্পত্য বিমুখ করে তুলতে পারে। আবার মানসিক কোনো অসুবিধা নারীকে যৌনতার ব্যাপারে নিরুৎসাহ যোগায়। শৈশবকালীন মানসিক কিংবা শারীরিক যৌন উৎপীড়ন অনেক ক্ষেত্রে নারীকে দাম্পত্যর নানা সমস্যার সম্মুখীন করে তোলে। আবার প্রচুর পরিমানে স্বমেহন নারীর দাম্পত্য তিগ্রস্ত করতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে এবং অনেক সময় হস্তমৈথুনের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে পুরুষের দাম্পত্য জড়তা দেখা দিতে পারে। যেকোনো কোনো সময় পুরুষত্বহীনতা পর্যন্ত যেতে পারে।

দাম্পত্য গবেষকরা গবেষনা করে দেখছেন নারী যৌনতা বিষয়ক সমস্যা গুলো সৃষ্টি হয় মূলত যৌন অনিচ্ছা থেকে। নারীর সমস্যার মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো যৌন মিলনের সময়ে নারীর যৌনাঙ্গে ব্যাথা। কোনো ক্ষেত্রে নারী এই ব্যাথার তীব্রতার জন্য যৌন মিলনকে ভয়ের চোখে দেখে। যৌন মিলনে এরকম ব্যাথার ডাক্তারী নাম হলো dyspareunia দুটো কারণ থাকতে পারে, একটি কারণ হলো শারীরিক এবং অপরটি হলো মানসিক।

এটি নারীদের একটি যৌন সমস্যা। একে ব্যাথাযুক্ত যৌন মিলন সমস্যা বলা হয়। তবে dyspareunia পুরুষের হতে পারে। নারীর dyspareunia এর কিছু উপসর্গ হলো লিঙ্গ প্রবেশের সময় যৌনিতে ব্যথা। তলপেটে ব্যথা, ঘন ঘন লিঙ্গ সঞ্চালনের সময় নারী প্রচন্ড ব্যাথা পেতে পারে। যৌন মিলনের ব্যাপারে ভীতির সৃষ্টি। কারণ gynecological এবং psychological কারণে dyspareunia হতে পারে। যোনির ভেতরে কিংবা বাইরে দুই প্রকার সমস্যা এই সময় দেখা দেয়। এছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন কারণে যৌন মিলনের সময় নারীর যোনিতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়।

আবার মানসিক নানা কারণে যৌন মিলনের সময় নারীর যোনিতে ব্যাথার উদ্রেক হতে পারে। এই কারণ গুলোর মধ্যে যৌন শীতলতা, যৌনতা সর্ম্পকে কুসংস্কার, ধর্মীয় কুসংস্কারের প্রভাব, যৌন অজানা বিষয় কিংবা শৈশবকালীন এবং পরবর্তী সময়ে যৌন নিপীড়িত হলে নারীর যৌন মিলন কালীন ব্যাথার সৃষ্টি কিংবা Dyspareunia হতে পারে। যোনির বাইরে যে কারণে সমস্যা হয় তা হলো সতীচ্ছেদ ছিঁড়ে যাওয়া। episiotomy ছিঁড়ে যাওয়া। bartholin gland স্ফীতি। কিটোরিসে ব্যথা। এছাড়াও যোনির ভেতরে যে কারণে ব্যাথার সৃষ্টি হয় সেগুলো হলো পর্যাপ্ত পিচ্ছিলতা না থাকা। যোনির ইনফেকশন। যোনিতে সেপ্র কিংবা ফোম ব্যবহার। senile vaginitis। অন্যান্য কারণ uterine লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়া। শ্রোণী সংক্রমণ। যোনির স্ফীতি। মূত্রথলির সমস্যা। ধর্মীয় চাপ। তিক্ত যৌন ইতিহাস। পিচ্ছিলতা কমে যাওয়া ইত্যাদি।

চিকিৎসা: মনোদৈহিক কিংবা শারীরিক যে কারণে Dyspareunia হোক না কেন। একে যদি নির্ণয় করা যায় তবে এই সমস্যাকে ওষুধে এবং সার্জারিতে ভালো করে তোলা সম্ভব। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিষয়টি ঘটে যোনির শুষ্কতা। যৌন মিলনের প্রথম দিকে যোনির এই সমস্যার জন্য অনেক নারী যোনিতে ব্যাথা অনুভব করে। অনেক নারীর যোনি অধিক পরিমানে শুষ্ক থাকে। এক্ষেত্রে মিলনের সময় lubricant gel ব্যবহার করা যেতে পারে এই জাতীয় জেলী যোন মিলন উপযোগী এবং পিচ্ছিল করে তোলে। শারীরিক কোনো কারণে যদি Dyspareunia হয়ে থাকে তবে এর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। নারীর যৌন সমস্যা গুলোকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব সমস্যা হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে। নারীর যৌনতার বিষয় গুলো নিয়ে আড়ষ্টতার ফলে এই সমস্যা গুলোর কথা অনেক সময়ে অন্যকে জনানো সম্ভব হয়ে উঠে না এবং সমস্যা গোপন থাকার কারণে তা উত্তর বেড়ে চলে। আবার অহেতুক বিলম্বের কারণে অনেক সময় চিকিৎসা জটিল হয়ে উঠে। Dyspareunia চিকিৎসার ব্যাপারে নারীদের উচিত gynecologist এর পরামর্শ নেওয়া এবং পুরুষদের উচিত urologist এর পরামর্শ নেওয়া।

যৌনাঙ্গে অকারণে ব্যাথার কারণ: পরিণত বয়সের নারী ও পুরুষ অনেকের কাছে যে সমস্যা অনেক সময় প্রকট হয়ে উঠে তা হলো যৌন সমস্যা, যার কারণে অনেক সময় অনেকেই মানসিক অশান্তিতে ভোগেন। পুরুষের ও মহিলাদের যৌনাঙ্গের সমস্যাগুলো কিছু ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় যৌনাঙ্গে ব্যাথা পেয়ে থাকেন কিন্তু কেনো ব্যাথা পাচ্ছেন সেটা বুঝতে পারেন না। আসুন জেনে নেই যৌনাঙ্গে অকারণে ব্যাথার কিছু কারণ যা আপনি জানেন না।

পৃথিবীতে শতকরা ৪৩ভাগ পরিণত বয়সের মহিলা কোনো না কোনোভাবে মিলনের সমস্যায় ভোগেন থাকেন। এই সমস্যার কোনটি যৌন উত্তেজনা বোধ না করার কারণে, কোনটি আবার যৌন কার্যে আগ্রহ বোধ না করা, মিলনে ব্যথা অনুভব করা ইত্যাদি উপসর্গ সমন্নয়ে হয়ে থাকে।

রোগ ভ্যাজাইনাইটিস: ভ্যাজাইনাইটিস বা স্ত্রী-যৌনাঙ্গের প্রদাহ বলতে যে কোন ধরনের প্রদাহ যৌনাঙ্গে থাকাকেই বোঝায়। তা যেমন হতে পারে ইনফেকশন, এলার্জিক প্রতিক্রিয়া, স্ত্রী-হরমোন ইস্ট্রোজেনের অথবা রাসায়নিক উত্তেজনা ইত্যাদির ফলে সংঘটিত অবস্থা। এটা সত্যই একটি অস্বস্থিকর অবস্থা যার ফলে যৌন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন সহবাসকালীন ব্যাথা বা বেদনা অনুভূতি হওয়া অথবা অপছন্দীয় গন্ধ। এখানে যৌনাঙ্গের প্রদাহের ব্যপারে সাধারণ কিছু কারণ সমন্ধে আলোচনা করা হলো।

যেমন ট্রাইকোমোনাস জাতীয় জীবাণুর প্রদাহ। এই ধরনের প্রদাহ এক কোষ বিশিষ্ট জীবাণু যার নাম ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজাইনাটিস যা সুস্থ অবস্থায় অল্প সংখ্যায় স্ত্রী-যৌনাঙ্গে অবস্থান করে থাকে তখন যদি কোন কারণে এই জীবাণুগুলো সংখ্যায় দ্রুত বৃদ্ধি পায় অথবা যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে সঙ্গী থেকে সংক্রমিক হয় তাহলে এক ধরনের ফেনাযুক্ত পাতলা তরল সবুজাভ সাদা অথবা হলুদাভ-বাদামী দুর্গন্ধযুক্ত নিঃস্বরণের ফলে যোনিপথে অথবা যৌনাঙ্গের সর্বত্র জ্বালাপোড়া বা চুলকানী সৃষ্টি হতে পারে। যৌনাঙ্গের ক্ষরণ নিয়ে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে জীবাণুর উপস্থিতি দেখে রোগটি নির্ণয় করা যায়।

চিকিৎসা: মেট্রোনিজাডেল জাতীয় ওষুধ আক্রান্ত মহিলা ও তার স্বামী উভয়কে ব্যবহার করতে হবে। তবে গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মাতাদের জন্য ব্যবহার নিষেধ।

উপদেশ নিম্নে বর্ণিত হল:
১. সুতী আন্ডারপ্যান্ট পরিধান করুন। নাইলন এ সিনথেটিক কাপড়ের তৈরী আন্ডারপ্যান্ট পরিধানে স্থানীয় এলাকায় গরম এবং আর্দ্র অবস্থায় সৃষ্টি হওয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকে তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য।

২. ঘন ঘন ডুসিং (গরম পানির ভাপ স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা, অথবা গরম ঠান্ডা পানির ব্যবহার ) নেয়া বর্জন করতে হবে। ৩. বাথরুম ব্যবহারে সব সময় পানি মুছতে হলে সামনের থেকে পিছনে মোছা উচিত। এতে মলদ্বার থেকে যৌনাঙ্গে ব্যাকটোরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে।

৪. দীর্ঘমেয়াদকালীন এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে ইস্টের অধিক বৃদ্ধি ঘটবে। ৫. সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিশেষ করে যৌনাঙ্গ ও পায়খানার রাস্তা এলাকা হালকা মাত্রার সাবান ও পানি দ্বারা নিয়মিত ধৌত করা উচিত। মহিলাদের জন্য ব্যবহৃত স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহার পরিহার করুন। ৬. সমস্যা ব্যাপক হওয়ার পূর্বেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *