Home / অন্যান্য / আপু, আমার বাবার চাইতে জঘন্য মানুষ আমি আর দেখিনি… পড়ুন বিস্তারিত

আপু, আমার বাবার চাইতে জঘন্য মানুষ আমি আর দেখিনি… পড়ুন বিস্তারিত

আপু, অনেক দিন ধরেই ভাবছি আপনাকে লিখবো। কিছু ব্যাপার এতটাই অসহনীয় হয়ে পড়েছে যে, কাউকে বলতে পারছি না আবার সহ্যও করতে পারছি না। আমরা ২ বোন, আমি বড়। ২০১১ সালে আর্কিটেকচারে ডিপ্লোমা করেছি। বর্তমানে একটি বেসরকারী ইউনিভার্সিটিতে আর্কিটেকচারেই পড়ছি। ছোট বোনও বেসরকারী ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছে। আমার চাকুরিজীবি, মা গৃহিণী।

আমার দেখা সবচেয়ে জঘন্য মানুষদের মধ্যে আমার একজন। যে কেউ শুনলে আমাকে ভীষণ খারাপ ভাববে, আমি কেমন সন্তান যে কিনা নিজের বাবাকে জঘন্য বলে!আমার বাবার স্বভাবের বর্ণনা দিলে হয়ত বিষয়টা বুঝা যাবে। আমার বাবার বেতন কত সেটা আমাদের পরিবারের কেউই জানেনা। তবে সেটার সংখ্যাটা বিশাল। উনি স্বভাবে ভীষন কৃপণ আর বদ মেজাজী, আত্মসম্মানবোধহীন মানুষ। আমরা দুই বোন কোন দিন কোন কিছু বাবার সাথে শেয়ার করতে পারিনি, তিল কে তাল বানানো উনার স্বভাব। আমি স্কুলে কবে কোন পরীক্ষায় শুন্য পেয়েছি- এটা পর্যন্ত বাবার অফিসের সবাই জানে।

আর আমার ফুফু-চাচাদের পরিবারের সবাই তো জানেনই। আমাদের সংসারের এমন কোন কথা নেই যা চাচা-ফুফু রা জানেন না। ‘ভিক্ষা করেও ভাত পাবনা’ এই কথা শুনে প্রতিদিন আমাদের ঘুম ভাঙ্গত। আমরা কোনদিন উনাকে কামাই করে খাওয়াব না এই কথাও প্রায়ই বলেন। কখনো কোন ছেলে বিরক্ত করলেও আমরাই উলটা কথা শুনেছি। মার সাথেও বাবার সম্পর্ক খুব খারাপ। সংসারের যাবতীয় সিদ্ধান্ত একাই নেন। কখনই মায়ের সাথে পরামর্শ করেন না। যাবতীয় পরামর্শ ফুপু আর অফিসের কলিগদের সাথে করেন। আর ফুপুও যথেষ্ট সুযোগ-সন্ধানী মহিলা।

বাবা আমার মায়ের পরিবারের কাউকে সহ্যই করতে পারেন না। কোথাও মামা-খালাদের সাথে দেখা হলেই মায়ের বদনাম শুরু করেন। মায়ের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ করেন যার সবটাই থাকে ভিত্তিহীন। পান থেকে চুন খসলেই মাকে সহ আমাদের সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। আমার ধারণা, মায়ের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে উনি মজা পান। উনি চান , সবার কাছে মহান আর ভালমানুষ সেজে থাকতে। বাবার সম্পর্কে এই কথা গুলো বাইরের কেউই বিশ্বাস করবে না। কারণ , সবার চোখে উনি খুবই সহজ-সরল একজন মানুষ।

আমি বাবার বাসায় থাকি। সাড়ে তিন মাসের একটা ছেলে আছে আমার। বাবার বাসা থেকে আমার বাসা খুব দূর না। আমার স্বামী ওই বাসায় থাকেন, মাঝে মাঝে এখানে আসেন। ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্য ছোট একটা মেয়ে এনেছি কিছুদিন আগে। ৮/৯ বছরের ঐ মেয়েটাকে বাবা নানা বাহানায় বাসার নিচে পাঠাতে চান, অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বলেন। আমি নিষেধ করলে , ঐটুকু মেয়েকে উনি অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করেন। বাবা কি কখনো দুই সন্তানকে দুই চোখে দেখতে পারে আপু? বাবা আমার ছোট বোনকে বলতে গেলে সহ্যই করতে পারেন না। উনার সব রকমের অন্ধ স্নেহ আমার প্রতি!

যদিও এটা আগে ছিল না , আমার বিয়ের পর হয়েছে। আমি যখন যা চাই উনি দিতে দ্বিধা বোধ করেন না, এমনকি না চাইলেও জোর করে দেন, কিন্তু মা আর বোনের প্রয়োজনের জিনিস টুকুও দিতে চান না। আমি টাকা চাইলে কারণ জিজ্ঞেস না করেই দিয়ে দেন কিন্তু আমার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা খরচটুকু দিতে অস্বীকার করেন। এই ব্যাপারগুলো আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। বাবার প্রতি ঘৃণা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এবার আমার স্বামীর কথা বলি। আমার হয় ২০১২ তে। এটা আমার দ্বিতীয় । ২০১১ তে কিছুদিন একটা ফার্মে জব করেছিলাম। সেখানেই এক কলিগকে হুট করে করে ফেলি। তার তখন অন্য একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। ওদের ৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। আমি যে তার প্রতি খুব আগ্রহী ছিলাম তা না। তবে সে প্রথম থেকেই আমার প্রতি খুব আগ্রহী ছিল। নানা পাগলামী করত আমার জন্য। আমি যে বাধা দেইনি তা না। তবে সে ওই বিয়ে ভেংগে ফেলুক এটাও চাই নি।

সে তার বাবা- মায়ের কাছে আমার নামে মিথ্যা বলেছিল। আদতে তার সাথে কোন প্রকার রিলেশন আমার ছিল না। অথচ সবাইকে বলেছিল, আমাদের নাকি এফেয়ার চলছে। আমি যখন এই কথা তার বাবাকে জানাতে চাইছিলাম, সে তখন আমার হাত জোড় করে বলেছিল, বাবার কাছে যেন তাকে ছোট না করি! ভেবেছিলাম, আমি তাকে ভাল না বাসলেও সে যখন আমাকে এত চায় তাহলে নিশ্চয়ই আমি তার সাথে ভাল থাকব। কিন্তু ব্যাপারটা যত সহজ ভেবেছিলাম ততটা না। সে তার ফ্যামিলি নিয়েও আমার কাছে মিথ্যা বলেছিল।
তার পড়াশোনা-ফ্যামিলি স্ট্যাটাস-আর্থিক অবস্থা সবই আমাদের থেকে অনেক খারাপ। এসব আরো পরে জানতে পারি। বিয়ের প্রায় ৫ মাস পর আমি আমার বাসায় বিয়ের কথা জানাই, সবাই আমার এই আচরণে খুব কষ্ট পায়। বিশেষ করে আমার মা। উনি মানতেই পারছিলেন না , আমি এমন একটা কাজ করতে পারি। মা আমাকে বারবার বুঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যে, ও আমাকে marry করেছে আমার বাবার টাকার জন্য। আর ডিভোর্সের জন্য খুব চাপ দিচ্ছিলেন । এটা জানানোর পর সে তার বাবাসহ অফিসের ২ বস আসেন আমাদের বাসায় বিষয়টা মিটামাট করার জন্য।

আমার বাবা বিয়েটা মেনে নিলেও মা মেনে নেননি। মা ঐ সময় ওদের সাথে কোন কথা বলতেও রাজি হননি। আর ও ওইদিন বাবার কাছে আমার নামে খুব নোংরা কিছু কথা বলে। তারপরও আমি তার সাথে পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করছিলাম, কিন্তু মা এসব আগেই টের পেয়ে আমাকে এক খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এর কিছু দিন পরে একটা বিয়ের প্রপোজাল আসে, মায়ের চাপে পড়ে ছেলেপক্ষের সাথে দেখাও করি। তখনো আমার ডিভোর্স হয় নি।

ঐ ছেলে আমাকে দেখে খুব পছন্দ করে ফেলে আর দেখার পরদিন যে আন্টি আমার জন্য এই প্রপোজাল এনেছিলেন উনাকে খুব ভোরে ফোন দিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানতে চায়। আমি তখনো ডিভোর্সের ব্যাপারে শিউর ছিলাম না। একটা সময় মেনে নিই যে, ফ্যামিলি ছাড়া সম্ভব না আর শুধু রোমান্স দিয়ে জীবন চলে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *