Home / ফিটনেস / মাসে ৮কেজি ওজন কমানোর সঠিক ডায়েট প্ল্যান জেনে নিন!

মাসে ৮কেজি ওজন কমানোর সঠিক ডায়েট প্ল্যান জেনে নিন!

ওজন কমিয়ে ফিট হতে চান? অনেক চেষ্টা করছেন। ডায়েট, ব্যায়াম কোনো কিছুই মানতে অসুবিধা নেই। তবু ঠিক যতটা চাইছেন ততটা ওজন কমাতে পারছেন না। ওজন কমাতে এমনই অনেক বিচিত্র সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ওজন কমানোর জন্য নিজের ইচ্ছেমতো এক্সাইসাইজ বা খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। জানতে হবে সঠিক প্রক্রিয়া। নিজের শরীরের গঠন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে হবে সঠিক প্ল্যান।

নিয়মিত হাঁটা খুব ভালো ব্যায়াম। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে হাঁটতে পারেন, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ত্রিকোণ আসন, উস্থান আসন প্রভৃতি ওজন কমানোর জন্য খুবই উপকারী।

চর্বি জাতীয় খাবার যেমন মাখন, তেল, গরু বা খাসির মাংস, বাটার প্রভৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। শরীরের জন্য এগুলো প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে যার কম-বেশি হলে সমস্যার দেখা দেয়। এজন্য অনেক সময় দেখা যায় ওজন কমাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এজন্য প্রয়োজন খাদ্য গ্রহণ পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাবেন এবং বেশি বেশি পানি পান করবেন। একবারে বেশি খাবেন না, একটু পরপর অল্প অল্প করে খাবেন। ক্ষুধা লাগলে শসা বা ফল খেয়ে নেবেন। কারণ শসা ও টক ফল ওজন হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আজকাল অপারেশনের সাহায্যে ভুঁড়ি বা মেদ কমানো হচ্ছে। লাইপোসাকশন বা অ্যাবডোমিনো ফ্লিস্টরের সাহায্যে মেদ কমানো হচ্ছে। কিন্তু এটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে অনেক।

ওজন হ্রাসকারী খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও লোহার অভাব ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে ডিম ও কলিজা লোহার চাহিদা পূরণ করবে। চেষ্টা করবেন লবণবর্জিত খাদ্য গ্রহণ করতে। এক্ষেত্রে খাবার মেপে মেপে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। মোটামুটি একটা হিসাব করলেই চলবে। শরবত, কোকা-কোলা, ফান্টা ইত্যাদি মৃদু পানীয়, সব রকম মিষ্টি, তেলে ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত মাংস, তৈলাক্ত মাছ, বাদাম, শুকনা ফল, ঘি, মাখন, সর ইত্যাদি পরিহার করা প্রয়োজন। শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্য ক্যালরির প্রধান উৎষ। অধিক চর্বিযুক্ত কম ক্যালরির খাদ্যে স্থূল ব্যক্তির ওজন খুব দ্রুত কমে।

সকালে ৭:৩০টায় হালকা গরম পানিতে ১ চামচ মধু এবং ১টুকরো লেবুর রস দিয়ে খান। ৮:৩০ টায় সকালের নাস্তায়- রুটি-২টি, সবজি, দুধ চিনি ছাড়া চা বা কফি এক কাপ। বেলা ১১ টায় গ্রিন টি ১ কাপ, ১ পিস বিস্কুট। এরপর ১২ টায় শশা বা গাজরের জুস-১ গ্লাস পান করবেন।

দুপুরের খাবারে ভাত ১ কাপ, সবজি, মাছ ১ টুকরো, সালাদ, ডাল। বিকেল ৪ টায় কলা, কমলা, আপেল, আম, আমড়া যে কোনো ১টি। এরপর ৫:৩০ টায় গ্রিন টি-১ কাপ, পাউরুটি ১ পিস অথবা বিস্কুট ২ পিস।

রাত ৮:৩০ টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে নিন। তখন ভাত ১ কাপ বা রুটি ৩ টি সঙ্গে শাক বা সবজি আর মাছ। আমাদের অনেকেরই অভ্যেস হচ্ছে রাতে খাবার খাওয়ার পরও টিভি দেখতে দেখতে বাড়তি খাবার খেতে পছন্দ করি। তবে ওজন কমাতে চাইলে এই অভ্যেস বাদ দিতে হবে। নিয়মিত এই খাবারের রুটিন মেনে চললে আর সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ঝরঝরে ফিগার পেতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *