Home / মা ও শিশুর যত্ন / বেশি বয়সে মা হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় অবশ্যই জানা জরুরি

বেশি বয়সে মা হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় অবশ্যই জানা জরুরি

অল্প বয়সে গর্ভধারণ করলে যেমন মায়ের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে, তেমনি অধিক বয়সে মা হলে মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। লিখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মা হওয়ার আদর্শ বয়স ২০-২২ বছর। ২৫ বছর পর্যন্ত বয়সকে মোটামুটি নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে ২৮ বছরের অধিক বয়সের গর্ভধারণকে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ এবং ৩৫ বছর বয়সের পরে যাঁরা মা হতে যাচ্ছেন, তাঁদের ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ মা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো
গর্ভধারণে সমস্যা : জন্মের সময় একটি মেয়েশিশু তার ডিম্বাশয়ে নির্দিষ্টসংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে পৃথিবীতে আসে। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে যখন নিয়মিত মাসিক হতে থাকে, তখন প্রতি মাসে একটি অর্থাৎ বছরে প্রায় ১২টি ডিম্বাণুর পরস্ফুিটন ঘটে। অর্থাৎ একজন নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা কমতে থাকে। শুধু তা-ই নয়, ডিম্বাণুর গুণগত মানও কমতে থাকে। নির্ধারিত সময়কাল শেষে ঋতুকালীন ফল বা সবজির যে অবস্থা হয়, ব্যপারটা ঠিক সে রকম। গর্ভধারণের জন্য সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত ডিম্বাণুর প্রয়োজন। একটি সুস্থ ডিম্বাণু স্বামীর শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়ে একটি সুস্থ মানবজীবনের সূচনা করে। অধিক বয়সে অর্থাৎ ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে একজন নারীর গর্ভধারণে বেশ সমস্যা হতে পারে। এ বয়সে ছয় মাস গর্ভধারণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়। গর্ভধারণের সমস্যা হওয়ার কারণে ওই দম্পতি হতাশায় ভুগতে থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যায়। তার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণের কারণে এমনিতেই মায়ের রক্তচাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান। তাঁদের উচিত হবে সঠিক মাত্রায় নিরাপদ ওষুধের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হওয়ার পরই গর্ভধারণ করা। গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ না হলে মা ও গর্ভস্থ বাচ্চার ওপর এর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে।

ডায়াবেটিস : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন নারীর ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। যাঁদের বংশে ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এ আশঙ্কা আরো বেশি। তা ছাড়া গর্ভাবস্থায় বিশেষ বিশেষ হরমোন রক্তের শর্করা বা সুগারের মাত্রা বাড়ায়। কাজেই আগে থেকেই যাঁদের ডায়াবেটিস আছে বা বংশে ডায়াবেটিস আছে তাঁরা তো বটেই, যেকোনো নারীর গর্ভকালে ডায়াবেটিস হতে পারে, যাকে আমরা Gestational Diabetes বলে থাকি। এ কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নির্ণয় বা নিয়ন্ত্রণ না হলে গর্ভপাত, গর্ভে সন্তানের মৃত্যু, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, জন্মের পর শিশুর শ্বাসকষ্ট, এমনকি মায়ের জীবন বিপন্নও হতে পারে।

একলাম্পশিয়া বা খিঁচুনি : গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মা ও বাচ্চার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। মায়ের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মায়ের খিঁচুনি হতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে সাধারণত এ সমস্যা দেখা দেয়। অধিক বয়সের মা, বিশেষত পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব মায়ের এবং খুব অল্প বয়সের মা অর্থাৎ ১৮ বছরের নিচের মায়েদের ক্ষেত্রে এ রকম পরিস্থিতি বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় একলাম্পশিয়া বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ।

আরো যেসব সমস্যা হতে পারে
১. অধিক বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা গর্ভ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বয়স অনুপাতে বাড়তে থাকে। ২. বাড়তে থাকে সময়ের আগে অপরিপক্ব শিশুর জন্ম। ৩. কম ওজন নিয়ে শিশুর জন্ম, জমজ শিশু, মৃত শিশুর জন্মের হার অধিক বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

সিজারিয়ানের প্রয়োজন পড়ে বেশি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন নারীর তলপেটের হাড়ের খাঁচার সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা কমে, যা স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা ছাড়া দেরিতে বা চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান গর্ভে আসা, গর্ভাবস্থায় অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ইত্যাদি কারণেও অধিক বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা দেয়।

জন্মগত বা জিনগত ত্রুটিযুক্ত শিশু জন্মের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় : শুধু গঠনগত ত্রুটিই নয়, মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেনেটিক বা জিনগত ত্রুটিযুক্ত বাচ্চার জন্মদানের আশঙ্কাও বাড়ে। ডাউন শিশু বা ডাউন সিনড্রোম এক ধরনের জেনেটিক ত্রুটিযুক্ত শিশু, যাদের বিভিন্ন শারীরিক ও মানবিক সমস্যা থাকে। ২০ বছর বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে প্রতি ১৫০০ জনে একটি ডাউন শিশুর জন্ম হতে পারে, অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে প্রতি ৩৫০ জনে একটি, ৪০ বছর বয়সের মায়েদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ জনে একটি ডাউন শিশুর জন্ম হয়। তা ছাড়া অধিক বয়সের মায়ের সঙ্গে বাচ্চার অটিজম সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে।

গর্ভকালীন বয়সের প্রভাব : বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত যে অধিক বয়সের মায়েদের সন্তানের গড় আয়ু অপেক্ষাকৃত কম বয়সের মায়েদের সন্তানের চেয়ে কম। শুধু তা-ই নয়, অধিক বয়সের মায়ের সন্তানদের কম বয়সেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এসব প্রতিক্রিয়াকে মায়ের ডিম্বাণুর গুণগত মানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।

করণীয়
প্রাক-গর্ভকালে : অধিক বয়সে যাঁরা মা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের উচিত হবে প্রথমেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা। শরীরে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে কি না তা জানা দরকার। অন্য কোনো রোগের জন্য ওষুধ সেবন করলে সেটি বন্ধ করা উচিত কি না বা গর্ভকালে নিরাপদ ওষুধে পরিবর্তন করা প্রয়োজন আছে কি না, তা জেনে নেওয়া। সুষম খাবার গ্রহণ, অধিক ওজন থাকলে কমিয়ে ফেলা, ধূমপান, জর্দা, গুল ইত্যাদি নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করা জরুরি। সন্তান ধারণের কমপক্ষে চার মাস আগে থেকেই ফলিক এসিডজাতীয় ভিটামিন গ্রহণ, যা শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের গঠন নিশ্চিত করে। এ সময় ভেজাল খাদ্য যতটা সম্ভব পরিহার, দূষিত পরিবেশ, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা এড়িয়ে চলা উচিত। মানবিক বা শারীরিকভাবে সুস্থতা নিশ্চিত হওয়ার পরই একজন নারীর গর্ভধারণ করা উচিত।

গর্ভকালে : অন্য মায়েদের তুলনায় অধিক বয়সের মায়েদের ঘন ঘন চিকিৎসকের চেকআপের প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসক অধিক বয়সের মায়েদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং গভীর পর্যবেক্ষণে রাখেন। সময়মতো রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা, থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয়, শিশুর গঠনগত ত্রুটি হচ্ছে কি না, শিশুর ওজন বাড়ছে কি না, তা নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশুর জন্মের সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরীক্ষা এখন দেশেই সম্ভব।

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা : প্রসব-পরবর্তী সময়ে অধিক বয়সের মায়েরা এক ধরনের বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন। দীর্ঘ বয়সে সন্তান কোলে চাকরি, সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, বয়সের ভার ইত্যাদি ক্ষেত্রে জীবনের হঠাৎ ছন্দপতন এ সমস্যার কারণ হতে পারে। বিষয়টি পরিবারের সবাইকে খেয়াল রাখতে হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাময়িক এ সমস্যার সমাধান করা যায়। পরিকল্পিত গর্ভধারণ, নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় ও ব্যবস্থা গ্রহণ সর্বোপরি একটি সুন্দর প্রসব পরিকল্পনা অধিক বয়সের মাদের সুস্থতা ও সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুর জন্ম নিশ্চিত করতে পারে।

কেন বয়স বাড়লে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়

বর্তমানে অনেকে দম্পতিই ক্যারিয়ার এবং জীবনের অন্যান্য দিক গুছিয়ে নেবার উদ্দেশ্যে সন্তান নিতে অনেক দেরি করছেন। কিন্তু বেশি দেরি করে ফেললে আবার বয়সের কারণে সন্তান ধারণক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পায়। যেসব কারনে অনেক দম্পতিই দেরীতে সন্তান নিতে চান:

১. দেরীতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২. অনেকে দম্পতি খুব ক্যারিয়ার সচেতন। ৩. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ৪. আর্থিক অসংগতি, ইত্যাদি। কিন্তু দেরিতে সন্তান নিতে গেলে ডিম্বাণুর কার্যকারিতা নষ্টসহ বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। ফলে সন্তান ধারনে সমস্যা দেখা দেয়।অনেক সময় সন্তান গর্ভে ধারণ করলেও নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সন্তান গর্ভধারনের উপযুক্ত বয়সঃ
সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স নারীর সন্তান ধারণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ, এর পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে থাকে এবং গর্ভকালীন নানা রকম জটিলতার হারও বেড়ে যায়। মেয়েদের বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই অন্তত প্রথম সন্তান ধারণ করা মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই নিরাপদ, তবে কোনোভাবেই বিশের আগে নয়।

বয়স বাড়লে যেসব কারনে গর্ভধারণের সমস্যা দেখা দেয়:

১. একটি মেয়ে জন্মের সময়ই কিছুসংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিঃশেষ হতে থাকে। ৩০ বছরের পর থেকেই ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান কমতে থাকে। এতে এ সময় গর্ভধারণ করার চেষ্টার পরও দিনের পর দিন ব্যর্থ হতে পারে।

২. একজন পূর্ণাঙ্গ রমণীর ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বাণু নির্গত হয়। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রজনন বয়স ধরা হলেও ৩৫ বছরের পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে।বয়স্ক মহিলাদের ওভুলেশনের (ডিম্বস্ফোটন) সমস্যা হয়।কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে কার্যকরী ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে যায়।

৩. বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিপক্ক ডিম্বানুর সংখ্যা কমে যায়।ফলে শুক্রানুর সাতে নিষিক্ত হওয়ার জন্য যে পরিপক্ক ডিম্বানুর প্রয়োজন তা অনেকাংশে পাওয়া সম্ভব হয় না।

৪. বয়স্ক মহিলাদের মহিলাদের সার্ভিক্যাল মিউকাসে সমস্যা দেখা দেয়।বয়স বাড়লে জরায়ু মুখে যে সারভাইকেল ফ্লুইড থাকে তার এসিডের মাত্রা বা পি.এইচ লেভেল কমতে থাকে। ৫. অনেকের ক্ষেত্রে ৪০এর আগেই মেনোপজ অর্থাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। ওভুলেটিং বন্ধ হয়ে যায় ৪০ বছর বয়সে।

৬. পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যায় বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম্বের পরিমাণ কমে যায়, ওভুলেশন অনিয়মিত হয়ে যায়। ৭. বয়সের কারনে নানারকম শারীরিক সমস্যা হতে পারে যার কারণে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।যেমনঃ ফেলোপিয়ান টিউব ব্লক হতে পারে নানা ইনফেকশনের কারণে।

৮. বয়সের কারনে অনেক মহিলারই ওজন বৃদ্ধি পায়। শারীরিক স্থুলতাও গর্ভধারনে বাধা সৃষ্টি করে। ৯. বয়সের কারনে মহিলাদের নানারকম স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ,জরায়ুর সমস্যা, ইত্যাদি দেখা যা নারীর উর্বরতা শক্তি কমিয়ে দেয়।

১০. বয়সের কারনে মহিলাদের ডিম্ব কোষের ক্রোমোজোনালে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় যা উর্বরতা শক্তি হ্রাস করে বা কমিয়ে দেয়। অনেক সময় এ সমস্যার কারণে অনেক বয়স্ক মহিলাদের বিকলাঙ্গ সন্তান জন্ম নেয়।

১১. বেশি বয়সে সন্তান গর্ভে ধারণ করলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন উচ্চ-রক্তচাপ, হরমোনগত সমস্যা কিংবা বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

পরিশিষ্ট:
আপনি কি নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিয়ে তারপর সন্তান নেয়ার কথা ভাবছেন? বেশি বয়সে সন্তান নেয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে আপনি কি অবগত? শুধু ক্যারিয়ার নিয়ে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা মোটেই শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। অন্যদিকে ৩০ বছর বয়সের পরে নারীদের জন্য যেমন সন্তান নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় ঠিক তেমনি ৪৫ বছর পরে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে বলে তাদের জন্যও তা ঝুঁকিপূর্ণ।

মা হওয়ার বয়স কত?
বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধব। এই বন্ধনের মাধ্যমে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারা জীবন একসঙ্গে চলার পণ। দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক এবং প্রণয়ের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। বিয়ের বন্ধনকে আরও শক্ত করতেই বিয়ের পরে আসে গর্ভে সন্তানধারণের প্রশ্ন। বংশ রক্ষা, স্বামী ও পরিবারের বয়োজষ্ঠ্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী বেশিরভাগ নারী গর্ভধারণ করে থাকেন। নিজের অজান্তেই মা হন অনেক নারী। কিন্তু জানেন না মা হওয়ার নির্দিষ্ট বয়স কত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু গর্ভধারণের একটি নির্দিষ্ট বয়স আছে। নির্দিষ্ট বয়সের আগে মা হলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন নারীরা।

বয়স বাড়ার সঙ্গে কেন গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে –

একটি মেয়ে জন্মের সময়ই কিছুসংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিঃশেষ হতে থাকে। ৩০ বছরের পর থেকেই ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান কমতে থাকে। এ সময় গর্ভধারণ করার চেষ্টার পরও দিনের পর দিন ব্যর্থ হতে পারে। বয়সের কারণে ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক স্থূলতাও গর্ভধারণে বাধার সৃষ্টি করে। বেশি বয়সে সন্তান গর্ভে ধারণ করলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন উচ্চ-রক্তচাপ, হরমোনগত সমস্যা কিংবা বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন কারণে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম থাকে।

নারীদের গর্ভধারণ ও মা হওয়ার বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় আলাপ করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি কনসালটেন্ট বেদৌরা শারমিন।

বেদৌরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, নারীদের গর্ভধারণের একটি নির্দিষ্ট বয়স আছে। বাংলাদেশে নারীদের জন্য মা হওয়ার জন্য উপযুক্ত বয়স হচ্ছে ২০ থেকে ২৪ বছর। তবে ৩০ বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ করতে পারে। কিন্তু ৩০ বছরের উপরের বয়সের নারীদের গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এছাড়া ৩৫ বছরের পরে মারাত্মক ঝুঁকির শংকা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, প্রতিটি জন্মই হোক নিরাপদ। গর্ভধারণের আগে প্রত্যেক নারীকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ একটি সুস্থ ও সুন্দর শিশু জন্মদানে সহায়তা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *