Home / স্বাস্থ্য-সেবা / পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব হলে যা করবেন!

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব হলে যা করবেন!

যৌবনের সূচনায় পিটুইটারি গ্রন্থির কার‌সাজিতে মাসে একবার করে একটি ডিম্বকোষ ওভারি থেকে বেরিয়ে টিউব বেয়ে চলে যায় জরায়ুতে। সেই ডিম্বকোষটি বেরিয়ে যাওয়ার পরে ওভারিতে সৃষ্টি হয় একটি হলুদ রঙের কোষগ্রন্থি। এই হলুদ গ্রন্থি থেকে প্রজেস্টেরন নামে আর একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। ক্রমে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন-এর যুক্ত প্রক্রিয়ায় জরায়ু ও তার আভ্যন্তরীণ শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির বৃদ্ধি ও বিবর্তন হয়। এই সব ঝিল্লিকোষ রক্ত ও শ্লেষ্মার সঙ্গে জরায়ু থেকে বের হয়। যৌবনদ্গোমের পর থেকে ঋতুবন্ধ পর্যন্ত জরায়ু থেকে বের হওয়া রক্ত শ্লেষ্মা ও ঝিল্লিকোষের এই নিঃস্বরণই ঋতুস্রাব।

অর্থাৎ, হরমোনের প্রভাবেই দেহের ও জরায়ুর বিবর্তন হয় এবং ঋতুক্ষরণ শুরু হয়। আর একটা বিষয় মনে রাখা উচিত যে, মানব শরীরে যে কোনও গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের কাজ করার ক্ষমতার পিছনে মন ও ‌মস্তিষ্কের অনেক প্রভাব রয়েছে। তাই শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সাংসারিক গোলযোগ, মা-বাবার খারাপ সম্পর্ক, দারিদ্র ইত্যাদিও ডিম্বাশয়ের কাজ ব্যাহত করতে পারে।

তা থেকে অতিরিক্ত রক্তস্রাব হতে পারে। আর এর থেকেই আসে মারাত্মক বিপদ। কিশোরী শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যা থেকে যে কোনও মারাত্মক অসুখ হয়ে যেতে পারে এবং হয়ও। এই সব অসুখ থেকে রক্তের জমাট বাধার ক্ষমতাও কমে যায়। তাতে রক্তস্রাব আরও বাড়ে। বিপদও বাড়ে।

বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ চিকিৎসক অরুণকুমার মিত্রর মতে, এই সব ক্ষেত্রে সাধারণ স্বাস্থ্যের উন্নতি ও রক্তবৃদ্ধির দিকেই বেশ জোর দেওয়া উচিত। প্রয়োজন, আয়রন, ভিটামিন, প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়ানো উচিত। খুব দরকার পড়লে রক্তও দিতে হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই অসুখ সারাতে নানা টোটকা ব্যবহার করা হয়। যা সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়িয়ে দেয়। বেশি বয়সে এই সমস্যা হলে হরমোন চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু কিশোরীদের ক্ষেত্রে সেটা না করাই উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *