Home / মা ও শিশুর যত্ন / কতবার সহবাস করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে! জেনে নিন!

কতবার সহবাস করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে! জেনে নিন!

সহবাস করার সময় ঘণ্টায় দু-বার সহবাস করার চেষ্টা করুন। তাহলে উপকার পাবেন ছেলে-মেয়ে উভয়ই। সম্প্রতি লন্ডনের মিডলসেক্স হসপিটালের একজন ডাক্তার একটি গবেষণা থেকে এই তথ্যটির খোঁজ পেয়েছেন। গবেষকরা জানতে পেরেছেন, ঘণ্টায় দু-বার সহবাস করলে মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারণ প্রথমবার যে শুক্রাণু বের হয় তার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় দ্বিতীয়বার মিলিত হওয়ার পরের শুক্রাণুটি। গোলাম বাহাদুর নামে একজন গবেষকের মতে, গর্ভবতী হওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

যে সমস্ত মহিলারা সহজে গর্ভবতী হতে পারেন না, অথবা যাঁদের স্বাভাবিকের তুলনায় ভঙ্গুর হয়ে থাকে উদর তাঁরা ঘণ্টায় দু-বার করে সহবাস করলে খুব সহজেই গর্ভবতী হতে পারেন। এছাড়া দু-বারের বার যে শুক্রাণু নির্গত হয় তা প্রথমবারের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় বলে এতে সন্তান সম্ভাবনার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। বাচ্চাও যথেষ্ট হৃষ্টপুষ্ট হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

সুস্থ্য শিশু জন্ম দিতে গর্ভকালে যা খেতে হবে –

একটি মেয়ের জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় যখন সে মা হতে চলেছে। নয় মাস গর্ভে লালন করে তিলে তিলে তাকে বড় করে তোলা, এ যে শুধু একজন মায়ের পক্ষেই সম্ভব। একজন সুস্থ মা-ই পারে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে। তাই গর্ভধারণ থেকে শুরু করে, প্রসবের পরবর্তী সময়ে মায়ের দরকার বিশেষ খাবার, বিশেষ যত্ন। গর্ভের শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মাকে দৈনিক ৩০০ ক্যালরি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন করতে হবে। একজন গর্ভবতী মাকে কি ধরনের খাদ্য খেতে হবে তা নিয়েই আজকের এই আয়োজন। দরকারি খাদ্য যা গ্রহন করতে হবে-

ক্যালসিয়াম-
গর্ভের শিশুর হাড় গঠনে এবং মায়ের হাড়ের ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম খুব জরুরি। গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরবর্তী সময়ে মাকে দৈনিক কমপক্ষে ১০০০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। ক্যালসিয়াম হাড় গঠন ছাড়াও মায়ের উচ্চ রক্ত চাপও প্রতিরোধ করে। ডিম,দুধ,মাছ,পালং শাক, বাদাম থেকে অনেক ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। শর্করা- শর্করা আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়। শর্করা জাতীয় খাদ্য বলতে আমরা ভাত,রুটি,আলুকে বুঝি। সারাদিনে মাকে ৩-৪ কাপ ভাত খেতে হবে। কর্মজীবী মায়ের সারাদিনে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়,তাই কর্মজীবী মায়ের ক্ষেত্রে দিনে ৪-৫ কাপ ভাত খাওয়া দরকার। ভাতের সাথে সাথে রুটি আর আলুও খাওয়া যায় ।

আমিষ-
আমিষ গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মাকে দৈনিক ৬০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহন করতে হয়। রোজ ২-৩ টুকরা মাছ, ৩-৪ টুকরা মাংস ও কমপক্ষে একটি ডিম খেতে হবে, এছাড়া নিয়ম করে রোজ গরুর দুধ পান করতে হবে।

ভিটামিন সি-
ভিটামিন সি শরীরের চর্ম রোগ প্রতিরোধ করে। মাকে দৈনিক ৭০ গ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। রোজ কমপক্ষে একটি ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে হবে। কমলা,লেবু,পেয়ারা,ব্রকলি ও টমেটো থেকে অনেক ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আয়রন-গর্ভবতী মায়ের জন্য আয়রন খুবই দরকার। গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আয়রন এর ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া আয়রন শরীরের রক্ত বাড়াতেও সাহায্য করে। মাকে রোজ ২৭ গ্রাম আয়রন জাতীয় খাদ্য গ্রহন করতে হবে। ডিমের কুসুম,ডাল,কলিজা, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ থেকে মায়ের আয়রনের চাহিদা পূরণ হবে।

ফলিক এসিড-
গর্ভবতী মায়ের শরীরে দৈনিক ০.৪ গ্রাম ফলিক এসিড দরকার। ফলিক এসিড নিউরল টিউবের কোষ অসংগতি থাকলে তা দূর করে। লেটুস পাতা,পালং শাক,কমলা ফলিক এসিডের উদাহরন। ফ্যাট- গর্ভবতী হবার পর যথেষ্ট পরিমানে ফ্যাট জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। ফ্যাট বেশি খেলে ওজন বাড়বে,এই কথা ভাবলে চলবে না। আপনি যা খাবেন তারই প্রভাব আপনার গর্ভের শিশুটির ওপর পরবে। ফ্যাট জাতীয় খাদ্য শিশুর মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে,তাই বেশি করে মাকে ফ্যাট জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। দুধ,ঘি,মাখন ফ্যাট এর চাহিদা পূরণ করবে।

পানি-
রোজ প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। পানি শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে,আর রক্তের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে পুষ্টি পৌছায়। এছাড়া পানি মূত্র থলির প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঘাম রোধ করে। পানির সাথে সাথে তরল জাতীয় খাদ্যও খাওয়া যেতে পারে। যেমন-বিভিন্ন রকমের সুপ,টাটকা ফলের রসও অনেক উপকারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *