Home / অন্যান্য / অসুস্থ্য হলেও সে জোর করে করত বাধা দিলে মারধর করত! পড়ুন বিস্তারিত…

অসুস্থ্য হলেও সে জোর করে করত বাধা দিলে মারধর করত! পড়ুন বিস্তারিত…

জানু নামের একজন জানিয়েছেন “আমার যখন বয়স ১৪/১৫ তখন বাবা-মা আমাকে আমার ফুফাত ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেন। তবে এই বিয়েতে শর্ত থাকে আমি বড় হওয়ার পর আমরা একসাথে থাকবো। আমার স্বামী আমার থেকে ১৮ বছরের বড় ছিল। বিয়ের কিছুদিন পর সে আর এগুলো মানতে চায়না। তারপর সে আমাদের বাসায় আসত এবং একসাথেই থাকতাম।

এভাবে কাটতে থাকে বেশ কয়েক মাস। এরপর আমি অল্প বয়সে মা হয়ে যাওয়ার কারনে পড়াশোনাটাও হয়নি। আমার বাচ্চা এবং ঘর সামলাতে আমার SSC পরীক্ষাটা দিতে পারিনি। অনেকদিন এই ভাবে কেটে গেল। কিছুদিন পর যখন আমরা একসাথে থাকা শুরু করলাম তখন তার কিছু খারাপ অভ্যাস আমার চোখে ধরা পরে। তার সেই অভ্যাসটা ছিল অন্য মেয়েদের প্রতি দুর্বলতা। তবে একটা কথা বলে নিই, সেটা হলো সেক্সুয়াল ব্যাপারে খুব আগ্রহী সে। আমি যদি অসুস্থ হয় তবুও সে জোর করতো। নিষেধ করলে এমন কি গায়েও হাত তুলতো সে!

কিছুদিন আগে আমি একটা মেয়ের সাথে তার ফেসবুকে বেশ গভীর সম্পর্কের কথা জেনে ফেলি। ওদের দু জনের বিয়ে করার কথাও ছিল। সেসব কথা তাকে বলার পর সে জানায়, এগুলো মিথ্যে। সে বলে, সে আমাকে নাকি অনেক ভালবাসে। সে একটি জব করে। সেখানে তার খুব বাজে চ্যাটিং ছিল। সে যে এমনটা করতে পারে সেটা না দেখে কেউ বিশ্বাস করবেনা। খুব ভদ্র স্বভাব আর ভাল ব্যবহার যেটা ছিল তার মুখোশ।

আমি তাকে এখন আর একদম বিশ্বাস করিনা। কী করবো কিছু বুঝিনা আমি? আমার এখন ২টি সন্তান। নিজে কিছু করিনা। আর বাবা মায়ের কাছে কি বলবো, ছেলেদের মানুষ করবো কীভাবে? আর বাবা-মা তো গ্রামে থাকেন। আমিও আর পারছিনা। প্রতিদিন এই খারাপ লোকটার সাথে দিন কাটাতে। খুব বিশ্বাস করতাম আর ভালোবাসতাম তাকে। আমাকে একটু ভালোভাবে বাঁচার একটি উপায় বলে দিন তার সাথে একই বিছানায় ঘুমাতে ঘৃনা লাগে আমার। বর্তমানে আমার বয়স ২৭ বছর। কীভাবে কাটবে বাঁকি জীবনটা? প্লিজ কিছু উপায় বলুন।

পরামর্শ:
সত্যি বলতে কি আপনার পরিস্থিতি আসলেই অত্যন্ত জটিল। নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই আর স্বামীর বাড়িতে আপনি থাকতে পারছেন না। এদিকে দুটো সন্তানের ভবিষ্যতের দিকটার কথাও ভাবতে হবে। সব মিলিয়ে আসলে মানিয়ে নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। কথাটা বলতে আমারও অনেক খারাপ লাগছে। এই কারণে বলছি যে , মানুষের জীবন কখনো এক রকম থাকে না, বদলে যায়। তবে আপনার ভালোবাসা প্রতারিত হয়েছে বলে খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনার এই কষ্ট আস্তে আস্তে কমে আসবে। কোন কষ্টের তীব্রতাই বেশিদিন থাকে না। তাকে ভালোবাসার মানুষ হিসাবে না হোক সন্তানদের পিতা হিসাবে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। সংসারের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে হ্যাঁ নিজেকে নিজের মত গুটিয়ে নিন।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই তাতে কি। অবশ্যই এমন কিছু আছে যেটা আপনি ভালো পারেন। যেমন হতে পারে সেলাই অথবা রান্না? বা অন্য কোন হাতের কাজ? না পারলে এগুলো শিখতে পারেন এবং ঘরে বসেই অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন উপায় বের করুন। চাইলে অনলাইনে কোন ব্যবসাও শুরু করতে পারবেন আপনি। মানুষ মন থেকে চাইলে সবকিছুই করতে পারে। আর যখন দেখবেন যে একটা কাজ নিয়ে আপনি ব্যস্ত আছেন এবং অর্থ উপার্জন করছেন, তখন আপনার খারাপ লাগা অনেকটা কমে যেতে শুরু করবে। আর যদি স্বামীর সাথে আপনি মানিয়ে নিতে নাই-ই পারেন, তখন ডিভোর্স দিতেও অসুবিধা থাকবে না আপনার। আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে আপনাকে। কারণ কেবল আর্থিক কারণে জোর করে কারো সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাটা আমি সমর্থন করি না।

তবে স্বামীর সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন কোনভাবে করা যায় কিনা, সেই চেষ্টাও করতে পারেন। তিনি আপনার স্বামী তাঁকে আপনিই ভালো চেনেন। একটু শাসনে যদি সংশোধন সম্ভব হয় তাহলে সব ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করুন। আর যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে নিজের মাঝেই নিজের দুনিয়া খুঁজে নিতে হবে আপনাকে। সেটাই একমাত্র উপায় আপনার জন্য। পৃথিবীতে কেউ কারো আপন নয়, নিজের ভরসা কেবল নিজেই। এটা মনে রেখেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *