Home / মনের জানালা / যদি স্বামী বা প্রিয়জন আপনাকে ঠকিয়ে থাকে তাহলে পড়ে নিন!

যদি স্বামী বা প্রিয়জন আপনাকে ঠকিয়ে থাকে তাহলে পড়ে নিন!

সম্পর্কে যিনি প্রতারিত হয়েছেন একমাত্র তিনিই জানেন তার যন্ত্রণা। প্রথমত ঘটনাটা বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তারপর ধীরে ধীরে রাগ জন্মায় প্রচণ্ড এবং আরো কিছুদিন পরে রাগের জায়গাটা নিয়ে নেয় অসম্ভব কষ্ট আর অপমানবোধ। একই সঙ্গে যদি সঙ্গী তাঁর ভুলটা স্বীকার করে নেন, ক্ষমা চান, তা হলে সম্ভবত আপনার মনের ভিতরে কোথাও ইচ্ছে করে তাঁকে ক্ষমা করে দিতে। এক্ষেত্রে তাকে কি ক্ষমা করে দেওয়া উচিত? সে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ নয়। কারণ আপনার পক্ষে একদিকে ব্যাপারটা ভুলে যাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি স্বামীর প্রতি আপনার ভালোবাসাও মিথ্যে নয়। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কষ্ট না পেয়ে বরং পরিস্থিতিটাই খতিয়ে দেখুন।

আপনার স্বামী কি অনুতপ্ত?
এটা আপনিই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবেন। প্রথমেই বুঝতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা আপনার কাছে স্পষ্ট হতে শুরু করবে। আপনি বুঝতে পারবেন আপনার স্বামী সত্যিই তাঁর কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত কিনা। উনি যদি বারবার ক্ষমা চান, তা হলে সেটা ইতিবাচক চিহ্ন। সময় নিন, নিজেই বুঝে যাবেন।

তাকে কি আর একটা সুযোগ দেওয়া উচিত?
একবারের পদস্খলন ছাড়া বাকি সময়টা আপনার প্রতি স্বামীর আচরণ কেমন, সেই ব্যাপারটা দেখুন। উনি কি আপনাকে সত্যিই ভালোবাসেন? আপনার প্রতি যদি উনি যত্নবান হন, তা হলে বৃহত্তর ছবিটার দিকে মনোযোগ দিন। মানুষ মাত্রেই ভুল হয়, এটাও তার একটা ভুল ছিল ভেবে বিষয়টা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
আরো পড়ুন:- যৌনতা ছাড়াও ভালোবাসায় ভরপুর সম্পর্ক

আপনি কি সম্পর্কটায় সুখী?
স্বামীকে আপনি ক্ষমা করবেন কি করবেন না, তা নির্ভর করে সম্পর্কটায় আপনারা দু’জনে কতটা সুখী তার উপর। যদি নেহাত অভ্যেসের বশে আপনারা সম্পর্কটা টিকিয়ে রেখে থাকেন, তা হলে কিন্তু নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

ঘটনাটা কি আপনি ভুলতে পারবেন?
প্রশ্নটা যেহেতু স্বামীর ভুল ক্ষমা করে দিয়ে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার, তাই এ ক্ষেত্রে নিজের মনটাকে খুব ভালো করে যাচাই করে নেওয়া দরকার। সত্যিই কি আপনি সমস্ত তিক্ততা, অপমানবোধ ঝেড়ে ফেলে স্বামীর সঙ্গে আবার আগের মতো ব্যবহার করতে পারবেন? ভবিষ্যতে যদি কখনও ঝগড়া হয়, সেদিন এই তেতো প্রসঙ্গ নতুন করে উঠে আসবে না তো? যদি নিজের মনে স্পষ্টভাবে এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান, তা হলেই ভুলে যাওয়া বা ক্ষমা করার প্রশ্ন আসে!

নতুন করে শুরু করার পালা
স্বামীকে ক্ষমা করে দিলেন, সম্পর্কটা টিকিয়েও রাখলেন। কিন্তু তারপর? আপনি যদি সারাক্ষণ স্বামীকে নিয়ে সন্দেহে ভুগতে থাকেন, তা হলে কিন্তু কোনও লাভই নেই! উনি অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে কথা বললেই আপনি যদি সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তা হলে ক্ষমা করা বা না করার ব্যাপারটা ভেবে দেখুন। আর যদি মনে হয়, পুরোনো তিক্ততা ভুলে নতুন আলোয় সব কিছু দেখতে পারবেন, তা হলে একবার ক্ষমা করেই দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *